বেকারী ও কনফেকশনারী শিল্পের নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬

বাংলাদেশের বেকারী, বিস্কুট ও কনফেকশনারী শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য সরকার নতুন নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ করেছে । আপনি যদি এই সেক্টরে স্বয়ংক্রিয় (Automatic), আধা-স্বয়ংক্রিয় (Semi-automatic) বা হস্তচালিত (Manual) কারখানায় কাজ করেন, তবে ২০২৬ সালের নতুন গেজেট অনুযায়ী আপনার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা থাকা জরুরি

এক নজরে বেকারী ও কনফেকশনারী শিল্পের নতুন বেতন কাঠামো

বেকারী শিল্পের নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী একজন সাধারণ অদক্ষ শ্রমিকের (হেলপার) সর্বনিম্ন মোট মজুরি কারখানার ধরন ও এলাকাভেদে ১৩,০০০ টাকা থেকে ১৪,১০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে । এছাড়া প্রতি বছর মূল মজুরির উপর ৫% হারে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট নিশ্চিত করা হয়েছে

কারখানার ধরন ও এলাকাভেদে মজুরির তালিকা

নতুন প্রজ্ঞাপনে কারখানাকে তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে । এলাকাভেদে বাড়ি ভাড়া ভাতার তারতম্য থাকায় বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের বেতনে পার্থক্য রয়েছে

১. স্বয়ংক্রিয় (Automatic) বেকারী ও বিস্কুট কারখানা

এই ক্যাটাগরিতে শ্রমিকদের ৫টি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে

গ্রেড ও পদের নামএলাকামোট মাসিক মজুরি (টাকা)
গ্রেড-১: মেশিনম্যান, ওভেনম্যান বিভাগীয় শহর ও সিটি কর্পোরেশন ২৩,৯১০/-
গ্রেড-১: ইলেকট্রিশিয়ান, বয়লার এটেনডেন্ট জেলা শহর ও অন্যান্য এলাকা ২২,৪৩৬/-
গ্রেড-৩: মিস্ত্রী হেলপার, মেশিন হেলপার বিভাগীয় শহর ও সিটি কর্পোরেশন ১৫,০০০/-
গ্রেড-৫: সাধারণ হেলপার বিভাগীয় শহর ও সিটি কর্পোরেশন ১৪,১০০/-
গ্রেড-৫: সাধারণ হেলপার জেলা শহর ও অন্যান্য এলাকা ১৩,২৮০/-

২. আধা-স্বয়ংক্রিয় (Semi-automatic) ও হস্তচালিত (Manual) কারখানা

হস্তচালিত বা ম্যানুয়াল কারখানায় গ্রেড অনুযায়ী মজুরি কিছুটা ভিন্ন

  • হস্তচালিত গ্রেড-১ (হেড মিস্ত্রী): বিভাগীয় শহরে ১৯,৯৫০ টাকা এবং জেলা শহরে ১৮,৭৪০ টাকা ।
  • হস্তচালিত গ্রেড-৬ (হেলপার): বিভাগীয় শহরে ১৩,৮০০ টাকা এবং জেলা শহরে ১৩,০০০ টাকা ।

মজুরির উপাদান ও অতিরিক্ত ভাতাসমূহ

আপনার মোট মাসিক মজুরি কয়েকটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়:

  • বাড়ি ভাড়া ভাতা: বিভাগীয় শহর ও সিটি কর্পোরেশনে মূল মজুরির ৫০% এবং জেলা ও অন্যান্য এলাকায় ৪০% । তবে মালিক আবাসন সুবিধা দিলে এটি প্রযোজ্য হবে না ।
  • চিকিৎসা ভাতা: সকল শ্রমিক ও কর্মচারীর জন্য মাসিক ১,০০০ টাকা
  • যাতায়াত ভাতা: মাসিক ৮০০ টাকা
  • বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট: ১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর মূল মজুরির ৫% হারে ক্রমবর্ধমান ভিত্তিতে বেতন বাড়বে ।

শিক্ষানবিসকাল ও বেতন

নতুন কাজে যোগ দেওয়া শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে:

  • শিক্ষানবিসকাল: সাধারণত ৩ মাস, তবে প্রয়োজনে আরও ৩ মাস বাড়ানো যেতে পারে ।
  • ভাতা: শিক্ষানবিসকালে শ্রমিক ও কর্মচারী উভয়ই মাসিক সর্বসাকুল্যে ১০,০০০ টাকা মজুরি পাবেন ।
  • মেয়াদ শেষে তারা সংশ্লিষ্ট গ্রেডের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে গণ্য হবেন ।

জরুরি শর্তাবলি যা আপনার জানা প্রয়োজন

  1. বৈষম্যহীনতা: নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের শ্রমিকদের মধ্যে মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা যাবে না ।
  2. বেতন সুরক্ষা: বর্তমান বেতন যদি নতুন নূন্যতম মজুরি অপেক্ষা বেশি হয়, তবে মালিক তা কোনোভাবেই কমাতে পারবেন না ।
  3. ঠিকাদারী শ্রমিক: যারা ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেন, তারাও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী এই মজুরি পাওয়ার অধিকারী ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হয়েছে? এটি ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং তখন থেকেই কার্যকর

২. একজন হেলপারের সর্বনিম্ন বেতন কত? কারখানার ধরন অনুযায়ী বিভাগীয় শহরে হেলপারের বেতন ১৩,৮০০ থেকে ১৪,১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে

৩. বাড়ি ভাড়া ভাতা এলাকায়ভেদে কেন ভিন্ন? বিভাগীয় শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় সেখানে মূল বেতনের ৫০% এবং অন্যান্য এলাকায় ৪০% বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে

শেষকথা

বেকারী ও বিস্কুট শিল্পের এই নতুন মজুরি কাঠামো শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক। প্রতিটি শ্রমিকের উচিত তাদের গ্রেড অনুযায়ী সঠিক মজুরি বুঝে নেওয়া এবং কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া।

সোর্স: শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রনালয় ।

Leave a Comment