বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা (TA) এবং বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা বিল পাসের জন্য এখন থেকে আর কোনো প্রিন্ট বা হার্ড কপি হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে হবে না। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে আগের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অনলাইনে বিল দাখিল করলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে, প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করার প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর এবং পেপারলেস অফিস গড়ার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজে বিভিন্ন সময় ভ্রমণ করতে হয় এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য দৈনিক ভাতা বা ভ্রমণ ভাতা (TA/DA) উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘকাল ধরে কিছুটা সময়সাপেক্ষ ছিল।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ (প্রবিধি-৩ শাখা) থেকে জারি করা নতুন নির্দেশনার ফলে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চলুন, ধাপে ধাপে জেনে নিই এই নতুন নির্দেশনার ফলে কী কী পরিবর্তন হলো এবং এর সুবিধা কী।
TA/DA) বিলে হার্ড কপির বাধ্যবাধকতা বাতিল হলো
সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ছিল অনলাইনে সাবমিট করার পরও পুনরায় তার প্রিন্ট কপি নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে দৌড়াদৌড়ি করা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপনে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে।
বাতিলকৃত নিয়মটি কী ছিল?
গত ০১ মার্চ ২০২৩ তারিখে অর্থ বিভাগ থেকে একটি নির্দেশনা (স্মারক নং-২৫) জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনার ৩ নং সিদ্ধান্তে বলা ছিল:
“পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত অনলাইনে বিল দাখিলের পাশাপাশি বিলের ০১ টি প্রিন্ট কপি স্বাক্ষর করে আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করতে হবে।”
২০২৬ সালের নতুন সিদ্ধান্ত
৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে উপসচিব মোসাঃ শরীফুন্নেসা স্বাক্ষরিত নতুন প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩৪.০০৭.১৫ (অংশ-২)-৫০) স্পষ্টভাবে ২০২৩ সালের ঐ ৩ নং সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এর অর্থ হলো, দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা অনলাইনে দাখিল করার পর তার কোনো প্রিন্ট কপি আর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে না।
নতুন নিয়মের সরাসরি সুবিধা
এই Evergreen Explainer থেকে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, সরকারি সেবা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক হবে:
- সময় সাশ্রয়: বিল প্রিন্ট করা, স্বাক্ষর করা এবং ফিজিক্যালি অফিসে পাঠানোর সময় বাঁচবে।
- হয়রানি হ্রাস: হিসাবরক্ষণ অফিসে কাগজের ফাইলের স্তূপ এবং বিল পাসের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে।
- পেপারলেস অফিস: কাগজের ব্যবহার কমার ফলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন আরও ত্বরান্বিত হবে।
এক নজরে সরকারি আদেশের সারসংক্ষেপ
- ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় (প্রবিধি-৩ শাখা)।
- প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ: ৩১ মার্চ ২০২৬ (১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ)।
- প্রযোজ্য ভাতার ধরন: দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা।
- মূল নির্দেশ: অনলাইনে বিল দাখিলের পর ১টি প্রিন্ট কপি স্বাক্ষরসহ জমা দেওয়ার ২০২৩ সালের নিয়ম বাতিল।
সাধারন জিজ্ঞাসা
১. এখন থেকে কি ভ্রমণ ভাতার বিল হাতে লিখে জমা দেওয়া যাবে?
না, বর্তমান সিস্টেম অনুযায়ী বিল অনলাইনেই (iBAS++ বা নির্ধারিত পোর্টালে) সাবমিট করতে হয়। নতুন নির্দেশনার ফলে অনলাইনে সাবমিট করার পর তার প্রিন্ট কপি আর জমা দিতে হবে না।
২. এই নিয়ম কি বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?
হ্যাঁ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্ত দৈনিক ভাতা, সাধারণ ভ্রমণ ভাতা এবং বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা—সবগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
৩. ২০২৩ সালের কোন প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো?
০১/০৩/২০২৩ খ্রি. তারিখে জারিকৃত ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩৪.০০৭.১৫(অংশ-২)-২৫ নং পত্রের (৩) নং সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে, যেখানে প্রিন্ট কপি দেওয়ার কথা বলা ছিল।
৪. আমার বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে কীভাবে যাচাই হবে?
যেহেতু বিলটি অনলাইনেই দাখিল করা হচ্ছে, তাই হিসাবরক্ষণ অফিস তাদের সিস্টেমে ডিজিটালভাবেই এটি যাচাই ও অনুমোদন করতে পারবে।
এই আর্টিকেলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত উন্মুক্ত প্রজ্ঞাপন ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম-কানুন ও প্রজ্ঞাপনের সঠিক এবং সহজবোধ্য ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্দেশ্যে এটি লিখিত। যেকোনো দাপ্তরিক প্রয়োজনে দপ্তরের মূল নোটিশ বা iBAS++ ম্যানুয়াল অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।