বাংলাদেশে আগামী ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আপনার সুবিধার্থে ‘নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল গাইডটি নিচে দেওয়া হলো।
নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে এবং কাদের জন্য এই ছুটি?
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের সময় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে থাকে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টানা কয়েকদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬
| তারিখ | বার | ছুটির ধরন | কাদের জন্য প্রযোজ্য |
| ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মঙ্গলবার | বিশেষ ছুটি | শুধুমাত্র শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য |
| ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বুধবার | সাধারণ ছুটি | সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস |
| ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বৃহস্পতিবার | সাধারণ ছুটি | সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস |
মূল তথ্য: আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর সাথে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে?
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ (বিধি-৬ শাখা) কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এই ছুটি দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো:
- সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
- নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটগ্রহণে সহায়তা করা।
- দূর-দূরান্তের ভোটারদের এলাকায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
এই ছুটি কি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য?
হ্যাঁ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ছুটি সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার জন্য কার্যকর হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো বেসরকারি কোম্পানিতেও কর্মরত থাকেন, তবে এই দুই দিন (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) আপনি বেতনভুক্ত ছুটি পাওয়ার অধিকারী।
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ঘোষণা
পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। যেহেতু অনেক শ্রমিককে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের স্থায়ী গ্রামে যেতে হয়, তাই তাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই বাড়তি একদিনের ছুটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
১. নির্বাচনের ছুটি কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এটি একটি সাধারণ ছুটি। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের কর্মীদের ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে এই দিনগুলোতে অফিস বন্ধ রাখতে বাধ্য।
২. বেসরকারি ব্যাংক কি এই ছুটিতে বন্ধ থাকবে?
সাধারণত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর বাংলাদেশ ব্যাংক পৃথক সার্কুলার দেয়। তবে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও এই সাধারণ ছুটির অন্তর্ভুক্ত থাকে।
৩. জরুরি সেবাগুলো কি খোলা থাকবে?
হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ এবং গণমাধ্যমের মতো জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শিফট অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে বলা হয়।
৪. ভোটের ছুটি কি পরবর্তী সপ্তাহের সাথে যোগ হবে?
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে অনেকেই টানা ৪ দিনের একটি বড় ছুটি পাচ্ছেন।
শেষকথা
নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি ছুটি কেবল বিশ্রামের জন্য নয়, বরং নাগরিক অধিকার প্রয়োগের জন্য দেওয়া হয়। আপনার ভোটটি মূল্যবান, তাই নির্দিষ্ট তারিখে আপনার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতে আগেভাগেই টিকিট বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তথ্যসূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার (www.mopa.gov.bd)

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।