বর্তমানে বাংলাদেশে অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিটিআরসি। আপনার ব্যবহৃত ফোনটি যদি নিবন্ধিত না থাকে, তবে সেটি যেকোনো সময় নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তাই আপনার হ্যান্ডসেটটি বৈধ কি না তা এখনই যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
আপনার মোবাইলের বৈধতা যাচাই করতে ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD <Space> ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। ফিরতি এসএমএসে বিটিআরসি আপনাকে জানিয়ে দেবে আপনার ফোনটি নিবন্ধিত কি না।
মোবাইল বৈধ কিনা চেক করার উপায়
আপনি প্রধানত দুটি উপায়ে আপনার হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন যাচাই করতে পারেন। নিচে পদ্ধতিগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে যাচাই
এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এবং এর জন্য কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই।
- IMEI নম্বর বের করুন: ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে
*#06#ডায়াল করুন। স্ক্রিনে ১৫ ডিজিটের একটি বা দুটি IMEI নম্বর আসবে। এটি নোট করুন। - মেসেজ ফরম্যাট: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় হাতের অক্ষরে লিখুন
KYDএরপর একটি স্পেস দিয়ে আপনার ফোনেরIMEIনম্বরটি লিখুন।- উদাহরণ:
KYD 123456789012345
- উদাহরণ:
- সেন্ড করুন: মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬০০২ নম্বরে।
- ফলাফল: কিছুক্ষণ পরেই একটি ফিরতি এসএমএসে আপনি আপনার ফোনের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
২. বিটিআরসি NEIR পোর্টালে অনলাইন যাচাই
আপনি যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিস্তারিত দেখতে চান, তবে বিটিআরসির অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন।
- ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন: প্রথমে neir.btrc.gov.bd লিংকে ক্লিক করুন।
- অ্যাকাউন্ট তৈরি: আপনার যদি আগে অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন।
- IMEI চেক: পোর্টালে লগইন করার পর ‘হ্যান্ডসেট যাচাই’ অপশনে গিয়ে আপনার IMEI নম্বরটি দিলেই ফোনের সম্পূর্ণ স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
বিদেশ থেকে আনা মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের নিয়ম
আপনি যদি বিদেশ থেকে ফোন কিনে আনেন অথবা কেউ আপনাকে উপহার হিসেবে পাঠায়, তবে সেটি বিটিআরসির ডাটাবেসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনাকে ম্যানুয়ালি নিবন্ধন করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র: পাসপোর্টের কপি, ভিসা কপি এবং ফোনের ক্রয়ের রশিদ বা ইনভয়েস।
- আবেদন প্রক্রিয়া: NEIR Portal-এ গিয়ে ‘বিশেষ নিবন্ধন’ সেকশনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড করে আবেদন করুন। তথ্য সঠিক থাকলে আপনার ফোনটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
কেন আপনার ফোনটি নিবন্ধিত থাকা জরুরি?
বিটিআরসি’র নিয়ম অনুযায়ী ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেমে আপনার ফোনটি নিবন্ধিত থাকলে আপনি নিম্নোক্ত সুবিধাগুলো পাবেন:
- নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা: ফোনটি অবৈধ বা ক্লোন হিসেবে চিহ্নিত হলে সিম কার্ড কাজ করবে না। নিবন্ধিত ফোনে এই ঝুঁকি নেই।
- চুরি বা হারানো ফোন উদ্ধার: আপনার নিবন্ধিত ফোনটি হারিয়ে গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় IMEI ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে সেটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
- আসল ফোন নিশ্চিতকরণ: ফোনটি ব্র্যান্ডের অরিজিনাল ফোন কি না, তা নিবন্ধনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. মোবাইল নিবন্ধিত না থাকলে কি বন্ধ হয়ে যাবে?
হ্যাঁ, বিটিআরসির সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ বা ডাটাবেসে নাম নেই এমন হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। তবে বিদেশ থেকে আনা ফোনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য সময় দেওয়া হয়।
২. এক ফোনে দুটি IMEI থাকলে কোনটি দিয়ে চেক করব?
একটি ফোনে সাধারণত দুটি সিম স্লট থাকলে দুটি IMEI থাকে। আপনি যেকোনো একটি ব্যবহার করে চেক করতে পারেন, কারণ ডাটাবেসে দুটি নম্বরই একইসাথে সংরক্ষিত থাকে।
৩. মোবাইল রেজিস্ট্রেশন করতে কি কোনো টাকা লাগে?
না, ব্যক্তিগত ব্যবহারের ফোন বিটিআরসিতে নিবন্ধন করতে কোনো অতিরিক্ত ফি লাগে না। তবে ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যার অতিরিক্ত ফোন আনলে কাস্টমস ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।
উপসংহার: আপনার কষ্টের টাকায় কেনা শখের ফোনটি সচল রাখতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে এখনই এর বৈধতা যাচাই করুন। বিশেষ করে নতুন বা পুরাতন ফোন কেনার আগে অবশ্যই ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে এর সত্যতা নিশ্চিত হয়ে নিন।
ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলটি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক গবেষক দলের মাধ্যমে যাচাইকৃত। সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তথ্যগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে।
আপডেট তারিখ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সোর্স: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।