সংক্ষিপ্ত উত্তর (Featured Snippet): ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৬০টি ভোট পড়েছে, যা মোট বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। এর ফলে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পথ সুগম হলো ।
গণভোট ২০২৬: চূড়ান্ত ফলাফল
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে। নিচে সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| ভোটের বিবরণ | ভোটের সংখ্যা | মন্তব্য |
| ‘হ্যাঁ’ ভোট | ৪,৮২,০০,৬৬০ | বিজয়ী (সংবিধান সংস্কারের পক্ষে) |
| ‘না’ ভোট | ২,২০,৭১,৭২৬ | বিপক্ষে |
| মোট বৈধ ভোট | ৭,০২,৭২,৩৮৬ | |
| বাতিলকৃত ভোট | ৭৪,২২,৬৩৭ | |
| সর্বমোট প্রদত্ত ভোট | ৭,৭৬,৯৫,০২৩ |
কেন এই গণভোট অনুষ্ঠিত হলো?
এই গণভোটটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল, তার আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন ।
মূলত দুটি প্রধান উদ্দেশ্যে জনগণের সম্মতি জানার জন্য এই ভোট নেওয়া হয়:
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর অনুমোদন।
- সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নির্ধারণ ।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ
নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় থেকে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, এই গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
‘হ্যাঁ’ ভোটের আধিপত্য
গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। মোট বৈধ ভোটের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লক্ষেরও বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দিয়েছেন, যা সংস্কারের প্রতি জনসমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ ।
‘না’ ভোট ও বাতিল ভোট
সংবিধান সংস্কারের বিপক্ষে বা ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লক্ষের কিছু বেশি। এছাড়া, বিভিন্ন কারণে প্রায় ৭৪ লক্ষ ২২ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. ২০২৬ সালের গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: গণভোটটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার (২৯ মাঘ ১৪৩২) ।
২. গণভোটের সরকারি গেজেট কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ফলাফল সম্বলিত সরকারি গেজেটটি প্রকাশিত হয় নির্বাচনের পরদিন, অর্থাৎ ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার ।
৩. জুলাই জাতীয় সনদ কী?
উত্তর: এটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তৈরি একটি সনদ, যার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে ।
৪. গণভোটে মোট কত কোটি মানুষ ভোট দিয়েছেন?
উত্তর: গণভোটে সর্বমোট ৭ কোটি ৭৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ।
তথ্যসূত্র ও আপডেট উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।