পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অফিস সময়সূচি ঘোষণা করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই সময়সূচি কার্যকর হবে।
রোজাদার কর্মচারীদের সুবিধার্থে এবং যানজট নিরসনে প্রতি বছরই এই পরিবর্তন আনা হয়। আপনি যদি সরকারি চাকরিজীবী বা সেবাগ্রহীতা হন, তবে এই নতুন সময়সূচি জানা আপনার জন্য জরুরি।
রমজান ২০২৬-এর অফিস সময়সূচি
পাঠকদের সুবিধার্থে এবং Google Featured Snippet-এর জন্য মূল তথ্যটি নিচে দেওয়া হলো:
২০২৬ সালের রমজান মাসে সরকারি অফিসের সময়সীমা:
- অফিস শুরু: সকাল ৯:০০ ঘটিকা
- অফিস শেষ: বিকেল ৩:৩০ ঘটিকা
- দুপুরের বিরতি: দুপুর ১:১৫ থেকে ১:৩০ পর্যন্ত (জোহরের নামাজের জন্য)
- সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার ও শনিবার
বিস্তারিত সময়সূচি ও নিয়মাবলী
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) সনের রমজান মাসে অফিসের সময়সূচি নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. সাধারণ অফিস সময়
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকল সরকারি দপ্তরে কাজ চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। সাধারণ সময়ে অফিস ৫টা পর্যন্ত চললেও, রমজানে দেড় ঘণ্টা সময় কমিয়ে আনা হয়েছে।
২. নামাজের বিরতি
দুপুর ১:১৫ মিনিট থেকে ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য বিরতি থাকবে। তবে খেয়াল রাখবেন, এটি কেবল নামাজের বিরতি, লাঞ্চ ব্রেক বা দীর্ঘ বিরতি নয়। সেবাগ্রহীতারা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই বিরতি সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে।
৩. সাপ্তাহিক ছুটি
সাপ্তাহিক ছুটি অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, শুক্রবার ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকবে।
কাদের জন্য এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়?
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকল প্রতিষ্ঠান এই সময়সূচির আওতায় পড়বে না। বিশেষ কিছু জরুরি সেবা ও প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব আইন ও নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
- ব্যাংক ও বিমা: বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তীতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বতন্ত্র সময়সূচি ঘোষণা করবে।
- জরুরি সেবা: ডাক বিভাগ, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান।
- কারখানা: কলকারখানাগুলো শ্রমিকদের স্বার্থ ও উৎপাদন ঠিক রাখতে নিজস্ব সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
- আদালত: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং এর আওতাধীন সকল কোর্টের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট নিজেই নির্ধারণ করবে।
কেন এই সময় পরিবর্তন?
রমজান মাসে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় অফিস করা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হতে পারে। এছাড়া ইফতারের আগে বাসায় পৌঁছানোর তাড়া থাকে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সরকার প্রতি বছর রমজান মাসে অফিসের সময় কমিয়ে আনে। এর ফলে:
- কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইফতারের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।
- বিকেলের পিক-আওয়ারে ট্রাফিক জ্যাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইবাদতে অধিক সময় ব্যয় করতে পারেন।
প্রশ্ন ও উত্তর
পাঠকদের মনে সচরাচর যে প্রশ্নগুলো জাগে, তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. ব্যাংকের সময়সূচি কি সকাল ৯টা থেকে ৩:৩০টা হবে?
না। সরকারি অফিসের প্রজ্ঞাপন ব্যাংকের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য নয়। সাধারণত রমজান মাসে ব্যাংকের লেনদেন সকাল ৯:৩০টা থেকে দুপুর ২:৩০টা পর্যন্ত এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
২. বেসরকারি অফিসের সময়সূচি কি পরিবর্তন হবে?
সরকারি প্রজ্ঞাপনটি সরাসরি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যবাধকতা নয়। তবে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের অফিস সময় কমিয়ে আনে বা নিজস্ব সুবিধামতো শিডিউল করে।
৩. স্কুল-কলেজের সময়সূচি কি একই থাকবে?
এই প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণত রমজান মাসে স্কুল-কলেজের জন্য আলাদা নির্দেশনা বা ছুটির ঘোষণা দিয়ে থাকে।
৪. এই সময়সূচি কবে থেকে কার্যকর হবে?
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই এই সময়সূচি কার্যকর হবে।
সোর্স ও কৃতজ্ঞতা:
- তথ্যসূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।