প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করেছে । এই কমিটির মূল কাজ হলো জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেজের সমন্বয়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই দেশের প্রতিটি বিভাগের নির্দিষ্ট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ।+3
ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত নতুন মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য
দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী । কমিটিতে কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (যেমন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়) সচিবগণও সদস্য হিসেবে কাজ করবেন ।+1
কমিটির মূল কার্যপরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারের এই উদ্যোগটি যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য কমিটির কিছু সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি (Terms of Reference) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
- সঠিক ডিজাইন ও পদ্ধতি প্রণয়ন: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের জন্য একটি উপযুক্ত ডিজাইন তৈরি করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি প্রণয়ন করা হবে ।
- ডিজিটাল ডাটাবেজ (MIS) তৈরি: সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেজ (National Household Database)-এর সাথে যুক্ত থাকবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় ।
- বিদ্যমান কর্মসূচির সমন্বয়: নারীদের জন্য বর্তমানে চলমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে এই ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা, কমিটি তা পর্যালোচনা করে দেখবে ।
- প্রাথমিক ধাপে পাইলট প্রজেক্ট: কার্যক্রমটি প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে ১টি করে উপজেলায় প্রবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কবে শুরু হবে?
জনসাধারণের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই কার্ডের সুবিধা কবে থেকে পাওয়া যাবে? প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । এই প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে কমিটিকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১. ফ্যামিলি কার্ড কাদের দেওয়া হবে? মূলত প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানের জন্যই এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে ।
২. ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী কীভাবে বাছাই করা হবে? জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেজ-এর আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল সিস্টেম দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে ।
৩. ফ্যামিলি কার্ড কমিটির কার্যক্রম পরিচালনায় কোন মন্ত্রণালয় সহায়তা করবে? এই কমিটির সার্বিক কার্যক্রমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে ।
৪. কমিটি কি নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারবে? হ্যাঁ, গঠিত এই কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে কো-অপ্ট (যুক্ত) করতে পারবে ।
সোর্স: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।