মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতভুক্ত উপবৃত্তির জন্য সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী (দৃষ্টি ও অটিস্টিক ব্যতীত), উপজাতীয় (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ২৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। মাউশির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরাসরি কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চ পর্যায়ে অধ্যয়নরত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব খাত থেকে উপবৃত্তি প্রদান করে থাকে। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উপবৃত্তির জন্য একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে এই আর্টিকেলটি আপনাকে সঠিক নিয়মে আবেদন করতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত প্রক্রিয়া।
কারা এই উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিচের ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির আওতাভুক্ত হবেন:
- সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তফসিলী (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান) শিক্ষার্থী।
- সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সন্তান।
- প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী (তবে দৃষ্টি ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীরা এই প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত নন, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে)।
- উপজাতীয় বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ (এক নজরে)
আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিচে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডেডলাইন দেওয়া হলো:
- শিক্ষার্থীদের জন্য ডেডলাইন: নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫/০৩/২০২৬ খ্রি.।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডেডলাইন: প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে আঞ্চলিক কার্যালয়ে আবেদন পাঠানোর শেষ তারিখ ৩১/০৩/২০২৬ খ্রি.।
আবেদন করার নিয়ম ও ফরমের বিস্তারিত
শিক্ষার্থীদের সরাসরি অনলাইনে নয়, বরং নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। শ্রেণিভেদে ফরমের ধরন আলাদা:
১. ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য (ফরম নং-১)
নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ‘ফরম নং-১’ পূরণ করতে হবে।
২. একাদশ থেকে স্নাতকোত্তর শ্রেণির জন্য (ফরম নং-২)
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ‘ফরম নং-০২’ পূরণ করতে হবে।
কোথায় পাবেন ফরম?
এই আবেদন ফরমগুলো মাউশির ওয়েবসাইটের (www.dshe.gov.bd) নোটিশ বোর্ড থেকে ডাউনলোড করা যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাইলে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই ফরম বিতরণ বা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করতে পারে।
যে ভুলে আপনার আবেদন সরাসরি বাতিল হতে পারে!
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা কার্যালয়ে (কেন্দ্রীয় অফিসে) উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদন সরাসরি গ্রহণ করা হয় না। তাই কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সরাসরি প্রধান কার্যালয়ে আবেদন পাঠান, তবে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই তাদের নিজ নিজ এলাকার (যেমন: ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও সিলেট) আঞ্চলিক উপপরিচালক বা পরিচালকের কার্যালয়ে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: মাউশি উপবৃত্তির আবেদন জমার শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন জমার শেষ তারিখ ২৫ মার্চ, ২০২৬।
প্রশ্ন ২: আমি কি সরাসরি মাউশির হেড অফিসে আবেদন জমা দিতে পারব?
উত্তর: না। মাউশির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা দিলে তা বাতিল হবে। আপনাকে আপনার স্কুল বা কলেজে আবেদন জমা দিতে হবে।
প্রশ্ন ৩: দৃষ্টি ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীরা কি এই বৃত্তির আওতায় পড়বে?
উত্তর: না, এই নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনে দৃষ্টি ও অটিস্টিক ব্যতীত অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: উপবৃত্তির ফরম কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: আবেদন ফরম নং-১ এবং ২ মাউশির ওয়েবসাইট (www.dshe.gov.bd)-এর নোটিশ বোর্ড থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।