নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ হলো বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য সরকারি ছুটির মূল আইনি কাঠামো। এটি ২ অক্টোবর, ১৯৫৯ তারিখে বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে কার্যকর হয় এবং ১ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখ থেকে প্রযোজ্য বলে গণ্য হয়। এই বিধিমালার আওতায় সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের অর্জিত ছুটি, অসাধারণ ছুটি, প্রসূতি ছুটি, অধ্যয়ন ছুটিসহ ১৭ ধরনের ছুটির বিধান রয়েছে।

কেন এই বিধিমালা জানা জরুরি?

বাংলাদেশে প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের জন্য ছুটির বিধান, ছুটিকালীন বেতন, ছুটির হিসাব এবং ছুটি মঞ্জুরের নিয়ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অনেকেই জানেন না — কত দিনের ছুটি পাওনা, কীভাবে ছুটির হিসাব হয়, কোন ছুটিতে পূর্ণ বেতন পাওয়া যায়, আর কোন ছুটি “ছুটির হিসাব”-এ যোগ হয় না।

এই গাইডে নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯: মূল তথ্য

বিষয়বিবরণ
বিধিমালার নামনির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯
বিজ্ঞপ্তি নম্বরF/LA/3L-96/212
জারির তারিখ২ অক্টোবর, ১৯৫৯
কার্যকর তারিখ১ জুলাই, ১৯৫৯
প্রযোজ্যসকল সরকারি কর্মচারী (স্থায়ী ও অস্থায়ী)
মূল সংশোধনR III/31-3/63/337 (১৯ আগস্ট, ১৯৬৫) এবং MF/RII/Misc./73(212) (২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৩)

বিভিন্ন প্রকার ছুটির তালিকা

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মোট ১৭ ধরনের ছুটি ভোগ করতে পারেন:

  1. অর্জিত ছুটি (Earned Leave)
  2. অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave)
  3. অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave)
  4. সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave)
  5. প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)
  6. প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি (Leave Not Due)
  7. অবসর উত্তর ছুটি (Post Retirement Leave)
  8. নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)
  9. সাধারণ ও সরকারী ছুটি (Public and Government Holiday)
  10. শান্তি বিনোদন ছুটি (Rest and Recreation Leave)
  11. অক্ষমতাজনিত বিশেষ ছুটি (Special Disability Leave)
  12. বিশেষ অসুস্থতাজনিত ছুটি (Special Sick Leave)
  13. অবকাশ বিভাগের ছুটি (Leave of Vacation Department)
  14. বিভাগীয় ছুটি (Departmental Leave)
  15. চিকিৎসালয় ছুটি (Hospital Leave)
  16. বাধ্যতামূলক ছুটি (Compulsory Leave)
  17. বিনা বেতনে ছুটি (Leave Without Pay)

অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বিস্তারিত আলোচনা

অর্জিত ছুটি হলো সরকারি কর্মচারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছুটি। কর্মকালীন সময়ের মাধ্যমে যে ছুটি অর্জিত হয়, উহাই অর্জিত ছুটি (বি.এস.আর., পার্ট-১ এর বিধি-১৪৫)।

অর্জিত ছুটি দুই প্রকার:

১. গড় বেতনে অর্জিত ছুটি

  • অর্জনের হার: কর্মকালের প্রতি ১১ দিনে ১ দিন (অর্থাৎ কর্মকালের ১/১১ ভাগ)
  • সর্বোচ্চ জমা: একসাথে সর্বোচ্চ ৪ (চার) মাস পর্যন্ত জমা হয়
  • ৪ মাসের অতিরিক্ত ছুটি “ছুটির হিসাব”-এ পৃথক আইটেমে জমা হয়
  • একসাথে সর্বোচ্চ ব্যবহার: ৪ মাস (তবে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে, তীর্থ যাত্রা, শিক্ষা অথবা বাংলাদেশ, বার্মা, শ্রীলংকা ও ভারতের বাইরে শ্রান্তি ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ৬ মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে)

২. অর্ধ-গড় বেতনে অর্জিত ছুটি

  • অর্জনের হার: কর্মকালের প্রতি ১২ দিনে ১ দিন (অর্থাৎ কর্মকালের ১/১২ ভাগ)
  • এই ছুটি অসীমাহীনভাবে জমা হয়
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করলে এই ছুটিকে সর্বাধিক ১২ (বার) মাস পর্যন্ত গড় বেতনে রূপান্তর করা যায়
  • রূপান্তরের হার: প্রতি ২ দিন অর্ধ-গড় বেতনের ছুটি = ১ দিন গড় বেতনের ছুটি

ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে সর্বোচ্চ গড় বেতনে ছুটির মেয়াদ

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি ৩(১)(ii) অনুযায়ী একজন কর্মচারী ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে এককালীন সর্বোচ্চ ৪ (চার) মাস পর্যন্ত গড় বেতনে ছুটি ভোগ করতে পারেন।

স্বাস্থ্যগত কারণে গড় বেতনে এককালীন সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত ছুটি ভোগ করা যায়। অর্ধ-গড় বেতনে ছুটির মেয়াদ নির্ধারিত না থাকলেও কোনো এক ধরনের ছুটি এককালীন সর্বোচ্চ ১ বছর এবং স্বাস্থ্যগত কারণে ২ বছরের বেশি হতে পারে না।

অর্জিত ছুটির হিসাব কীভাবে করবেন? (উদাহরণসহ)

উদাহরণ:

একজন কর্মচারী ১৯ জুন, ২০০৮ তারিখে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখ হতে ২ মাসের ছুটির আবেদন করেন।

ধাপ ১: চাকরিকাল নির্ণয়

  • ছুটির আবেদনকৃত তারিখ: ২০১৪-১২-১০
  • বাদ চাকরিতে যোগদানের তারিখ: ২০০৮-০৬-১৯
  • মোট চাকরিকাল: ৬ বছর ৫ মাস ২১ দিন

ধাপ ২: ভোগকৃত ছুটি বাদ দিন

  • গড় বেতনে অর্জিত ছুটি: ০০ বছর ০২ মাস ০৭ দিন
  • অর্ধ-গড় বেতনে অর্জিত ছুটি: ০০ বছর ০২ মাস ০০ দিন
  • প্রসূতি ছুটি: ০০ বছর ০৬ মাস ০০ দিন
  • অধ্যয়ন ছুটি: ০২ বছর ০০ মাস ০০ দিন
  • অসাধারণ ছুটি: ০০ বছর ০২ মাস ০০ দিন
  • মোট ভোগকৃত ছুটিকাল: ০৩ বছর ০০ মাস ০৭ দিন

ধাপ ৩: ছুটির হিসাবের জন্য কর্মকাল নির্ণয়

  • ছুটির হিসাবের জন্য কর্মকাল: ০৭ বছর ০৫ মাস ১৪ দিন

ধাপ ৪: মোট কর্মদিনের সংখ্যা

  • ৭ বছর × ৩৬৫ = ২,৫৫৫ দিন
  • ৫ মাস × ৩০ = ১৫০ দিন
  • ১৪ দিন × ১ = ১৪ দিন
  • মোট: ২,৭১৯ দিন

ধাপ ৫: গড় বেতনে মোট অর্জিত ছুটি

  • ২,৭১৯ ÷ ১১ = ২৪৭ দিন অর্থাৎ ৮ মাস ৭ দিন

ধাপ ৬: প্রাপ্য অর্জিত ছুটি

  • গড় বেতনে মোট অর্জিত ছুটি: ৮ মাস ৭ দিন
  • ইতিমধ্যে ভোগকৃত: ২ মাস ৭ দিন
  • প্রাপ্য: ৬ মাস ০ দিন

অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave)

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি-৯(৩) অনুযায়ী অসাধারণ ছুটি নিম্নরূপ:

কখন অসাধারণ ছুটি দেওয়া হয়?

অসাধারণ ছুটি, যার জন্য ছুটিকালীন বেতন প্রদেয় নয়, যে কোনো সরকারি কর্মচারীকে বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রদান করা যায়:

  • যখন বিধিমতে অন্য কোনো প্রকার ছুটি প্রাপ্য নয়; অথবা
  • যখন অন্য কোনো প্রকার ছুটি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী লিখিতভাবে অসাধারণ ছুটির জন্য আবেদন জানায়

অসাধারণ ছুটির মেয়াদ

  • স্থায়ীকর্মে নিয়োজিত কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্যের ক্ষেত্রে এককালীন সর্বোচ্চ ৩ (তিন) মাস
  • তবে, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে সর্বাধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত অসাধারণ ছুটি প্রদান করা যাবে
  • যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত একজন অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে এককালীন সর্বাধিক ১২ (বার) মাস পর্যন্ত অসাধারণ ছুটি প্রদান করা যাবে

গুরুত্বপূর্ণ: এই ছুটি “ছুটির হিসাব” হতে বিয়োগ হয় না এবং এই প্রকার ছুটি ভোগকালে ছুটিকালীন বেতন প্রদেয় নয়।

প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)

প্রসূতি ছুটির মূল বিধান

বি.এস.আর-১৯৭, এফ.আর-১০১ এবং এস.আর (এফ.আর)-২৬৭, ২৬৮ অনুযায়ী:

  • মেয়াদ: গর্ভবতী হওয়ার পর যে তারিখ হতে ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করিবে, ঐ তারিখ হতে ৬ (ছয়) মাস ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে
  • তবে ছুটি আরম্ভের তারিখ সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে আতুর ঘরে আবদ্ধ হওয়ার তারিখের পরবর্তী কোনো তারিখ হতে পারবে না
  • অর্থাৎ ছুটি আরম্ভের সর্বশেষ তারিখ হবে সন্তান প্রসবের তারিখ

প্রসূতি ছুটির গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ

  • সমগ্র চাকরি জীবনে প্রসূতি ছুটি ২ (দুই) বারের বেশি পাওয়া যাবে না
  • প্রসূতি ছুটি “ছুটির হিসাব” হতে বিয়োগ হবে না
  • ছুটিতে যাওয়ার প্রাক্কালে উত্তোলিত বেতনের হারে পূর্ণ বেতন পাওয়া যাবে
  • ছুটি ভোগকালে ছুটিতে যাওয়ার প্রাক্কালে প্রাপ্য বেতনের হারে পূর্ণ বেতন প্রাপ্য হবে
  • অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীও প্রসূতি ছুটি প্রাপ্য (এফ.আর-এর এস.আর-২৬৯ এর সরকারি সিদ্ধান্ত)

কারা প্রসূতি ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন?

  • গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে: সরকার অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  • নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে: নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  • উভয় ক্ষেত্রেই অর্জিত ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ছুটি মঞ্জুরের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত

অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave)

বি.এস.আর, পার্ট-১ এর বিধি-১৯৪ এবং এফ.আর-৮৪ অনুযায়ী:

অধ্যয়ন ছুটির মূল শর্তসমূহ

  • সরকারের সাধারণ আদেশের শর্তাধীনে একজন সরকারি কর্মচারীকে সায়েন্টিফিক, টেকনিক্যাল অথবা তদরূপ শিক্ষার জন্য অথবা নির্দেশনাগত কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য অধ্যয়ন ছুটি প্রদান করা যাবে
  • এই প্রকার ছুটি “ছুটির হিসাব” হতে বিয়োগ হবে না
  • অধ্যয়ন ছুটি কেবল সরকার মঞ্জুর করতে পারবে
  • অধ্যয়ন ছুটিকালে অর্ধ-গড় বেতনে ছুটিকালীন বেতন প্রাপ্য

অধ্যয়ন ছুটির মেয়াদ ও সীমাবদ্ধতা

  • জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে এককালীন সর্বাধিক ১২ (বার) মাস অধ্যয়ন ছুটি দেওয়া যাবে
  • সমগ্র চাকরি জীবনে এই প্রকার ছুটির মেয়াদ ২ (দুই) বছরের বেশি হবে না
  • সাধারণভাবে চাকরির মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বছর পূর্ণ হয় নাই, এমন কর্মচারীকে এই ছুটি দেওয়া যাবে না
  • পেনশন আসন্ন এইরূপ সরকারি কর্মচারীকেও অধ্যয়ন ছুটি দেওয়া যাবে না

সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave)

বি.এস.আর, পার্ট-১ এর বিধি-১৯৬ অনুযায়ী:

সংগনিরোধ ছুটি কখন প্রযোজ্য?

সরকারি কর্মচারীর পরিবারের বা তাঁহার বাড়ীর কোনো বাসিন্দার সংক্রামক রোগের কারণে উক্ত কর্মচারীর অফিসে আগমন নিষিদ্ধ করিয়া আদেশ জারির মাধ্যমে যে ছুটি প্রদান করা হয়, উহাই সংগনিরোধ ছুটি।

মেয়াদ ও বিধান

  • মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে অফিস প্রধান সর্বাধিক ২১ (একুশ) দিন এবং বিশেষ অবস্থায় ৩০ (ত্রিশ) দিন পর্যন্ত মঞ্জুর করতে পারবেন
  • এই প্রকার ছুটিকালে কর্মকাল হিসাবে গণ্য করা হয় এবং এই সময়ে উক্ত পদে অন্য কোনো লোক নিয়োগ করা যায় না
  • এই প্রকার ছুটি “ছুটির হিসাব” হতে বিয়োগ হয় না এবং নৈমিত্তিক ছুটির অনুরূপভাবে ছুটির হিসাবের জন্য কর্মকাল হিসাবে গণ্য করা হয়

বিশ্লেষণ: গুটি বসন্ত, কলেরা, প্লেগ, টাইফাস জ্বর ও সেরিব্রোস্পাইনাল মেনেনজাইটিস রোগের ক্ষেত্রে এই প্রকার ছুটি প্রদান করা যাবে।

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি (Leave Not Due)

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি-৫ অনুসারে:

কারা পাবেন?

  • অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্র ব্যতীত স্থায়ীকর্মে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীকে সমগ্র চাকরি জীবনে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ (বার) মাস এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ব্যতীত সর্বোচ্চ ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত অর্ধ-গড় বেতনে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি মঞ্জুর করা যাবে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ছুটি গড় বেতনে প্রদান করা যায় না, শুধু অর্ধ-গড় বেতনেই প্রদান করা যায়। এই প্রকার ছুটি ভোগকালে অর্ধহারে বেতন প্রাপ্য।

নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)

নৈমিত্তিক ছুটির মূল বৈশিষ্ট্য

  • নৈমিত্তিক ছুটি চাকরি বিধিমালা স্বীকৃত ছুটি নয় এবং নৈমিত্তিক ছুটির অনুপস্থিতিকে কাজে অনুপস্থিতি হিসাবে গণ্য করা হয় না
  • পঞ্জিকা বর্ষে একজন সরকারি কর্মচারী সর্বমোট ২০ (বিশ) দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন
  • কোনো সরকারি কর্মচারীকে একসাথে ১০ (দশ) দিনের বেশি নৈমিত্তিক ছুটি প্রদান করা যাবে না

নৈমিত্তিক ছুটির বিশেষ বিধান

  • পার্বত্য জেলায় কর্মরত সকল সরকারি কর্মচারীকে এক বছরের মঞ্জুরযোগ্য ২০ (বিশ) দিনের নৈমিত্তিক ছুটি একইসাথে ভোগ করতে দেওয়া যাবে (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২)
  • নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকার সময়ে বিদেশে গমন করা যাবে না
  • নৈমিত্তিক ছুটি উভয় দিকে সরকারি ছুটির সহিত সংযুক্ত করা যাবে না
  • কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে নৈমিত্তিক ছুটিভোগকারী কোনো কর্মচারী সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারিবেন না

অবসর-উত্তর ছুটি (Post Retirement Leave)

অবসর-উত্তর ছুটির বিধান

  • গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪ এর ধারা-৭ এর বিধান অনুযায়ী অবসর-উত্তর ছুটি প্রাপ্য
  • জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৫ এর অনুচ্ছেদ-৬(১৩) দ্বারা ১ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখ হতে এই ছুটির সর্বোচ্চ মেয়াদ ছুটি পাওনা সাপেক্ষে পূর্ণ গড় বেতনে ১২ (বার) মাস করা হয়
  • অবসর-উত্তর ছুটি ভোগ করার পরও ছুটি পাওনা থাকলে সর্বাধিক ১২ (বার) মাসের মূল বেতনের সমান আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে

শান্তি বিনোদন ছুটি (Rest and Recreation Leave)

বাংলাদেশ চাকরি (বিনোদন ভাতা) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধান অনুসারে:

  • কার্যভিত্তিক, আনুষঙ্গিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ব্যতীত সকল প্রকার সরকারি কর্মচারী এই প্রকার ছুটি প্রাপ্য
  • কোনো সরকারি কর্মচারী শান্তি ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রতি ৩ (তিন) বছরে ১৫ দিনের গড় বেতনে ছুটিতে গমন করলে ১ (এক) মাসের বেতনের সমান বিনোদনভাতা প্রাপ্য

বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি (Special Disability Leave)

বি.এস.আর, পার্ট-১ এর বিধি-১৯২, ১৯৩ এবং এফ.আর-৮৩ অনুযায়ী:

কখন প্রযোজ্য?

কোনো সরকারি কর্মচারী অভিপ্রেত কোনো আঘাতের দ্বারা বা কারণে, অথবা স্বীয় দায়িত্ব সূচকরূপে পালনের সময় বা তাঁহার পদের দায়িত্ব পালনের (official position) কারণে আহত হইয়া অক্ষম (disabled) হইলে, বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি মঞ্জুর করা যাবে।

বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটির শর্তসমূহ

  • ঘটনা সংঘটনের ৩ (তিন) মাসের মধ্যে অক্ষমতা প্রকাশ না পাইলে এবং অক্ষমতা ব্যক্তি যথাযথ তৎপরতার সাথে ইহা কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত না করিলে এই প্রকার ছুটি মঞ্জুর করা যাইবে না
  • মেডিকেল বোর্ডের প্রত্যয়নকৃত সময়ই হইবে এই প্রকার ছুটির মেয়াদ
  • মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট ব্যতীত এই প্রকার ছুটির মেয়াদ বাড়ানো যাবে না এবং ইহা কোনো ক্ষেত্রেই ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হবে না
  • এই প্রকার ছুটিকাল পেনশনের জন্য চাকরিকাল গণনায় কর্মকাল হিসাবে গণ্য করা হবে এবং এই প্রকার ছুটিকাল “ছুটির হিসাব” হইতে বিয়োগ হইবে না

চিকিৎসালয় ছুটি (Hospital Leave)

বি.এস.আর-১৯৮-২০১ এবং এফ.আর এর এস.আর-২৬৯-২৭৩ অনুযায়ী:

  • যেসমস্ত সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য পালনকালে দুর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাঁহারা এই প্রকার ছুটি প্রাপ্য
  • সাধারণত পুলিশ বিভাগ, বন বিভাগ, আবগারী বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, পাগলা গারদ, ল্যাবরেটরী ইত্যাদিতে নিয়োজিত অধস্তন কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থায়ী পিয়ন ও গার্ড এই প্রকারের ছুটি প্রাপ্য
  • এই প্রকার ছুটি প্রতি তিন বৎসরে পূর্ণ গড় বেতনে ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত প্রদান করা যায়
  • সর্বমোট ছুটির পরিমাণ কোনোক্রমেই ২৮ (আটাশ) মাসের অধিক হবে না

“ছুটির হিসাব”-এর জন্য কোন সময়কাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হয়?

“ছুটির হিসাব”-এর জন্য কর্মকাল গণনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সময় গণনাযোগ্য:

✅ প্রকৃত কর্মকাল
✅ যোগদানকাল
✅ বাধ্যতামূলক অপেক্ষাকাল
✅ শিক্ষানবিশকাল
✅ প্রশিক্ষণ কোর্সে ব্যয়িত সময়কাল
✅ প্রেষণকাল
✅ বহির্বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদেশী সরকার বা সংস্থার অধীনে চাকরিকাল
✅ নৈমিত্তিক ছুটিকাল
✅ সংগনিরোধ ছুটিকাল

❌ নৈমিত্তিক ছুটি এবং সংগনিরোধ ছুটিকাল ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার ছুটিকালই “ছুটির হিসাব”-এর জন্য কর্মকাল হিসাবে গণনা করা যাবে না।

ছুটিকালীন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি ৬ অনুযায়ী ছুটিকালীন বেতন নির্ধারণ:

গড় বেতনে ছুটির ক্ষেত্রে

  • বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, পার্ট-১ এর বিধি-২০৮ তে বর্ণিত সর্বোচ্চ সীমাসাপেক্ষে যে মাসে ছুটিতে যাবেন উহার পূর্ববতী পূর্ণ ১২ (বার) মাসের গড় বেতন এবং ছুটিতে যাওয়ার পূর্বে উত্তোলনকৃত বেতন, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক লাভজনক উহার ভিত্তিতেই গড় বেতনে ছুটিকালীন বেতন নির্ধারিত হইবে

অর্ধ-গড় বেতনে ছুটির ক্ষেত্রে

  • উপবিধি-(১) অনুসারে নির্ধারিত বেতনের অর্ধহারে ছুটিকালীন বেতন পাইবেন

সকল পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য

  • সরকারি কর্মচারী যে দেশেই ছুটি ভোগ করুন না কেন, ছুটিকালীন বেতন বাংলাদেশী মুদ্রায় বাংলাদেশে প্রদেয় হইবে

সাধারণ ও সরকারী ছুটি

সাধারণ ছুটি (Public Holiday)

নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট এ্যাক্ট, ১৮৮১ এর ধারা-২৫ এর ব্যাখ্যা অনুসারে সাধারণ ছুটি বলিতে সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি গেজেটের মাধ্যমে যে সমস্ত দিনকে সাধারণ ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়, ঐ সমস্ত দিনকে বুঝাইবে।

ঐচ্ছিক ছুটি (Optional Leave)

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে যেসমস্ত ছুটি ভোগ করা কর্মচারীর ইচ্ছাধীন, তাহাই ঐচ্ছিক ছুটি। যে কোনো সম্প্রদায়ের একজন কর্মচারীকে তাহার নিজ ধর্ম অনুযায়ী বৎসরে সর্বমোট ৩ (তিন) দিনের মাত্রা পর্যন্ত ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার অনুমতি প্রদান করা যাইবে।

বহির্বাংলাদেশে ছুটি ভোগের নিয়ম

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং সম(বিধি-৪)ছুটি-৭/৮৭-৯-৫২(২০০) অনুযায়ী:

  • অর্জিত ছুটি বাংলাদেশের বাইরে কাটাইতে হইলে নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কাজে বা প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পূর্বেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে ছুটির মঞ্জুরি গ্রহণ করতে হইবে
  • ছুটির মঞ্জুরি গ্রহণ না করিয়া বিদেশে গমনপূর্বক ছুটির দরখাস্ত করিতে পারিবেন না
  • বিদেশে ছুটি কাটানোর পর ভ্রমণ সময় যোগ হইবে না
  • বিদেশে অবস্থানকালে বিধি অনুযায়ী নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা যায় না

গড় বেতনে ও অর্ধ-গড় বেতনে ছুটিভোগকালে প্রাপ্য বাড়ীভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার হার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং MF/R-II/HR-I/77-260(500), তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ অনুযায়ী অর্ধগড় বেতনে ছুটি ভোগকালে বাড়ীভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা পূর্ণ হারে পাইবেন।

বিনা বেতনে ছুটি (Leave Without Pay)

  • বিনা বেতনে ছুটি সম্পর্কে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এর বিধি-৩০৩ তে বলা হইয়াছে যে, পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ছুটিবিহীন অনুপস্থিতকালকে ভূতাপেক্ষিকভাবে বিনা বেতনে ছুটিতে রূপান্তর করিতে পারিবেন
  • বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এর বিধি-১৫৮(২) তে বলা হইয়াছে যে, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনুপস্থিত থাকিলে এবং উক্ত অনুপস্থিতকাল পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ছুটি বর্ধিত না হইলে, উক্ত সময়ের জন্য কোনো ছুটিকালীন বেতন প্রাপ্য নয়
  • বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এর বিধি-৯(৩) একত্রে পড়িলে বুঝা যায় বিনা বেতনে ছুটি বলিতে প্রকৃত পক্ষে অসাধারণ ছুটিকেই বুঝানো হইয়াছে

ছুটির একত্র প্রয়োগ বিধান

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালার ১১ নং বিধি অনুযায়ী:

এই বিধিমালার অধীন যে কোনো প্রকার ছুটির সহিত সংযুক্তভাবে বা ইহার ধারাবাহিকতাক্রমে এই বিধিমালার অধীন অন্য যে কোনো প্রকার ছুটি প্রদান করা যাইবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯ কি এখনও কার্যকর?

উত্তর: হ্যাঁ, নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯ বর্তমানেও বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। তবে বিভিন্ন সময়ে এর সংশোধনী আনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ও ফান্ডামেন্টাল রুলসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটি প্রয়োগ করতে হয়।


প্রশ্ন ২: সরকারি কর্মচারী বছরে কত দিন অর্জিত ছুটি পান?

উত্তর: গড় বেতনে অর্জিত ছুটির হার হলো কর্মকালের ১/১১ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি ১১ দিনের কর্মকালের জন্য ১ দিন। একটি সাধারণ হিসাবে বলা যায়, বছরে প্রায় ৩৩ দিন বা প্রায় ১ মাস ৩ দিন গড় বেতনে ছুটি অর্জিত হয়। অর্ধ-গড় বেতনে প্রতি ১২ দিনে ১ দিন হারে ছুটি অর্জিত হয়।


প্রশ্ন ৩: একসাথে কতদিন গড় বেতনে ছুটি নেওয়া যায়?

উত্তর: ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে একসাথে সর্বোচ্চ ৪ (চার) মাস গড় বেতনে ছুটি নেওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে একসাথে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত গড় বেতনে ছুটি নেওয়া সম্ভব।


প্রশ্ন ৪: মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া কত দিন ছুটি নেওয়া যায়?

উত্তর: মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া নৈমিত্তিক ছুটি সর্বোচ্চ ১০ দিন এবং বছরে মোট ২০ দিন নেওয়া যায়। ৩ মাসের বেশি স্বাস্থ্যগত কারণে ছুটির আবেদনে মেডিকেল বোর্ডের সার্টিফিকেট প্রয়োজন। প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট ব্যতীত সর্বোচ্চ ৩ মাস নেওয়া যায়।


প্রশ্ন ৫: অধ্যয়ন ছুটি কতদিন পাওয়া যায়?

উত্তর: একসাথে সর্বাধিক ১২ (বার) মাস এবং সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছর অধ্যয়ন ছুটি পাওয়া যায়। তবে চাকরির মেয়াদ কমপক্ষে ৫ বছর পূর্ণ না হলে এই ছুটি পাওয়া যায় না।


প্রশ্ন ৬: প্রসূতি ছুটি কতবার পাওয়া যায়?

উত্তর: সমগ্র চাকরি জীবনে প্রসূতি ছুটি সর্বোচ্চ ২ (দুই) বার পাওয়া যায়। প্রতিবার ৬ মাস করে। এই ছুটিতে পূর্ণ বেতন প্রদেয় এবং এটি “ছুটির হিসাব” থেকে বিয়োগ হয় না।


প্রশ্ন ৭: সংগনিরোধ ছুটি “ছুটির হিসাব”-এ পড়ে কিনা?

উত্তর: না। সংগনিরোধ ছুটি “ছুটির হিসাব” হতে বিয়োগ হয় না। এটি নৈমিত্তিক ছুটির অনুরূপভাবে ছুটির হিসাবের জন্য কর্মকাল হিসাবে গণ্য করা হয়।


প্রশ্ন ৮: ছুটির “হিসাব” ও “জমা” এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: “ছুটির হিসাব” হলো সেই হিসাব যেখানে একজন কর্মচারীর অর্জিত ছুটি জমা থাকে এবং ব্যবহৃত ছুটি বাদ দিয়ে প্রাপ্য ছুটির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। গড় বেতনে অর্জিত ছুটি সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত এই হিসাবে জমা থাকে, অতিরিক্ত অংশ পৃথক আইটেমে জমা হয়।


প্রশ্ন ৯: কোন ছুটিতে বেতন পাওয়া যায় না?

উত্তর: অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave) এবং বিনা বেতনে ছুটি (Leave Without Pay) ভোগকালে কোনো ছুটিকালীন বেতন প্রদেয় নয়।


প্রশ্ন ১০: সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুতে পরিবার কি ছুটির বিনিময়ে অর্থ পাবেন?

উত্তর: হ্যাঁ। চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যুর তারিখে অবসরগ্রহণ ধরিয়া পাওনা ছুটির পরিবর্তে প্রাপ্য নগদ অর্থ পরিবারকে প্রদান করা যাইবে। এইক্ষেত্রে পরিবার বলিতে পারিবারিক পেনশন প্রদান নিমিত্তে পেনশন বিধিতে প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী পরিবার বুঝাইবে।


শেষকথা

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯ একটি বিস্তৃত এবং জটিল আইনি দলিল। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আপনার জানা উচিত:

  • আপনার “ছুটির হিসাব” নিয়মিত যাচাই করুন
  • ছুটির আবেদন সময়মতো এবং সঠিক নিয়মে করুন
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট স্বাস্থ্যগত ছুটির জন্য সংরক্ষণ করুন
  • বিদেশে ছুটি ভোগের আগে অবশ্যই পূর্বানুমতি নিন
  • প্রসূতি ছুটি ২ বারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন

সর্বোপরি, কোনো ছুটি সংক্রান্ত জটিলতায় সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসনিক বিভাগ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখার সহায়তা নেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  • নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ (Notification No. F/LA/3L-96/212)
  • বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বি.এস.আর.), পার্ট-১
  • ফান্ডামেন্টাল রুলস (এফ.আর.)
  • গণকর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪
  • বাংলাদেশ চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫
  • জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৫

Leave a Comment