আপডেট: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর ও যুগোপযোগী আচরণবিধি প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবং জনদুর্ভোগ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পোস্টার সাঁটানো নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ সব মিলিয়ে এবারের নিয়মাবলীতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।
ভোটার ও সাধারণ জনগণের সুবিধার্থে ২০২৬ সালের নির্বাচনের নতুন আচরণবিধি ও বিধিনিষেধগুলো নিচে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
এক নজরে নির্বাচনের নতুন আচরণবিধি (২০২৬)
নির্বাচন কমিশন এবার প্রচার-প্রচারণায় পরিবেশ রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো:
১. প্রচারণায় প্লাস্টিক ও কাগজের ব্যবহার সীমিতকরণ
পরিবেশ দূষণ রোধে এবার প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রচার চালানো যাবে। এটি শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও বর্জ্য কমাতে সহায়ক হবে।
২. সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্রচারণায় কড়াকড়ি
বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার। তবে অপপ্রচার রোধে ইসি কিছু কঠোর নিয়ম বেঁধে দিয়েছে:
- আইডি ডিক্লারেশন: প্রার্থীদের তাদের সোশ্যাল মিডিয়া আইডি বা পেজের পরিচয় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাতে হবে।
- AI ব্যবহারে সতর্কতা: অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ডিপফেক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- গুজব ছড়ালে শাস্তি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য বা ভুল কনটেন্ট প্রচার করলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৩. মিছিল ও শো-ডাউন নিষিদ্ধ
জনসাধারণের চলাচলে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য শো-ডাউন ও মিছিলে এসেছে নতুন নিয়ম:
- বাস, ট্রাক বা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো প্রকার মিছিল বা শো-ডাউন করা যাবে না।
- নির্বাচনী প্রচারণায় মশাল মিছিল নিষিদ্ধ।
- প্রতীক হিসেবে কোনো জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না।
সভা-সমাবেশ ও মাইকিং: নতুন নিয়ম কী?
শব্দদূষণ ও যানজট নিরসনে প্রচারণার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- মাইকিং: একই সঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে।
- জনসভা: যেকোনো জনসভার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।
- পথসভা: চলাচলের পথ আটকে কোনো সভা-সমাবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আচরণবিধির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আরও কিছু নির্দেশনাবলী মেনে চলতে হবে:
- পোস্টারে ছবি: প্রচারণায় প্রার্থী নিজের এবং শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কারো ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সরকারি অফিস-আদালতে প্রচারণা চালানো যাবে না।
- একই মঞ্চে ইশতেহার: রাজনৈতিক সম্প্রীতি রক্ষায় সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা এক মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
- ক্যাম্প অফিস: প্রতি ওয়ার্ডে শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে।
- বিদ্বেষমূলক বক্তব্য: প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিকৃত ছবি বা ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রচার করা যাবে না।
শেষকথা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর এই আচরণবিধি মূলত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং জনবান্ধব নির্বাচনের লক্ষে তৈরি। বিশেষ করে AI-এর অপব্যবহার রোধ এবং পোস্টার নিষিদ্ধকরণ একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়। প্রার্থীরা এবং তাদের সমর্থকরা এই নিয়মগুলো মেনে চললে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।