বেসরকারি স্কুল ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে? সামনে নির্বাচন বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না? এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। আপনি যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে এই আপডেটটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নিচে আমরা খুব সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি।
এক নজরে মূল সিদ্ধান্ত
সিদ্ধান্ত: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির বর্তমান সভাপতিদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রযোজ্য: সকল বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মেয়াদ বৃদ্ধির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘বেসরকারি মাধ্যমিক-১’ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এই আদেশে মূলত দুটি কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে:
১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নির্বাচনের সময় সাধারণত প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নিয়মিত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
২. বিদ্যমান পরিস্থিতি: দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এই সিদ্ধান্ত।
কতদিন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ল?
নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেয়াদ বৃদ্ধির এই আদেশ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, এই তারিখের মধ্যে বা পরবর্তীতে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
কাদের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য?
এই নোটিশটি নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য জারি করা হয়েছে। এটি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য কি না, তা দেখে নিন:
- বেসরকারি স্কুল: যাদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে।
- বেসরকারি কলেজ: যাদের গভর্নিং বডির সভাপতির মেয়াদ শেষের দিকে।
- বিভাগ: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠান।
এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় কী?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বর্তমান সভাপতিদের কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে:
১. নোটিশ সংরক্ষণ: এই অফিস আদেশটি প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিন এবং ফাইলে সংরক্ষণ করুন।
২. ব্যাংকিং কার্যক্রম: সভাপতির মেয়াদ বৃদ্ধির কপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিন যাতে বেতন-ভাতা বা আর্থিক লেনদেনে কোনো জটিলতা না হয়।
৩. পরবর্তী প্রস্তুতি: ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই পরবর্তী নির্বাচনের বা এডহক কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো, যাতে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না হয়।
সিদ্ধান্ত
এই নির্দেশনার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে না এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল থাকবে। যেহেতু এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা, তাই প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকা।
বিঃদ্রঃ: এটি একটি সরকারি নির্দেশনার বিশ্লেষণ। দাপ্তরিক প্রয়োজনে মূল নোটিশটি অনুসরণ করার অনুরোধ করা হলো।
সূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।