সরকার ‘জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩’ সংশোধন করেছে। নতুন নিয়মে পিএইচডি/মাস্টার্স করার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪৭ বছর করা হয়েছে। এছাড়া চাকরিতে প্রবেশের ২ বছরের মধ্যে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক এবং পিএইচডি গবেষকদের প্রতি বছর অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা না দিলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে।
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ: সময়সীমা ও বয়সসীমা
নতুন নিয়মে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ (Foundation Training) গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সময় ও বয়সের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
- প্রশিক্ষণের সময়সীমা: সকল ক্যাডার এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডার কর্মচারীদের চাকরিতে যোগদানের প্রথম ০২ (দুই) বছরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।
- বয়সসীমা (ক্যাডার বহির্ভূত): ক্যাডার বহির্ভূত এবং নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার পদে অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৫ বছর।
- কোর্সের মেয়াদ: বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ সাধারণত ০৪ (চার) মাস হবে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বয়সের নতুন সীমা
সরকারি কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়সসীমা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অনেকের ক্যারিয়ার প্ল্যানিংয়ে প্রভাব ফেলবে।
| ডিগ্রির ধরন | সর্বোচ্চ বয়সসীমা |
| পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, মাস্টার্স, এম.ফিল, পিএইচডি | ৪৭ বছর |
| পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ (উচ্চশিক্ষা গ্রহণ) | ৫০ বছর |
| ফেলোশিপ ও মেন্টরশিপ | ৫৪ বছর |
পিএইচডি গবেষকদের জন্য কঠোর সতর্কতা
যারা সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় পিএইচডি করছেন বা করবেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এটি।
- বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন: পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রেষণ (Deputation) মঞ্জুর হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রতি বছর তার গবেষণার অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র (গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে নিয়ে) নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
- শাস্তি: এটি বাধ্যতামূলক। যে সকল কর্মকর্তা এই প্রতিবেদন পাঠাতে ব্যর্থ হবেন, তাদের বেতন বন্ধ থাকবে।
প্রেষণ ও বৃত্তির নিয়ম
উচ্চশিক্ষার খরচের ওপর ভিত্তি করে প্রেষণ মঞ্জুরের নিয়মেও স্পষ্টতা আনা হয়েছে।
- কোনো কর্মচারী পূর্ণবৃত্তিপাপ্ত হলে বৃত্তিপাপ্ত মেয়াদের জন্য প্রেষণ মঞ্জুর করা যাবে।
- আংশিক বৃত্তিপাপ্ত হলেও প্রেষণ মঞ্জুর করা যাবে।
দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নবায়ন
শুধু বিদেশ ভ্রমণ বা বড় ডিগ্রি নয়, অফিসের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে।
- ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ: সরকারি দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মচারীর জন্য প্রতি অর্থবছর বা অর্ধবার্ষিকে ন্যূনতম ৬০ (ষাট) ঘণ্টা প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।
- দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ: বছরে একবার ‘দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণের’ আয়োজন করতে হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো দাপ্তরিক কাজের জ্ঞান হালনাগাদ করা এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মূল প্রজ্ঞাপনটি দেখুন:


শেষ কথা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সংশোধনী (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) মূলত সিভিল সার্ভিসে গতিশীলতা আনা এবং উচ্চশিক্ষার নামে দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর একটি প্রয়াস। বিশেষ করে পিএইচডি গবেষণার নামে বছরের পর বছর প্রেষণে থেকে কাজের অগ্রগতি না দেখানোর দিন শেষ হতে চলেছে। আপনি যদি সরকারি চাকরিজীবী হন, তবে এখনই নিজের প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা এই নতুন বয়সসীমা অনুযায়ী সাজিয়ে নিন।
সোর্স: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদেশ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইউনিট, বাংলাদেশ সচিবালয়।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।