বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ২০টি গ্রেডের মাধ্যমে কর্মচারীদের পদমর্যাদা এবং বেতন নির্ধারিত হয়। আপনি যদি সরকারি চাকরিতে নতুন যোগ দিয়ে থাকেন বা সরকারি পদমর্যাদার স্তরগুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তবে এই তালিকাটি আপনার জন্য।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিচে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড ভিত্তিক পরিচিতি ও শ্রেণি বিন্যাস সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
সরকারি কর্মচারীদের গ্রেড বিন্যাস
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের মোট ২০টি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে। আগে একে ‘শ্রেণি’ (Class) বলা হতো, তবে বর্তমানে এটি গ্রেড হিসেবেই পরিচিত।
- ১ম থেকে ৯ম গ্রেড: উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা গেজেটেড অফিসার।
- ১০ম গ্রেড: দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা সম্পন্ন কর্মচারী।
- ১১তম থেকে ১৬তম গ্রেড: তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী।
- ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড: চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।
সরকারি পদের গ্রেড ভিত্তিক বিস্তারিত তালিকা
বাংলাদেশ সরকারের কাঠামোতে পদমর্যাদা অনুসারে গ্রেডগুলোকে প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (১ম থেকে ৯ম গ্রেড)
এই স্তরের কর্মচারীরা মূলত পলিসি তৈরি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ করেন। এদেরকে গেজেটেড অফিসার বলা হয়।
- ১ম গ্রেড: সিনিয়র সচিব/সচিব (সর্বোচ্চ স্তর)।
- ২য় থেকে ৪র্থ গ্রেড: অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার।
- ৫ম থেকে ৮ম গ্রেড: উপসচিব, জেলা প্রশাসক (DC), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO), সিনিয়র সহকারী সচিব।
- ৯ম গ্রেড: ক্যাডার অফিসার (BCS শুরু) এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত নন-ক্যাডার অফিসার।
দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা (১০ম গ্রেড)
এই গ্রেডের কর্মচারীরা সুপারভাইজারি বা কারিগরি কাজে নিয়োজিত থাকেন।
- ১০ম গ্রেড: উপ-সহকারী প্রকৌশলী, নার্স (সিনিয়র স্কেল), এসআই (পুলিশ), হাইস্কুল শিক্ষক।
তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (১১তম থেকে ১৬তম গ্রেড)
সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক কাজের মেরুদণ্ড হলো এই স্তর।
- ১১তম থেকে ১২তম গ্রেড: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অফিস সুপারিনটেনডেন্ট।
- ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেড: উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড)
এরা মূলত সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করেন।
- ১৭তম থেকে ১৮তম গ্রেড: ড্রাইভার, ল্যাব সহকারী।
- ১৯তম থেকে ২০তম গ্রেড: অফিস সহায়ক (এমএলএসএস), মালি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী।
সরকারি গ্রেড ও বর্তমান পদমর্যাদার পার্থক্য
২০১৫ সালের পে-স্কেলের পর থেকে সরকারি চাকরিতে “শ্রেণি” শব্দটি দাপ্তরিকভাবে বাদ দিয়ে কেবল “গ্রেড” শব্দটির প্রচলন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কর্মচারীদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য দূর করা। তবে সামাজিক ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এখনও ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পরিচিতি রয়ে গেছে।
গ্রেড পরিবর্তনের নিয়ম (Promotion)
সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির মাধ্যমে গ্রেড পরিবর্তন হয়। যেমন: একজন ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী পদোন্নতি পেয়ে ১৩তম বা ১১তম গ্রেডে যেতে পারেন। অন্যদিকে, বিসিএস ক্যাডাররা ৯ম গ্রেড থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ১ম গ্রেডে পৌঁছান।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
৯ম এবং এর উপরের গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি যখন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়, তখন তাদের গেজেটেড অফিসার বলা হয়।
না, ১০ম গ্রেড সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা বহন করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তাদের মর্যাদা ভিন্ন হতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫’ কার্যকর রয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন পে-কমিশনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মতামত
সরকারি বেতন কাঠামো এবং গ্রেড বিন্যাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজের জন্য জরুরি। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ গেজেট এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে যাচাইকৃত। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য গ্রেড ভিত্তিক এই পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র
নিবন্ধটি তৈরি করেছেন সরকারি প্রশাসন ও ক্যারিয়ার বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ গবেষক। তথ্যসূত্র হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো পদের গ্রেড বা বেতন সম্পর্কে জানতে চান? নিচে কমেন্ট করুন, আমরা আপনাকে সঠিক গ্রেড এবং বর্তমান সুবিধাগুলো জানিয়ে সাহায্য করব।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।