সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

আপনি কি ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন? আপনার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই আর্টিকেলে আমরা রেজাল্ট দেখার নিয়ম, জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান এবং মৌখিক পরীক্ষার (Viva) জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

একনজরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ফলাফল ২০২৫

পাঠকের সময়ের মূল্য দিতে শুরুতেই মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • পদের নাম: সহকারী শিক্ষক (রাজস্ব খাতভুক্ত)।
  • লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬।
  • মোট নির্বাচিত প্রার্থী: ৬৯,২৬৫ জন।
  • অন্তর্ভুক্ত জেলা: ৬১টি জেলা।
  • পরবর্তী ধাপ: মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (Viva Voce)।

গুরুত্বপূর্ণ: এই ফলাফলটি শুধুমাত্র লিখিত পরীক্ষার। নির্বাচিত প্রার্থীদের এখন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। চূড়ান্ত নিয়োগ ভাইভার পর নির্ধারিত হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ফলাফল ২০২৫ কীভাবে দেখবেন?

প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়িয়ে খুব সহজেই আপনি আপনার রেজাল্ট চেক করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে নিয়মগুলো দেওয়া হলো:

অনলাইন বা পিডিএফ তালিকার মাধ্যমে

নিচে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫” এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ.pdf ফাইলটি শেয়ার করা হলো:

সরাসরি দেখুন: সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫” এর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল

https://drive.google.com/file/d/1c9loszQnnkZ_GxAtyK5GJs36xeNkIheY/view?usp=sharing

  • ফাইলটি ওপেন করে সার্চ অপশনে (Ctrl + F) গিয়ে আপনার প্রবেশপত্রের রোল নম্বরটি টাইপ করুন।
  • আপনার রোল নম্বর মিলে গেলে বুঝবেন আপনি মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জেলাভিত্তিক নির্বাচিত প্রার্থীর পরিসংখ্যান

আপনার আপলোড করা অফিসিয়াল তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ৬১টি জেলার মধ্যে প্রতিযোগিতার হার ভিন্ন। উল্লেখযোগ্য কিছু জেলার পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে প্রতিযোগিতার ধারণা দেবে:

জেলার নামনির্বাচিত প্রার্থী সংখ্যা
চট্টগ্রাম২,৮০৭ জন
কুমিল্লা২,৫৬৪ জন
কুড়িগ্রাম২,৪৬০ জন
গাইবান্ধা২,২৯৫ জন
কিশোরগঞ্জ১,৩৯৬ জন
খুলনা১,৪০৫ জন
কক্সবাজার৭১০ জন

দ্রষ্টব্য: এই সংখ্যাগুলো লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের, যারা ভাইভার জন্য ডাক পেয়েছেন।

মৌখিক পরীক্ষার (Viva) জন্য প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভাইভা। ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাকে এখনই নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

১. অনলাইন আবেদনের কপি: আবেদনের সময় যে কপিটি ডাউনলোড করেছিলেন।

২. প্রবেশপত্র (Admit Card): লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্রের মূল কপি।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: সকল পরীক্ষার মূল সনদপত্র ও মার্কশিট।

৪. নাগরিকত্ব সনদ: স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের দেওয়া সনদ।

৫. কোটা সপক্ষে প্রমাণপত্র: মুক্তিযোদ্ধা বা অন্যান্য কোটা থাকলে তার মূল সনদ।

৬. ছবি: ৩ কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

পরামর্শ: সকল কাগজপত্রের মূল কপির পাশাপাশি ২ সেট সত্যায়িত ফটোকপি আলাদা ফাইলে প্রস্তুত রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পাঠকদের মনে প্রায়ই যেসব প্রশ্ন জাগে, তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. প্রাইমারি রেজাল্টে কাট মার্ক (Cut Mark) কত?

উত্তর: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নির্দিষ্ট কোনো কাট মার্ক আগে থেকে নির্ধারণ করা থাকে না। এটি সম্পূর্ণ উপজেলাভিত্তিক শূন্য পদের ওপর নির্ভর করে। যে উপজেলায় পদ সংখ্যা কম কিন্তু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেখানে কাট মার্ক বেশি হয়।

২. ভাইভা পরীক্ষা কবে শুরু হবে?

উত্তর: লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাধারণত ২০-২৫ দিনের মধ্যেই জেলাভিত্তিক ভাইভা শুরু হয়। খুব শীঘ্রই আপনার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বা ওয়েবসাইটে ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।

৩. আমার রোল নম্বর হারিয়ে গেছে, এখন কী করব?

উত্তর: টেলিটক বা DPE-এর ওয়েবসাইট থেকে ‘Recover User ID/Password’ অপশন ব্যবহার করে আপনার তথ্য দিয়ে রোল নম্বর পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

কেন এই ফলাফলটি গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৫ সালের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি (প্রকাশিত: ০৫ ও ১২ নভেম্বর ২০২৫) সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নিয়োগ। ৬১টি জেলায় প্রায় ৭০ হাজার প্রার্থীকে (৬৯,২৬৫ জন) ভাইভার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, যা বেকার সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।

শেষ কথা

যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। মনে রাখবেন, লিখিত পরীক্ষা জয় করা মানে যুদ্ধের অর্ধেক শেষ হওয়া। বাকি অর্ধেক হলো ভাইভা। তাই আজ থেকেই নিজেকে মানসিক ও বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্রস্তুত করুন। আর যারা এবার সফল হতে পারেননি, হতাশ না হয়ে পরবর্তী নিয়োগের জন্য দ্বিগুণ উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করুন।

Disclaimer: এই আর্টিকেলের তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ফলাফল শিট (প্রকাশিত জানুয়ারি ২০২৬) থেকে সংগৃহীত। যেকোনো পরিবর্তনের জন্য দাপ্তরিক ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

Leave a Comment