২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) বাংলাদেশে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৮০৫ টাকা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি’ এই হার ঘোষণা করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফিতরার হারে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
পবিত্র রমজান মাস শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ইসলামে ফিতরা বা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আপনি যদি জানতে চান এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার পরিমাণ কত, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত ২০২৬ সালের ফিতরার সঠিক ও আপডেটেড তথ্য ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।
এ বছর জনপ্রতি ফিতরার পরিমাণ কত?
দৈনন্দিন বাজারদর এবং ফিকহী হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে এ বছর ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- সর্বনিম্ন ফিতরা: ১১০ টাকা (জনপ্রতি)
- সর্বোচ্চ ফিতরা: ২,৮০৫ টাকা (জনপ্রতি)
সামর্থ্যবান মুসলিমরা তাদের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী এই দুই সীমার মধ্যে যেকোনো একটি উপাদানের (গম, যব, খেজুর, কিসমিস বা পনির) বাজারমূল্য হিসেবে ফিতরা আদায় করতে পারবেন।
ফিতরা নির্ধারণ কমিটির ঘোষণা ও বিস্তারিত তথ্য
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- কমিটি: জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটি।
- সভাপতিত্ব করেন: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব এবং সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি মুফতি মাওলানা আব্দুল মালেক।
- অংশগ্রহণকারী: সভায় বিশিষ্ট আলেমরা এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
- সিদ্ধান্ত: বিস্তারিত আলোচনার পর ১৪৪৭ হিজরি সনের জন্য ফিতরার এই চূড়ান্ত হার ঘোষণা করা হয়।
গত বছরের সাথে এবারের ফিতরার পার্থক্য
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফিতরা বেড়েছে কিনা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, গত বছরও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল (যথাক্রমে ১১০ টাকা এবং ২,৮০৫ টাকা)। অর্থাৎ, এ বছর ফিতরার হারে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. ২০২৬ সালে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন ফিতরা কত?
উত্তর: ২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) বাংলাদেশে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ফিতরা কত টাকা?
উত্তর: এ বছর জনপ্রতি সর্বোচ্চ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৮০৫ টাকা। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা চাইলে সর্বোচ্চ হারে ফিতরা আদায় করতে পারেন, যা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
৩. ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব?
উত্তর: ঈদুল ফিতরের দিন সকালে যার কাছে নিজের এবং পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর নিজের এবং অধীনস্থদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।
৪. ফিতরা কখন আদায় করতে হয়?
উত্তর: ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম। তবে কেউ ভুলে গেলে ঈদের পরেও তা আদায় করতে হয়, তবে তখন সেটি সাধারণ সাদাকা হিসেবে গণ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তথ্যসূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।