অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম (২০২৬)

আপনি যদি অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে চান, তবে সরাসরি bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদন’ মেনু থেকে নিজের নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার তথ্য (এনআইডি ও জন্ম সনদ) দিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর পিডিএফ ফর্মটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (যেমন: টিকার কার্ড, হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ ইত্যাদি) সহ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় জমা দিলে ২ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে পেয়ে যাবেন। বয়স ভেদে এর সরকারি ফি ০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পাওয়ার জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ একটি অত্যাবশ্যকীয় সরকারি ডকুমেন্ট। তাই আবেদনটি কীভাবে নির্ভুলভাবে করবেন, তা ধাপে ধাপে নিচে আলোচনা করা হলো।

জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী ডকুমেন্টস লাগে?

বয়স অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধনের কাগজপত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। নিচে বয়স ভিত্তিক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের তালিকা দেওয়া হলো:

১. ০ থেকে ৪৫ দিন বয়সের শিশুদের জন্য:

  • ইপিআই (EPI) বা টিকার কার্ড অথবা হাসপাতালে জন্ম হলে তার ছাড়পত্র।
  • পিতা ও মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
  • বাসার হোল্ডিং নম্বর এবং ট্যাক্স বা কর পরিশোধের রশিদের ফটোকপি।
  • অভিভাবকের সচল মোবাইল নম্বর।
  • এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

২. ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য:

  • উপরের উল্লেখিত সকল ডকুমেন্টস।
  • অতিরিক্ত হিসেবে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে আনা প্রত্যয়ন পত্র।

৩. ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি বা সমমান), যদি থাকে।
  • এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তারের প্রত্যয়ন সনদ (অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফর্মের ৭(১) নং কলামে ডাক্তারের স্বাক্ষরসহ সিলমোহর থাকতে হবে)।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যার জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পরে, তার জন্ম নিবন্ধন করতে হলে অবশ্যই পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক। আর যদি বাবা-মা মৃত হয়ে থাকেন, তবে প্রথমে তাদের মৃত্যু নিবন্ধন বা ডেথ সার্টিফিকেট করতে হবে, এরপরই সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম

খুব সহজেই ঘরে বসে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আবেদন করা সম্ভব:

  • ধাপ ১: প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bdris.gov.bd -তে প্রবেশ করুন।
  • ধাপ ২: মেনু থেকে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদন’ অপশনে ক্লিক করুন।
  • ধাপ ৩: আপনি জন্মস্থান নাকি স্থায়ী ঠিকানা থেকে আবেদন করতে চান তা নির্বাচন করে ‘পরবর্তী’ বাটনে ক্লিক করুন। (প্রবাসী হলে নিজ দেশের নাম সিলেক্ট করুন)।
  • ধাপ ৪: আবেদনকারীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ (বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায়), জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার কততম সন্তান এবং জেন্ডার সঠিকভাবে পূরণ করুন। (লাল তারকা চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে)।
  • ধাপ ৫: স্ক্যান করে রাখা সব ডকুমেন্টস সাইটে আপলোড করে সাবমিট করুন।
  • ধাপ ৬: আবেদন সফল হলে একটি পিডিএফ (PDF) কপি পাবেন। সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
  • ধাপ ৭: প্রিন্ট করা আবেদন কপির সাথে আপনার সকল অরিজিনাল কাগজপত্রের ফটোকপি যুক্ত করে নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে জমা দিন।

টিপস: নিজের ও বাবা-মায়ের নামের বানান এবং জন্ম তারিখ দেওয়ার সময় চরম সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারণ এখানে ভুল হলে এনআইডি বা পাসপোর্টেও ভুল আসবে এবং পরবর্তীতে সংশোধনের বড় ঝামেলায় পড়তে হবে।

জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে? (সরকারি ফি)

বয়সের ওপর ভিত্তি করে জন্ম নিবন্ধনের সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে:

  • ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে: সম্পূর্ণ ফ্রি (কোনো সরকারি ফি নেই)।
  • ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে: ২৫ টাকা।
  • ৫ বছরের বেশি বয়স হলে: ৫০ টাকা।

নোট: ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে কাগজ জমা দেওয়ার সময় এই ফি পরিশোধ করতে হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাস্য

১. জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে কতদিন সময় লাগে?

অনলাইনে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় জমা দেওয়ার ২ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদটি প্রস্তুত হয়ে যায়।

২. বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে কি সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করা যাবে?

আবেদনকারীর জন্ম যদি ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে হয়, তবে বাবা-মায়ের এনআইডি কার্ড হলেই চলে, জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক নয়। তবে জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পরে হলে পিতা-মাতা উভয়েরই অনলাইন জন্ম সনদ এবং এনআইডি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

৩. নিজে অনলাইনে আবেদন করতে না পারলে করণীয় কী?

আপনি চাইলে সরাসরি আপনার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলার তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়েও সামান্য কিছু সার্ভিস ফি দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদনটি করিয়ে নিতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা এবং BDRIS গাইডলাইন।

Leave a Comment