এনআইডি কার্ড সংশোধন করার সহজ নিয়ম ২০২৬

বর্তমানে এনআইডি (NID) কার্ডে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম এবং ঠিকানা সংশোধন করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টালের (services.nidw.gov.bd) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আর আবেদন করার জন্য নির্ধারিত ফি অনলাইনে জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি (যেমন- জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদ) আপলোড করলে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হয়ে যাবে।

বর্তমানে স্মার্ট এনআইডি কার্ড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অনেক সময় অসাবধানতাবশত কার্ডে ভুল তথ্য চলে আসে। ২০২৬ সালে এসে এনআইডি সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং ডিজিটাল করা হয়েছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে জানবো কীভাবে আপনি কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজের ফোন বা কম্পিউটার দিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করবেন।

অনলাইনে এনআইডি কার্ড সংশোধনের ধাপসমূহ

নিচে কিভাবে অনলাইনে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করবেন তারপর পদ্ধতি দেওয়া হলো:

  1. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে NID Service ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার এনআইডি নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
  2. ফেস ভেরিফিকেশন: ‘NID Wallet’ অ্যাপের মাধ্যমে আপনার ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল স্ক্যান সম্পন্ন করুন।
  3. প্রোফাইলে প্রবেশ: লগইন করার পর ‘এডিট’ (Edit) বাটনে ক্লিক করুন।
  4. তথ্য সংশোধন: যে তথ্যটি পরিবর্তন করতে চান (যেমন: নাম বা জন্ম তারিখ) সেটি সঠিক করে লিখুন।
  5. ফি প্রদান: সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
  6. কাগজপত্র আপলোড: আপনার দাবির স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (স্ক্যান কপি) আপলোড করুন।
  7. আবেদন সাবমিট: সবশেষে পুনরায় চেক করে ‘সাবমিট’ করুন এবং ফর্মটি ডাউনলোড করে রাখুন।

এনআইডি সংশোধনের ফি কত? (২০২৬ আপডেট)

সংশোধনের ধরনপ্রথমবার ফি২য় বার ফি৩য় বার বা তদুর্ধ্ব
ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, বয়স)২৩০ টাকা৩৪৫ টাকা৫৭৫ টাকা
অন্যান্য তথ্য (ঠিকানা, রক্ত)১১৫ টাকা১৭৫ টাকা৩০০ টাকা
রি-ইস্যু (হারানো কার্ড)৩৪৫ টাকা৫৭৫ টাকা১,১৫০ টাকা

এনআইডি কার্ড সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সংশোধনের আবেদনের সাথে আপনাকে নিচের ডকুমেন্টগুলো অনলাইনে জমা দিতে হতে পারে:

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
  • এসএসসি বা সমমানের শিক্ষা সনদ।
  • পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি।
  • নিকাহনামা (নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)।
  • ইউটিলিটি বিলের কপি (ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য)।

টিপস: সব সময় মূল কপি থেকে স্ক্যান করে ফাইল আপলোড করার চেষ্টা করবেন, এতে আবেদন দ্রুত অনুমোদিত হয়।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

১. এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে?

সাধারণত অনলাইনে আবেদন করার পর ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এনআইডি সংশোধন হয়ে যায়। তবে তথ্যের গুরুত্ব অনুযায়ী এটি ক্যাটাগরিভেদে কম-বেশি হতে পারে।

২. স্মার্ট কার্ড সংশোধন কি ঘরে বসে করা সম্ভব?

হ্যাঁ, ২০২৬ সালে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

৩. ফি জমা দেওয়ার পর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়?

বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে ফি জমা দিলে তা সাথে সাথেই আপনার পোর্টালে আপডেট হয়ে যায়। এরপরই আপনি চূড়ান্ত আবেদন সাবমিট করতে পারবেন।

কেন আপনার তথ্য সংশোধন করা জরুরি?

ভুল এনআইডি কার্ডের কারণে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি, সরকারি ভাতার আবেদন বা সিম কার্ড কেনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত এবং সঠিক পদ্ধতিতে আপনার তথ্য আপডেট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

সোর্স ও তথ্যসূত্র:

এই নিবন্ধের সকল তথ্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (EC) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সাম্প্রতিক গেজেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সর্বশেষ আপডেটের জন্য সর্বদা nidw.gov.bd ভিজিট করুন।

Leave a Comment