পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ল: ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আবেদনের শেষ সুযোগ

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সময়সীমা আরও এক দফা বাড়িয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগ্রহী ভোটাররা আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এটিই আবেদনের শেষ সুযোগ বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপনি যদি নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করেন বা বিশেষ পেশায় নিয়োজিত থাকেন, তবে এই নিবন্ধের মাধ্যমে জেনে নিন কীভাবে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করবেন।

পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের নতুন সময়সীমা ও বর্তমান অবস্থা

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ভোটারদের সুবিধার্থে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

  • আবেদনের শেষ তারিখ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬।
  • নিবন্ধন মাধ্যম: ‘Postal Vote BD’ মোবাইল অ্যাপ।
  • বর্তমান পরিসংখ্যান: ৩০ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ ৫১ হাজার ভোটার সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

কারা পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করতে পারবেন?

সবাই পোস্টাল ভোটে অংশ নিতে পারেন না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির ভোটার এই সুবিধা পাবেন:

  1. নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা: যারা ভোটের দিন নির্বাচনী ডিউটিতে থাকবেন।
  2. সরকারি চাকুরিজীবী: যারা কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে নিজ এলাকায় নেই।
  3. প্রবাসী বাংলাদেশি: যারা বিদেশে অবস্থান করছেন কিন্তু ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত।
  4. কারাবন্দী ভোটার: যারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাগারে আটক রয়েছেন।
  5. শারীরিক প্রতিবন্ধী: যারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে অক্ষম।

‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

নির্বাচন কমিশন এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ:

  1. অ্যাপ ডাউনলোড: গুগল প্লে-স্টোর থেকে অফিসিয়াল ‘Postal Vote BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
  2. এনআইডি ভেরিফিকেশন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
  3. বর্তমান ঠিকানা প্রদান: আপনি বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছেন এবং যেখানে ব্যালট পেপার পেতে চান, সেই ঠিকানাটি সঠিকভাবে দিন।
  4. আবেদন সাবমিট: তথ্য যাচাই করে আবেদনটি সম্পন্ন করুন। আবেদন গৃহীত হলে আপনার ফোনে নিশ্চিতকরণ মেসেজ আসবে।

কেন সময়সীমা বাড়ানো হলো?

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো: রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক ভোটারের আগ্রহ এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক ভোটার যেন বাদ না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ এবং প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: ৫ জানুয়ারির পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই ব্যালট পেপার ডাকযোগে পেতে চাইলে আজই আপনার নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।

পোস্টাল ভোট নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন

১. পোস্টাল ভোট কী?

যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেন না, তারা ডাকযোগের মাধ্যমে বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিই হলো পোস্টাল ভোট।

২. আবেদনের জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?

না, পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পূর্ণ ফ্রি। ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ ব্যবহার করে কোনো খরচ ছাড়াই আবেদন করা যায়।

৩. প্রবাসী ভোটাররা কি এই সুবিধা পাবেন?

হ্যাঁ, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা দেশের বাইরে অবস্থান করেও পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে পারবেন।

৪. ব্যালট পেপার কখন পাওয়া যাবে?

নিবন্ধন সফল হওয়ার পর নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের আগেই আপনার ঠিকানায় ডাকযোগে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে (কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) ব্যালট সরবরাহ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (সচিবালয়), সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তারিখ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫। সর্বশেষ আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫।

Leave a Comment