প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ভর্তি সহায়তা ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) ২০২৬ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪,০০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৬,০০০ টাকা এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ৮,০০০ টাকা ভর্তি সহায়তা দিচ্ছে। অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা eservice.pmeat.gov.bd/admission ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট কী?

আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দিতে না হয় — এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট (PMEAT) গঠন করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে এই ট্রাস্টটি পরিচালিত হয়।

ট্রাস্ট থেকে মূলত চার ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়:

  • উপবৃত্তি (৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যায়)
  • ভর্তি সহায়তা (শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময়)
  • এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ফেলোশিপ
  • চিকিৎসা ও জরুরি আর্থিক সহায়তা

📌 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভর্তি সহায়তা নির্দেশিকা ২০২৬ জারি হয়েছে ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে। নির্দেশিকাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) কর্তৃক স্বাক্ষরিত।

ভর্তি সহায়তার পরিমাণ ২০২৬

২০২৬ সালের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো:

মাধ্যমিক ও সমমান
(৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণি)

৪,০০০

টাকা (এককালীন)

উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান
(একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি)

৬,০০০

টাকা (এককালীন)

স্নাতক ও সমমান
(ডিগ্রি/অনার্স ১ম বর্ষ)

৮,০০০

টাকা (এককালীন)

⚠️ লক্ষ্য করুন: পূর্বে (২০২৪-২৫ পর্যন্ত) মাধ্যমিকে ৫,০০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ৮,০০০ টাকা এবং স্নাতকে ১০,০০০ টাকা দেওয়া হতো। ২০২৬ সালের নতুন নির্দেশিকায় পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

ভর্তি সহায়তা পেতে হলে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

✅ মূল যোগ্যতা

  • দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী হতে হবে
  • পিতা/মাতা/অভিভাবকের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হতে হবে
  • পূর্ববর্তী শ্রেণিতে শতকরা ন্যূনতম ৬০% নম্বর অথবা GPA-তে সমমানের ফলাফল থাকতে হবে
  • নির্ধারিত ফরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ থাকতে হবে

🌟 অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণি

নিচের শিক্ষার্থীরা আবেদনে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন:

  • এতিম শিক্ষার্থী
  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বা যার অভিভাবক প্রতিবন্ধী
  • দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা অভিভাবক
  • অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
  • হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী (অভিভাবক নিম্ন আয়ের শ্রমিক)
  • জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর সন্তান
  • গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘অদম্য মেধাবী’ শিক্ষার্থী

⚠️ মনে রাখুন: স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে একই শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১ (এক) বার এই সহায়তা পাবেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২,০০০ (দুই হাজার) জন পর্যন্ত নির্বাচন করা হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

  • অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান: ব্রাউজারে https://www.eservice.pmeat.gov.bd/admission লিখে প্রবেশ করুন। এটিই একমাত্র অফিশিয়াল আবেদন পোর্টাল।
  • রেজিস্ট্রেশন করুন: মোবাইল নম্বর, জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। OTP কোড মোবাইলে আসবে — সেটি দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করুন।
  • আবেদন ফরম পূরণ করুন: ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক আয়ের তথ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, শ্রেণি ও পরীক্ষার ফলাফল সঠিকভাবে দিন।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন: নিচের তালিকা অনুযায়ী স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি আপলোড করুন।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিন: শিক্ষার্থী নিজের বা পিতা/মাতার অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন। পিতামাতা উভয়ই মৃত হলে শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া যাবে।
  • ফরম সাবমিট করুন ও প্রিন্ট নিন: সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট করুন। আবেদন সম্পন্ন হলে একটি নিশ্চিতকরণ নম্বর পাবেন — সেটি সংরক্ষণ করুন।
  • ফলাফল জানুন: নির্বাচিত হলে মোবাইলে SMS আসবে। অ্যাকাউন্টে লগইন করে ড্যাশবোর্ড থেকেও জানতে পারবেন। টাকা আসতে সাধারণত ৪–৬ মাস সময় লাগে।

কী কী কাগজপত্র লাগবে?

সকল শ্রেণির জন্য বাধ্যতামূলক

  • শিক্ষার্থীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি (৩০০×৩০০ পিক্সেল, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)
  • শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর (স্ক্যান বা স্পষ্ট ছবি)
  • জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
  • পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • নির্ধারিত ফরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ/প্রত্যয়ন
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবইয়ের প্রথম পাতার ছবি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট

বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজ

  • এতিম হলে: অভিভাবকের মৃত্যু সনদ
  • প্রতিবন্ধী হলে: প্রতিবন্ধী সনদ
  • মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলে: মুক্তিযোদ্ধা সনদের কপি
  • সরকারি কর্মচারীর সন্তান (২০তম গ্রেড) হলে: কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন
  • পিতামাতা উভয়ই মৃত হলে: উভয়ের মৃত্যু সনদ

আবেদনের সময়সীমা ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

পর্যায়বিজ্ঞপ্তি / তারিখঅবস্থা
মাধ্যমিক ভর্তি সহায়তা ২০২৬মার্চ–এপ্রিল ২০২৬আবেদন সম্পন্ন হয়েছে*
উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি সহায়তা ২০২৬এপ্রিল–মে ২০২৬বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত
স্নাতক ভর্তি সহায়তা ২০২৫-২৬ডিসেম্বর ২০২৫ – চলমানপ্রক্রিয়াধীন
পিএইচ.ডি ফেলোশিপ ২০২৬মে ২০২৬আবেদন চলমান

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ ও নির্ভুল তারিখের জন্য সরাসরি pmeat.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন।

নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে হয়?

আবেদন জমা পড়ার পর দুটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়:

ধাপ ১ — প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কমিটি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালকের নেতৃত্বে এই কমিটি আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে। যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়।

ধাপ ২ — মূল বাছাই কমিটি

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সভাপতিত্বে ১০ সদস্যের এই কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা থাকেন। চূড়ান্ত তালিকা এই কমিটিই অনুমোদন দেয়।

প্রতি উপজেলায় সর্বোচ্চ কতজন পাবেন?

প্রতিটি উপজেলা/শিক্ষা থানায় প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২০ জন এবং একাদশ ও সমমান শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি সহায়তা পাবেন।

টাকা কীভাবে পাবেন?

  • নির্বাচিত হলে মোবাইলে SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে
  • সহায়তার অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থী অথবা পিতা/মাতার অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে
  • পিতামাতা উভয়ই মৃত থাকলে শিক্ষার্থীর স্কুল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে
  • আবেদন সম্পন্নের পর সাধারণত ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে টাকা অ্যাকাউন্টে আসে
  • টাকা “বাউন্সব্যাক” হলে ট্রাস্ট তথ্য যাচাই করে পুনরায় পাঠায়

সচরাচর জিজ্ঞাসা

নিচে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

আমার পরিবারের আয় ৩ লক্ষের একটু বেশি — আবেদন করতে পারব?

না। নির্দেশিকা অনুযায়ী পিতা/মাতা/অভিভাবকের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (এতিম, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান) শ্রেণির জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হয়।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবেন?

হ্যাঁ। সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান — স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় — সবার জন্য এই সহায়তা প্রযোজ্য। আলিম ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আবেদন করতে পারবেন।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করব?

লগইন পেজ থেকে “আপনি কি পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?” লিংকে ক্লিক করুন। মোবাইল নম্বর, জন্ম সনদ নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে OTP পাঠানোর অনুরোধ করুন। সেই কোড দিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন।

একই শিক্ষার্থী কি প্রতি বছর আবেদন করতে পারবেন?

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ট্রাস্টের তহবিলের পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে সংখ্যা বাড়ানো-কমানো হয়। স্নাতক পর্যায়ে একই শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১ বার সহায়তা পাবেন।

কারিগরি শিক্ষার্থীরা কি এই সহায়তা পাবেন?

হ্যাঁ। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও যোগ্যতা পূরণ করলে আবেদন করতে পারবেন। বাছাই কমিটিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকেন।

MBBS বা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা কি বিশেষ সুবিধা পাবেন?

হ্যাঁ। MBBS, BSc Engineering ও BSc Nursing শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে আলাদা বিশেষ আর্থিক সহায়তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন চলমান রয়েছে।

ভর্তি সহায়তা ও উপবৃত্তি কি একসাথে পাওয়া যাবে?

ভর্তি সহায়তা ও উপবৃত্তি দুটি আলাদা কার্যক্রম। তবে একজন শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য যোগ্য হতে পারেন — শর্তাবলি পৃথক।

তথ্যসূত্র

  1. প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: pmeat.gov.bd
  2. ভর্তি সহায়তা আবেদন পোর্টাল: eservice.pmeat.gov.bd/admission
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা প্রদান নির্দেশিকা, ২০২৬ — মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
  4. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ: shed.gov.bd

দাবিত্যাগ: এই আর্টিকেলটি তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ ও নির্ভুল তথ্যের জন্য সরাসরি pmeat.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন।

সর্বশেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | তথ্যসূত্র: pmeat.gov.bd (সরকারি)

Leave a Comment