প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬” অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ‘ট্যালেন্টপুল’ এবং ‘সাধারণ’ এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে । চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক বা সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ৪০% শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে । প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম শতকরা ৪০ নম্বর পেলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে । উল্লেখ্য যে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এই নতুন নীতিমালার আলোকেই অনুষ্ঠিত হবে ।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ কী এবং এর লক্ষ্য কী?
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি দিতে বৃত্তি পরীক্ষা একটি অন্যতম মাধ্যম । এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে নিয়মিত অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগানো । ছেলে ও মেয়ে এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করে সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এই নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে ।
বৃত্তি পরীক্ষায় কারা অংশগ্রহণ করতে পারবে?
বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে:
- সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে ।
- চতুর্থ শ্রেণির সকল প্রান্তিকের সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে শতকরা সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে ।
- যদি ৪০% এর বেশি শিক্ষার্থীর মোট প্রাপ্ত নম্বর একই হয়ে যায়, তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বরপ্রাপ্তরা সুযোগ পাবে ।
- কোনো শিক্ষার্থী একবার ডিআরভুক্ত (Descriptive Role) হয়ে গেলে তাকে দ্বিতীয়বার আর ডিআরভুক্ত করা যাবে না ।
পরীক্ষার বিষয়, নম্বর বণ্টন ও সময়সূচি
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে । নিচে পরীক্ষার মানবণ্টন ও সময়সূচি দেওয়া হলো:
| বিষয় | পূর্ণমান | সময় | মন্তব্য |
| বাংলা | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | |
| ইংরেজি | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | |
| প্রাথমিক গণিত | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০) এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান (৫০) | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। |
গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০% নম্বর পেতে হবে ।
বৃত্তির ধরন ও কোটা বণ্টন
মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দুই ধরনের বৃত্তি প্রদান করা হবে:
- ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: উপজেলা বা থানার সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মেধার ক্রমানুসারে এই বৃত্তি দেওয়া হবে ।
- সাধারণ বৃত্তি: ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক মেধা অনুযায়ী এই বৃত্তি প্রদান করা হবে ।
কোটা ব্যবস্থা: * উভয় ধরনের বৃত্তির ক্ষেত্রে ৫০% ছাত্র এবং ৫০% ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে ।
- মোট বৃত্তির ৮০% সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০% বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ।
ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ বা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার নিয়ম
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর যদি কোনো অভিভাবক মনে করেন যে উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়নি, তবে তারা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন ।
- আবেদনের সময়সীমা: ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের বরাবর আবেদন করতে হবে । তবে ২০২৫ সালের পরীক্ষার জন্য ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে ।
- আবেদন ফি: প্রতি বিষয়ের জন্য ৩০০/- (তিনশত) টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে জমা দিতে হবে ।
- তবে, পুনঃনিরীক্ষার সময় খাতার নম্বর পুনরায় যোগ করে দেখা হবে, কিন্তু নতুন করে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে না ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. বৃত্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর কত?
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্তির জন্য প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম শতকরা ৪০ নম্বর পেতে হবে ।
২. পরীক্ষার প্রশ্ন কোথা থেকে আসবে?
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক অনুসারে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে ।
৩. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা কি কোনো সুবিধা পাবে?
হ্যাঁ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে । প্রয়োজনে তারা চতুর্থ শ্রেণি বা তার নিচের শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে ।
৪. পরীক্ষার হলে কী কী নেওয়া নিষেধ?
পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষেধ ।
তথ্যসূত্র ও আপডেট: এই আর্টিকেলের সকল তথ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬” থেকে সংগৃহীত ।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।