২০২৬ সালে বাংলাদেশে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ন্যূনতম সম্পদ: রুপার নিসাব অনুযায়ী কারো কাছে যদি প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) বা সমপরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর (হওল) গচ্ছিত থাকে, এবং তিনি মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাধীন হন, তবে তার উপর যাকাত ফরজ।
সতর্কনোট: সোনা-রুপার বাজারমূল্য প্রতিদিন পরিবর্তন হয়। তাই যাকাত আদায়ের আগে বর্তমান বাজার দর যাচাই করুন।
যাকাত কেন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
রমজান মাস আসলেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে “আমার কি যাকাত দিতে হবে? বর্তমানে ঠিক কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?”
এই প্রশ্নটি শুধু ধর্মীয় নয়, বাস্তব জীবনেরও। কারণ যাকাত না দিলে সম্পদে বরকত কমে, আর যাকাত দেওয়ার হক না থাকলেও দিলে অর্থ অপচয় হয় দুটোই সমস্যা।
যাকাত ও নিসাব কী?
যাকাত কী?
যাকাত (আরবি: زكاة) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এর আক্ষরিক অর্থ “পবিত্রতা” ও “বৃদ্ধি”। সম্পদে যাকাত দেওয়া হলে বাকি সম্পদ পবিত্র হয় এবং বরকত বাড়ে।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বারবার নামাজ ও যাকাতের কথা একসাথে উল্লেখ করেছেন: যেমন সূরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে।
নিসাব কী?
নিসাব হলো সেই ন্যূনতম পরিমাণ সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। নিসাবের পরিমাণ দুইটি মাপকাঠিতে নির্ধারিত:
| মাপকাঠি | পরিমাণ | ২০২৬ সালে বাজারমূল্য (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| সোনা | ৭.৫ ভরি (≈৮৭.৪৮ গ্রাম) | প্রায় ১৯,৪১,০০০ টাকা |
| রুপা | ৫২.৫ ভরি (≈৬১২ গ্রাম) | প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা |
কোন নিসাব ধরবেন? অধিকাংশ ইসলামি স্কলার ও হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নগদ টাকা, ব্যবসার মাল ও মিশ্র সম্পদের ক্ষেত্রে রুপার নিসাব গ্রহণ করতে হবে। কারণ এতে বেশি মানুষ যাকাতের আওতায় আসেন এবং দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হন। (সূত্র: আহসানুল ফতোয়া: ৪/৩৯৪; আল ফিকহুল ইসলামি: ২/৬৬৯)
২০২৬ সালে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?
রুপার নিসাব অনুযায়ী (নগদ টাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য এবং জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুরের ফতোয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী:
✅ ২০২৬ সালে যাকাতের নিসাব (রুপা ভিত্তিক): প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা
অর্থাৎ, আপনার কাছে যদি নগদ বা সমমানের সম্পদ মিলিয়ে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি এক বছর (হওল) গচ্ছিত থাকে, তাহলে আপনাকে যাকাত দিতে হবে।
সোনার নিসাব অনুযায়ী
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাজুস ঘোষিত ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য প্রতি ভরি ২,৫৮,৮২৪ টাকা হিসেবে:
✅ ৭.৫ ভরি × ২,৫৮,৮২৪ ≈ ১৯,৪১,১৮০ টাকা (সোনার নিসাব)
মনে রাখবেন: বাজারমূল্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ সঠিক নিসাব জানতে bajus.org বা আপনার নিকটস্থ মসজিদের ইমাম বা ইসলামি স্কলারের সাথে যোগাযোগ করুন।
যাকাত কত দিতে হবে?
যাকাতের হার সবসময় এক। মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)।
সূত্র:
যাকাতের পরিমাণ = মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ × ২.৫ ÷ ১০০
উদাহরণ:
- আপনার কাছে ৫ লক্ষ টাকা আছে → যাকাত = ৫,০০,০০০ × ২.৫% = ১২,৫০০ টাকা
- আপনার কাছে ১০ লক্ষ টাকা আছে → যাকাত = ১০,০০,০০০ × ২.৫% = ২৫,০০০ টাকা
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তগুলো কী কী?
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিচের সবগুলো শর্ত পূরণ হতে হবে:
- মুসলমান হওয়া — অমুসলিমদের উপর যাকাত ফরজ নয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া — নাবালকের সম্পদেও কিছু মাজহাব মতে যাকাত ফরজ।
- স্বাধীন হওয়া — দাস-দাসীর উপর যাকাত নেই (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে)।
- নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা — রুপার নিসাব অনুযায়ী ২,৩০,০০০ টাকা বা তার বেশি।
- সম্পদ নিসাবমুক্ত ও প্রকৃত মালিকানায় থাকা — ঋণগ্রস্ত সম্পদ বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।
- হওল পূর্ণ হওয়া — সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর (প্রায় ৩৫৪ দিন) গচ্ছিত থাকতে হবে।
কোন কোন সম্পদে যাকাত দিতে হয়?
যাকাত দিতে হয় এমন সম্পদ:
- নগদ টাকা ও ব্যাংক ব্যালেন্স — সেভিংস, কারেন্ট, FDR, DPS, মোবাইল ব্যাংকিং সব অন্তর্ভুক্ত
- সোনা ও রুপা — ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত সব ধরনের গহনা, বার, মুদ্রা (হানাফি মাজহাব মতে)
- ব্যবসায়িক পণ্য (মালামাল) — বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত যেকোনো পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য
- শেয়ার ও বিনিয়োগ — শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বর্তমান বাজারমূল্যের ২.৫%
- সঞ্চয়পত্র ও প্রভিডেন্ট ফান্ড — মূল টাকা + জমা মুনাফা মিলিয়ে হিসাব
- দেওয়া ঋণ — যে টাকা অন্যকে ধার দিয়েছেন এবং ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা আছে
যাকাত দিতে হয় না এমন সম্পদ:
- নিজ বসবাসের বাড়ি ও পরিবহন
- ব্যক্তিগত ব্যবহারের আসবাবপত্র
- ব্যবহারের জন্য রাখা কাপড়-চোপড়
- কৃষি জমি (তবে ফসলে উশর/দশমাংশ প্রযোজ্য)
- ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি (সম্পত্তিতে নয়, ভাড়া আয়ে যাকাত হতে পারে)
ধাপে ধাপে যাকাতের হিসাব করুন
সমস্ত যাকাতযোগ্য সম্পদ তালিকা করুন
আপনার কাছে যা যা আছে তার হিসাব করুন:
- নগদ টাকা + ব্যাংক ব্যালেন্স
- সোনার গহনা (বর্তমান বাজারমূল্য)
- রুপার গহনা (বর্তমান বাজারমূল্য)
- ব্যবসার মাল (বর্তমান বাজারমূল্য)
- শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র
- পাওনা ঋণ (আদায়যোগ্য অংশ)
দেনা ও ঋণ বাদ দিন
আপনার উপর যদি কোনো ঋণ থাকে (ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক), তা মোট সম্পদ থেকে বিয়োগ করুন।
নিট যাকাতযোগ্য সম্পদ = মোট সম্পদ − দেনা/ঋণ
নিসাবের সাথে তুলনা করুন
নিট সম্পদ যদি ২,৩০,০০০ টাকা (রুপার নিসাব, ২০২৬) বা তার বেশি হয় → যাকাত ফরজ।
হওল পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন
এই পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর ধরে রয়েছে কি? যদি হ্যাঁ, তাহলে পরের ধাপে যান।
যাকাতের পরিমাণ নির্ণয় করুন
যাকাত = নিট সম্পদ × ২.৫%
বাস্তব উদাহরণ: আব্দুর রহিম সাহেবের যাকাত হিসাব
আব্দুর রহিম সাহেবের সম্পদের বিবরণ:
- নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স: ৩,০০,০০০ টাকা
- সোনার গহনা (২ ভরি, বর্তমান মূল্য): ৫,১৭,৬৪৮ টাকা
- ব্যবসার মাল: ২,০০,০০০ টাকা
- ব্যাংক ঋণ: ১,০০,০০০ টাকা
হিসাব:
- মোট সম্পদ: ৩,০০,০০০ + ৫,১৭,৬৪৮ + ২,০০,০০০ = ১০,১৭,৬৪৮ টাকা
- ঋণ বাদ: ১০,১৭,৬৪৮ − ১,০০,০০০ = ৯,১৭,৬৪৮ টাকা (নিট যাকাতযোগ্য সম্পদ)
- নিসাব: ২,৩০,০০০ টাকার বেশি → যাকাত ফরজ
- যাকাত: ৯,১৭,৬৪৮ × ২.৫% = ২২,৯৪১ টাকা
FDR, DPS ও সঞ্চয়পত্রে যাকাত কীভাবে দেবেন?
এই বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্পষ্ট। সহজ উত্তর:
FDR ও DPS: মূল টাকা + জমা মুনাফা — উভয় মিলিয়ে মোট অঙ্কের ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
সঞ্চয়পত্র: মূল বিনিয়োগ + প্রাপ্ত মুনাফা মিলিয়ে ২.৫% যাকাত প্রযোজ্য।
প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF/CPF): আপনার অংশের জমা টাকার উপর হওল পূর্ণ হলে যাকাত দেওয়া উচিত।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে যাকাত কীভাবে হিসাব করবেন?
- শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করুন (ক্রয়মূল্য নয়)
- হওল পূর্ণ হওয়ার দিন মার্কেট ভ্যালু ধরে ২.৫% যাকাত দিন
- লভ্যাংশ (Dividend) প্রাপ্ত হলে সেটিও যোগ করুন
ব্যবহারের গহনায় কি যাকাত দিতে হয়?
হানাফি মাজহাব মতে: হ্যাঁ, ব্যবহৃত বা অব্যবহৃত সব ধরনের সোনা-রুপার গহনায় যাকাত দিতে হবে, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়।
অনেক মায়েরা মনে করেন নিত্যব্যবহার্য গহনায় যাকাত নেই। এটি হানাফি মাজহাবে সঠিক নয়।
যাকাত ও ইনকাম ট্যাক্স কি এক?
না, সম্পূর্ণ আলাদা।
- ইনকাম ট্যাক্স: রাষ্ট্রকে প্রদেয়, আয়ের উপর নির্ভরশীল।
- যাকাত: আল্লাহর হক, সঞ্চিত সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
সরকারকে ট্যাক্স দিলে যাকাত মাফ হয় না। দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বাধ্যবাধকতা।
যাকাত কাদের দেওয়া যাবে?
আল্লাহ তায়ালা কুরআনের সূরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাত গ্রহণের যোগ্য আট শ্রেণী নির্ধারণ করেছেন:
- ফকির — যার কিছুই নেই
- মিসকিন — যার সামান্য আছে কিন্তু প্রয়োজন মেটে না
- আমিল — যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত
- মুআল্লাফাতুল কুলুব — ইসলামের প্রতি আগ্রহী নওমুসলিম
- রিকাব — দাসমুক্তির জন্য (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট)
- গারিমিন — ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি
- ফি সাবিলিল্লাহ — আল্লাহর পথে জিহাদরত
- ইবনুস সাবিল — মুসাফির, পথে আটকে পড়া ব্যক্তি
গুরুত্বপূর্ণ: নিজের মা-বাবা, ছেলেমেয়ে বা স্বামী-স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
যাকাত কখন দেওয়া উচিত?
যাকাত বছরের যেকোনো সময় দেওয়া যায়, তবে বেশিরভাগ মুসলমান রমজান মাসে দেওয়া পছন্দ করেন, কারণ এই মাসে সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
হওলের হিসাব: আপনি যে তারিখে প্রথমবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, সেই একই তারিখে পরের বছর যাকাত দেওয়া উত্তম। তবে রমজানে একটু আগে দিলেও সমস্যা নেই।
সাধারণ ভুলগুলো যা এড়ানো উচিত
ভুল ১: শুধু নগদ টাকার হিসাব করা → সোনার গহনা, ব্যবসার মাল ও শেয়ারও যোগ করতে হবে।
ভুল ২: বাড়ি বা গাড়ির মূল্য যোগ করা → নিজ ব্যবহারের বাড়ি-গাড়িতে যাকাত নেই।
ভুল ৩: ঋণ না কাটা → যাকাত হিসাবের আগে সব ঋণ বাদ দিতে হবে।
ভুল ৪: গত বছরের নিসাব দিয়ে হিসাব করা → প্রতি বছর সোনা-রুপার দাম পরিবর্তন হয়, তাই চলতি বছরের বাজারমূল্য ব্যবহার করুন।
ভুল ৫: হওল গণনা না করা → সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর না থাকলে যাকাত ফরজ নয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে কত টাকায় যাকাত ফরজ হয়?
উত্তর: ২০২৬ সালে রুপার নিসাব অনুযায়ী প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা) বা তার বেশি সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর গচ্ছিত থাকলে যাকাত ফরজ হয়। (সূত্র: জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর, ২০২৬)
প্রশ্ন: কত ভরি সোনায় যাকাত ফরজ হয়?
উত্তর: ৭.৫ ভরি (সাড়ে সাত তোলা) বা তার বেশি সোনা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। ২০২৬ সালের বাজারমূল্যে এর পরিমাণ প্রায় ১৯,৪১,০০০ টাকার সমান।
প্রশ্ন: কত ভরি রুপায় যাকাত ফরজ হয়?
উত্তর: ৫২.৫ ভরি (সাড়ে বায়ান্ন তোলা) বা তার বেশি রুপা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। ২০২৬ সালে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ২,৩০,০০০ টাকা।
প্রশ্ন: যাকাত কত পার্সেন্ট দিতে হয়?
উত্তর: মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (চল্লিশ ভাগের এক ভাগ) যাকাত দিতে হয়। উদাহরণ: ১০ লক্ষ টাকার সম্পদে ২৫,০০০ টাকা যাকাত।
প্রশ্ন: সোনার নিসাব ধরবো নাকি রুপার নিসাব?
উত্তর: যদি শুধু সোনা থাকে, তাহলে সোনার নিসাব ধরুন। যদি নগদ টাকা, ব্যবসার মাল বা মিশ্র সম্পদ থাকে, তাহলে রুপার নিসাব (কম নিসাব) ধরুন — এটিই হানাফি মাজহাব ও অধিকাংশ স্কলারের মত।
প্রশ্ন: ব্যাংকে রাখা টাকায় কি যাকাত দিতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট, FDR, DPS — সব ধরনের জমা অর্থ (মূল + মুনাফা সহ) নিসাব পরিমাণ হলে এবং হওল পূর্ণ হলে যাকাত দিতে হবে।
প্রশ্ন: যাকাত না দিলে কি হয়?
উত্তর: যাকাত ফরজ হওয়ার পরও না দিলে এটি কবিরা গুনাহ। কুরআনে (সূরা তাওবা: ৩৪-৩৫) এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। এছাড়া সম্পদের বরকত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রশ্ন: হওল কী এবং কীভাবে গণনা করব?
উত্তর: হওল হলো পূর্ণ এক চান্দ্রবছর (প্রায় ৩৫৪ দিন)। আপনি যেদিন প্রথমবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন, ঠিক এক চান্দ্রবছর পর যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝখানে সম্পদ কিছুটা কমলেও বছরের শেষে নিসাব পরিমাণ থাকলে যাকাত দিতে হবে।
প্রশ্ন: জমি বা ফ্ল্যাটে কি যাকাত আছে?
উত্তর: বসবাসের জন্য রাখা জমি বা ফ্ল্যাটে যাকাত নেই। কিন্তু যদি বিক্রির উদ্দেশ্যে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা হয়, তাহলে তার বর্তমান বাজারমূল্যের ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
যাকাত আদায়ের বাস্তব পরামর্শ
বাংলাদেশে সবচেয়ে কার্যকরভাবে যাকাত পৌঁছে দেওয়ার কয়েকটি উপায়:
- সরাসরি দরিদ্র পরিবারকে দিন — সবচেয়ে নিশ্চিত ও সওয়াবজনক পদ্ধতি
- বিশ্বস্ত যাকাত সংস্থার মাধ্যমে — যেমন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (CZM), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
- স্থানীয় মসজিদের ইমামের পরামর্শে — নিজের এলাকার অভাবী মানুষের সন্ধান পাবেন
- শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ — গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন
💡 টিপস: যাকাতের টাকা নগদ দেওয়াই উত্তম, তবে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও যাকাত আদায় হবে। (সূত্র: আবু দাউদ: ১৫৭২; তিরমিজি: ৬২৩)
শেষকথা
যাকাত শুধু একটি আর্থিক ইবাদত নয়। এটি সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ইসলামি পদ্ধতি। ২০২৬ সালে রুপার নিসাব অনুযায়ী প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মালিক হলেই যাকাত ফরজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যা বর্তমানের বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অনেকের জন্যই প্রযোজ্য।
আজই আপনার সম্পদের সঠিক হিসাব করুন। নিসাব পূর্ণ হলে এবং হওল পূর্ণ হলে দেরি না করে যাকাত আদায় করুন। এতে আপনার সম্পদ পবিত্র হবে, বরকত বাড়বে এবং সমাজের দরিদ্র মানুষেরাও উপকৃত হবেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর, ঢাকা — যাকাত ও ফিতরার নিসাব ঘোষণা ২০২৬
- সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (CZM) বাংলাদেশ
- আহসানুল ফতোয়া: ৪/৩৯৪ — নগদ টাকার নিসাব
- আল ফিকহুল ইসলামি: ২/৬৬৯ — রুপার নিসাব অনুসরণের দলিল
- পবিত্র কুরআন — সূরা তাওবা: ৬০ (যাকাতের খাত), সূরা বাকারা: ৪৩
- হাদিস — আবু দাউদ: ১৫৭২; তিরমিজি: ৬২৩
ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত আর্থিক পরিমাণ বাজারমূল্যের উপর নির্ভরশীল এবং পরিবর্তনশীল। সর্বশেষ নিসাব জানতে সর্বদা বর্তমান বাজারদর যাচাই করুন।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।