মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬” জারি করা হয়েছে । মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই নতুন নীতিমালা পূর্বের সকল আদেশ ও নির্দেশকে রহিত করে কার্যকর করা হয়েছে

আপনি যদি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হন কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে চান তবে এই ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালার প্রতিটি আপডেট আপনার জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিচে সহজ ও সাবলীল ভাষায় এই নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো।

মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬ (একনজরে প্রধান আপডেট)

বেসরকারি মাদ্রাসা সমূহের (দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল) জনবল কাঠামো এবং এমপিও প্রদানের প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করতেই এই নীতিমালা প্রণীত হয়েছে । এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ রাখা হয়েছে

মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর । তবে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এটি শিথিলযোগ্য । নতুন নীতিমালায় মাদ্রাসার স্তরভেদে জনবল কাঠামো বাড়ানো হয়েছে; যেমন: দাখিল মাদ্রাসার জন্য ৩৩ ধরনের পদ এবং কামিল মাদ্রাসার জন্য ৫২ ধরনের পদ নির্ধারিত হয়েছে । এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানকে ১০০ নম্বরের গ্রেডিং পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ হতে হয় ।

দাখিল মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬: জনবল কাঠামো

নতুন নীতিমালায় দাখিল মাদ্রাসা (১ম-১০ম শ্রেণি) এবং ভোকেশনাল শাখার জন্য সুনির্দিষ্ট জনবল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে

  • মোট পদ সংখ্যা: দাখিল মাদ্রাসার জন্য বর্তমানে ৩৩ (তেত্রিশ) ধরনের পদের সংস্থান রাখা হয়েছে ।
  • প্রধান পদসমূহ: সুপারিনটেনডেন্ট, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ে সহকারী মৌলভী ও সহকারী শিক্ষক ।
  • শাখা খোলার শর্ত: প্রতি শাখায় ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে; পরবর্তী শাখার জন্য আরও ৪০ জন শিক্ষার্থী প্রয়োজন ।
  • ছাত্রী শাখা: কোনো ক্লাসে ২৫ জন ছাত্রী থাকলে আলাদা শাখা খোলার সুযোগ রয়েছে ।

মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালা ২০২৬: শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার এবার আরও কঠোর এবং মানসম্মত যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে

১. চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা

মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে প্রবেশের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছর । তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়স শিথিলযোগ্য । এমপিও সুবিধা সর্বোচ্চ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পাওয়া যাবে

২. উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি

  • সহকারী অধ্যাপক: প্রভাষক হিসেবে এমপিওভুক্তির ৮ বছর পূর্ণ হলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৫০% শিক্ষক ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি পাবেন ।
  • টাইম স্কেল/উচ্চতর গ্রেড: সন্তোষজনক চাকরির ১০ বছর পূর্ণ হলে একটি উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ৬ বছর পর আরেকটি উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন । সমগ্র জীবনে সর্বোচ্চ ২টি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে ।
  • অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট: এম.ফিল ডিগ্রির জন্য ২ টি এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ৩ টি অগ্রিম বেতন বৃদ্ধি (ইক্রিমেন্ট) সুবিধা রাখা হয়েছে ।

সংশোধিত এমপিও নীতিমালা ২০২৬ মাদ্রাসা

নতুন কোনো মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইন আবেদনের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে

ক্রমিকবিবেচ্য ক্ষেত্রপূর্ণমানমান বণ্টন পদ্ধতি
একাডেমিক স্বীকৃতি২০প্রতি বছরের জন্য ১ নম্বর
প্রতিষ্ঠানের জমি২০কাম্য জমি থাকলে পূর্ণ নম্বর
অবকাঠামো১৫পাকা অবকাঠামোর জন্য পূর্ণ নম্বর
শিক্ষার্থী সংখ্যা১৫পরিশিষ্ট ‘খ’ অনুযায়ী কাম্য সংখ্যার ভিত্তিতে
পরীক্ষার্থী সংখ্যা১৫পরিশিষ্ট ‘গ’ অনুযায়ী কাম্য সংখ্যার ভিত্তিতে
পাসের হার১৫পাবলিক পরীক্ষায় অর্জিত ফলাফল অনুযায়ী

এমপিও প্রাপ্তির জন্য আবশ্যকীয় রেকর্ডপত্রের তালিকা

নতুন এমপিও আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়নকৃত নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদ ও নম্বরপত্র ।
  • NTRCA নিবন্ধন সনদ ও ছবিযুক্ত সুপারিশপত্র ।
  • নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি ।
  • প্রথম ও সর্বশেষ স্বীকৃত ও অধিভুক্তি পত্র ।

আপনার জিজ্ঞাসা ও সমাধান

মাদ্রাসা শিক্ষকদের অবসরের বয়স কত? মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রদান করা হবে । ৬০ বছর পূর্ণ হলে কোনোভাবেই পুনর্নিয়োগ বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না

ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা কি এক মাদ্রাসা থেকে অন্য মাদ্রাসায় যেতে পারবেন? হ্যাঁ, ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারী এক প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে সমপদে যোগদান করলে পূর্ব অভিজ্ঞতা গণনাযোগ্য হবে । এছাড়া বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে আবেদনের সুযোগও রয়েছে

বিএড স্কেল কি বাধ্যতামূলক? দাখিল স্তরের সহকারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ৫ বছরের মধ্যে বিএড/বিএমএড বা সমমান ডিগ্রি অর্জন করতে হবে, অন্যথায় তারা ১০ম গ্রেড প্রাপ্য হবেন না

শেষকথা

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৬ মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি যুগান্তকারী দলিল। এটি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শিক্ষকদের অধিকার যেমন রক্ষা পাবে তেমনি মাদ্রাসাগুলোতে যোগ্য জনবল নিশ্চিত হবে।

তথ্যসূত্র: কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ।

Leave a Comment