অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্তটি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে।
এক নজরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নতুন ভাতার হার
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অপরিবর্তিত থাকলেও, বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ পরিবারের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
| ক্যাটাগরি | পুরোনো হার (টাকা) | নতুন হার (টাকা) | মন্তব্য |
| খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা | ২০,০০০ | ২৫,০০০ | ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি |
| শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার | ২০,০০০ | ২৫,০০০ | ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি |
| সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধা | ২০,০০০ | ২০,০০০ | অপরিবর্তিত |
অতিরিক্ত সুবিধা: মাসিক ভাতার পাশাপাশি ঈদ বোনাস, স্বাধীনতা দিবস ভাতা (৫,০০০ টাকা) এবং পহেলা বৈশাখ ভাতা (২,০০০ টাকা) আগের মতোই বলবৎ থাকবে।
✅ কারা এই ভাতার আওতাভুক্ত?
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নিচের ব্যক্তিরা ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন:
- সরকার কর্তৃক যুদ্ধাহত সনদ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
- খেতাবপ্রাপ্ত (বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক) মুক্তিযোদ্ধা।
- শহীদ বা মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার (স্ত্রী, সন্তান বা বৈধ ওয়ারিশ)।
- শারীরিকভাবে অক্ষম মুক্তিযোদ্ধা (এ-ডি শ্রেণি অনুযায়ী)।
📝 আবেদন প্রক্রিয়া
নতুন কেউ আবেদন করতে চাইলে বা তথ্য হালনাগাদ করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- যোগ্যতা যাচাই: প্রথমে আপনার যুদ্ধাহত সনদ, জন্ম সনদ এবং NID কার্ড নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড অফিসে যোগাযোগ করুন।
- ফর্ম সংগ্রহ: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ওয়েবসাইট (bffwt.gov.bd) বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করুন।
- কাগজপত্র প্রস্তুতকরণ:
- যুদ্ধাহত সনদ বা গেজেট নম্বর।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সচল বিবরণী।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও সত্যায়িত জাতীয় পরিচয়পত্র।
- জমা দান: পূরণকৃত ফর্ম ও কাগজপত্র উপজেলা/জেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে জমা দিন অথবা mygov.bd পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করুন।
- যাচাই ও অনুমোদন: কমিটি আপনার তথ্য যাচাই করার পর ব্যাংকে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা করবে।
তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং স্থানীয় সরকারি নোটিশ।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।