সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নতুন নিয়ম ২০২৬

সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে নির্ধারিত SC-1 ফরম পূরণ করে নিকটস্থ ব্যাংক, ডাকঘর বা জেলা সঞ্চয় অফিসে জমা দিতে হয়। সাথে লাগবে NID/পাসপোর্টের ফটোকপি, ২ কপি ছবি এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর। ২ লাখ টাকার বেশি কিনতে TIN এবং ৫ লাখের বেশি কিনতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বাধ্যতামূলক। একক নামে সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ৫০ লাখ টাকা (পেনশনার ১ কোটি)। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নতুন মুনাফার হার ১২.২৫%–১২.৫৫% কার্যকর হয়েছে।

সঞ্চয়পত্র কেন বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ?

আপনি যদি ঝুঁকিমুক্ত, নিশ্চিত মুনাফায় আপনার কষ্টের টাকা রাখতে চান, তাহলে বাংলাদেশ সরকারের সঞ্চয়পত্র এখনও সেরা বিকল্পগুলোর একটি। ব্যাংক এফডিআর বা শেয়ারবাজারের মতো এখানে আপনার মূলধন হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই কারণ এটি সরাসরি সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত।

তবে গত কয়েক বছরে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। TIN বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিনিয়োগসীমা পুনর্নির্ধারণ হয়েছে এবং ২০২৫ সালের শুরু থেকে মুনাফার হারও নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে। তাই ব্যাংকে যাওয়ার আগে এই নতুন নিয়মগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার।

এই আর্টিকেলে আপনি পাবেন সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম, কেনার ধাপে ধাপে পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সর্বশেষ মুনাফার হার এবং সাধারণ ভুলগুলো থেকে বাঁচার উপায়।

সঞ্চয়পত্রের ধরন [বর্তমানে ৪টি স্কিম]

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে নিচের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র পাওয়া যাচ্ছে:

পরিবার সঞ্চয়পত্র (সবচেয়ে জনপ্রিয়)

মেয়াদ৫ বছর
মূল্যমান১০,০০০ / ২০,০০০ / ৫০,০০০ / ১ লাখ / ২ লাখ / ৫ লাখ / ১০ লাখ টাকা
যারা কিনতে পারবেন১৮+ বছরের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ এবং ৬৫+ বছরের নারী-পুরুষ
মুনাফা প্রাপ্তিপ্রতি মাসে
সর্বোচ্চ সীমা (একক)৪৫ লাখ টাকা
নতুন মুনাফার হারমেয়াদান্তে ১২.৫৫% (৫ লাখ পর্যন্ত), ১২.৩৭% (৭.৫ লাখ পর্যন্ত), ১২.২৫% (৭.৫ লাখের বেশি)
প্রতি লাখে মাসিক মুনাফা৯৮৯–৯৯০ টাকা (উৎসে কর কাটার পর)

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

মেয়াদ৩ বছর
মূল্যমান১ লাখ / ২ লাখ / ৫ লাখ / ১০ লাখ টাকা
যারা কিনতে পারবেন১৮+ বছরের যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক (নারী-পুরুষ)
মুনাফা প্রাপ্তিপ্রতি ৩ মাসে একবার
সর্বোচ্চ সীমা (একক)৩০ লাখ টাকা
নতুন মুনাফার হারমেয়াদান্তে ১২.৩০% (৭.৫ লাখ পর্যন্ত)
প্রতি লাখে ত্রৈমাসিক মুনাফাপ্রায় ২,৯২১ টাকা (৫ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে)

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

মেয়াদ৫ বছর
প্রবর্তন১৯৭৭ সাল
যারা কিনতে পারবেন১৮+ বছরের যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক
মুনাফা প্রাপ্তিমেয়াদান্তে একবার
মেয়াদান্তে মুনাফার হার১১.২৮%
বিশেষ দ্রষ্টব্যব্যাংক ও ডাকঘরে পাওয়া যায় না শুধু জেলা সঞ্চয় অফিস থেকে কিনতে হয়

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

মেয়াদ৫ বছর
যারা কিনতে পারবেনঅবসরপ্রাপ্ত সরকারি/আধা-সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের মনোনীত পরিবার
মুনাফা প্রাপ্তিপ্রতি মাসে
সর্বোচ্চ সীমা (একক)১ কোটি টাকা
সর্বোচ্চ সীমা (যৌথ)১.৫ কোটি টাকা
মুনাফার হারসর্বোচ্চ ১২.৫৫%
কর সুবিধা৫ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর অব্যাহতি

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কত টাকার কিনতে পারবেন?

সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে সমন্বিত বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের ছকটি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে:

বিনিয়োগকারীর ধরনএকক নামে সর্বোচ্চযৌথ নামে সর্বোচ্চ
সাধারণ নাগরিক৫০ লাখ টাকা১ কোটি টাকা
পেনশনার১ কোটি টাকা১.৫ কোটি টাকা
৩ মাস অন্তর স্কিম (আলাদা)৩০ লাখ টাকা৬০ লাখ টাকা

মনে রাখবেন: পরিবার সঞ্চয়পত্র সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ পর্যন্ত কেনা যায়। বাকি ৫ লাখ অন্য ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে হবে।

নতুন মুনাফার হার ২০২৫-২০২৬

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে যেখানে সর্বনিম্ন ১১.০৪% এবং সর্বোচ্চ ১১.৭৬% ছিল, নতুন হারে সর্বনিম্ন ১২.২৫% এবং সর্বোচ্চ ১২.৫৫% নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে জানুয়ারি ২০২৬-তে একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল মুনাফার হার ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার (নতুন নিয়ম, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে)

নগদায়নের সময়১ম ধাপ (≤৭.৫ লাখ)২য় ধাপ (>৭.৫ লাখ)
১ম বছরান্তে৯.৮১%৯.৭৭%
২য় বছরান্তে১০.২৯%১০.২৪%
৩য় বছরান্তে১০.৮০%১০.৭৫%
৪র্থ বছরান্তে১১.৩৫%১১.২৯%
মেয়াদান্তে (৫ বছর)১২.৫৫% / ১২.৩৭%১২.২৫%

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরে যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন শুধুমাত্র তারাই নতুন হারে মুনাফা পাবেন। পুরোনো ক্রেতারা আগের হারেই পাবেন।

সঞ্চয়পত্র কেনার ধাপে ধাপে পদ্ধতি

ব্যাংক বা ডাকঘরে গিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার কাজটা আসলে বেশ সহজ। তবে আগে থেকে সব কাগজপত্র গুছিয়ে নিলে একবারেই কাজ সেরে আসতে পারবেন।

ধাপ ১: কোন স্কিমে কিনবেন সিদ্ধান্ত নিন

  • নিয়মিত মাসিক আয় চাইলে → পরিবার সঞ্চয়পত্র (নারী, প্রতিবন্ধী বা ৬৫+ বয়সী হলে)
  • তিন মাস পরপর মুনাফা চাইলে → ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
  • দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় চাইলে → পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
  • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হলে → পেনশনার সঞ্চয়পত্র

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের জন্য প্রযোজ্য কাগজপত্র:

  • SC-1 আবেদন ফরম (ব্যাংক বা nationalsavings.gov.bd থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি
  • ক্রেতা ও নমিনির ২ কপি করে পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ব্যাংক হিসাব নম্বর (মুনাফা এই হিসাবে জমা হবে)

অতিরিক্ত কাগজপত্র (পরিমাণ অনুযায়ী):

  • ২ লাখের বেশি: TIN সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক
  • ৫ লাখের বেশি: সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের রশিদ / প্রমাণক

ধাপ ৩: কোথায় জমা দেবেন?

  • যেকোনো তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা (সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী সহ বেসরকারি ব্যাংক)
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাসমূহ
  • ডাকঘর (পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ছাড়া)
  • জেলা সঞ্চয় অফিস ও জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরোসমূহ

ধাপ ৪: অর্থ পরিশোধ করুন

  • নগদ টাকায় বা চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন
  • চেকের ক্ষেত্রে: চেক নগদায়নের তারিখেই সঞ্চয়পত্র ইস্যু হবে

ধাপ ৫: সঞ্চয়পত্র সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন

আবেদন ও অর্থ জমা দেওয়ার পর সঞ্চয় অধিদপ্তরের সফটওয়্যারে নিবন্ধিত হলে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এটি সরকারি কোষাগারে সরাসরি জমা হওয়ার কারণে ব্যাংক আলাদাভাবে এটি ব্যবহার করতে পারে না।

সঞ্চয়পত্রে উৎসে আয়কর কত কাটে এবং কাটে না?

অনেকেই মুনাফা থেকে কর কাটার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। নিচে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

বিনিয়োগ পরিমাণTIN থাকলে করTIN না থাকলে কর
৫ লাখ পর্যন্ত৫% উৎসে কর১০% উৎসে কর
৫ লাখের বেশি – ৭.৫ লাখ১০% উৎসে কর১৫% উৎসে কর
৭.৫ লাখের বেশি১০% উৎসে কর১৫% উৎসে কর
পেনশনার (৫ লাখ পর্যন্ত)কর অব্যাহতিকর অব্যাহতি

টিপস: TIN সার্টিফিকেট তৈরি করা একদম বিনামূল্যে এবং অনলাইনে করা যায়। TIN থাকলে কর কম দিতে হয়। প্রতি বছর একটি সহজ শূন্য রিটার্নও অনলাইনে দাখিল করা যায় এতে ২০০–৩০০ টাকার বেশি খরচ হয় না।

মেয়াদের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে কী হবে?

জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষের আগেও সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে যাবে:

  • ১ম বছরের আগে ভাঙালে: কোনো মুনাফা পাওয়া যাবে না শুধু মূল টাকা ফেরত
  • ১ম বছরান্তে ভাঙালে: প্রযোজ্য হার অনুযায়ী কম মুনাফা
  • মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে ভাঙালে: সর্বোচ্চ মুনাফার হার পাওয়া যাবে

আর অতিরিক্ত মুনাফা আগেই পরিশোধ হয়ে গেলে, সেটি মূল টাকা থেকে কেটে নেওয়া হবে। তাই যদি একেবারে শেষ করতে না চান, সম্পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করাই লাভজনক।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সঞ্চয়পত্র কি অনলাইনে কেনা যায়?

না, বর্তমানে সঞ্চয়পত্র শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংক, ডাকঘর বা জেলা সঞ্চয় অফিসে গিয়েই কিনতে হয়। তবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর (nationalsavings.gov.bd) ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যায়।

সঞ্চয়পত্রের টাকা কি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে?

হ্যাঁ। আবেদনের সময় যে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেবেন, সেই হিসাবেই প্রতি মাসে বা প্রতি তিন মাসে মুনাফা জমা হবে।

একই ব্যক্তি কি একাধিক ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন?

হ্যাঁ পারবেন। তবে সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে সমন্বিত বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করা যাবে না। যেমন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে একক নামে মোট ৫০ লাখের বেশি কেনা যাবে না।

সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে বা পুড়ে গেলে কী করবেন?

সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা কোনো কারণে বিনষ্ট হলে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার সুযোগ আছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সঞ্চয় অফিসে আবেদন করতে হবে।

সঞ্চয়পত্র কি এক অফিস থেকে অন্য অফিসে স্থানান্তর করা যায়?

হ্যাঁ। সঞ্চয় ব্যুরো থেকে ব্যুরো, ব্যাংক থেকে ব্যাংক এবং ডাকঘর থেকে ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র স্থানান্তর করা যায়।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র কি শুধু সোনালী ব্যাংক থেকে কেনা যায়?

না। সোনালী ব্যাংকের কোনো আলাদা পেনশনার সঞ্চয়পত্র স্কিম নেই। বাংলাদেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকেই পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। ব্যাংকগুলো শুধু বিক্রেতার ভূমিকা পালন করে — অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়।

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র কি সব ব্যাংকে পাওয়া যায়?

না। এই বিশেষ সঞ্চয়পত্রটি শুধুমাত্র জেলা সঞ্চয় অফিস থেকে পাওয়া যায়। ব্যাংক বা ডাকঘরে এটি বিক্রি হয় না।

সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে কি ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায়?

না। সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ পাওয়া যায় না। কারণ সঞ্চয়পত্রের অর্থ ব্যাংকে নয়, সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা থাকে। ব্যাংক FDR-এর বিপরীতে ৮০% পর্যন্ত ঋণ পাওয়া গেলেও সঞ্চয়পত্রে এই সুবিধা নেই।

সাধারণ ভুলগুলো যা এড়িয়ে চলবেন

  • শুধু ফরম সংগ্রহের জন্য ব্যাংকে যাওয়া — আবেদন ফরম আগেই অনলাইন থেকে প্রিন্ট করে নিন
  • TIN ছাড়া ২ লাখের বেশি বিনিয়োগের চেষ্টা — ব্যাংক গ্রহণ করবে না
  • রিটার্ন স্লিপ ছাড়া ৫ লাখের বেশি বিনিয়োগ — আইনত নিষিদ্ধ
  • ক্রয়সীমার হিসাব না করে একাধিক ব্যাংকে কেনার চেষ্টা — সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে
  • পরিবার সঞ্চয়পত্র পুরুষের নামে কেনার চেষ্টা — এটি শুধু নারী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য
  • মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙিয়ে ফেলা — এতে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়

সঞ্চয়পত্র বনাম ব্যাংক FDR কোনটা ভালো?

বিষয়সঞ্চয়পত্রব্যাংক FDR
ঝুঁকিশূন্য (সরকারি গ্যারান্টি)সামান্য (ব্যাংক দেউলিয়া হলে ঝুঁকি)
মুনাফার হার১২.২৫–১২.৫৫%৮–১০% (গড়)
ঋণ সুবিধানেইআছে (৮০% পর্যন্ত)
তারল্যমেয়াদ পূর্তিতে সর্বোচ্চতুলনামূলক সহজ
কর সুবিধাআছে (নির্দিষ্ট শ্রেণিতে)নেই

বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিবেশে সঞ্চয়পত্র FDR-এর তুলনায় বেশি রিটার্ন দেয় এবং সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। তবে যদি ঋণের সুবিধা বা তরল বিনিয়োগ দরকার হয়, সেক্ষেত্রে FDR বিবেচনা করতে পারেন।

তথ্যসূত্র ও বিশ্বাসযোগ্য রেফারেন্স

  • জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর (Bangladesh National Savings Directorate): nationalsavings.gov.bd
  • অর্থ মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (IRD): ird.gov.bd — সঞ্চয় স্কিমের মুনাফা হার পুনর্নির্ধারণ প্রজ্ঞাপন (জানুয়ারি ২০২৬)
  • জেলা সঞ্চয় অফিস, ঢাকা: savings.dhaka.gov.bd
  • বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার, জুলাই ২০২২ (TIN বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত)
  • ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা — ‘সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফা হার’, ফেব্রুয়ারি ২০২৫

শেষকথা: এই আর্টিকেলটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং বিশ্বস্ত আর্থিক মিডিয়ার প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। লেখকরা বাংলাদেশের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা ও সরকারি বিনিয়োগ স্কিম বিষয়ক গবেষণায় নিয়মিত কাজ করেন। তথ্যের যেকোনো আপডেট nationalsavings.gov.bd থেকে সরাসরি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

⚠️ দাবিত্যাগ: এই আর্টিকেলে প্রদত্ত তথ্য সর্বোচ্চ নির্ভুলতার লক্ষ্যে সংগৃহীত, তবে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

Leave a Comment