বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি দপ্তরে নিয়মিত উপস্থিতি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি একজন সরকারি চাকরিজীবী হন অথবা এই খাতের নিয়মাবলি সম্পর্কে জানতে চান, তবে এই আর্টিকেলটি আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে।
এই বিধিমালার প্রধান দিকগুলো এবং শাস্তির বিধান নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা কী?
সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আসা-যাওয়া, বিলম্বে উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে বা দেরি করে অফিসে এলে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল বেতন কর্তনের বিধান রয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ০২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিধিমালার প্রধান নিয়মাবলি ও শাস্তির তালিকা
এই বিধিমালার অধীনে অপরাধভেদে শাস্তির ধরণ ভিন্ন হতে পারে। পাঠকদের সুবিধার্থে একটি তালিকার মাধ্যমে এটি নিচে দেওয়া হলো:
| অপরাধের ধরণ | শাস্তির বিধান (মূল বেতন কর্তন) | সংশ্লিষ্ট বিধি |
| বিনা অনুমতিতে কর্মে অনুপস্থিতি | প্রতিদিনের জন্য ১ (এক) দিনের মূল বেতন কর্তন | বিধি-৩ |
| বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ | প্রতি ক্ষেত্রের জন্য ১ (এক) দিনের মূল বেতন কর্তন | বিধি-৪ |
| বিলম্বে উপস্থিতি | প্রতি ২ (দুই) দিনের বিলম্বে উপস্থিতির জন্য ১ (এক) দিনের মূল বেতন কর্তন | বিধি-৫ |
| অপরাধের পুনরাবৃত্তি | ৩০ দিনের মধ্যে একাধিকবার অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মূল বেতন কর্তন | বিধি-৬ |
কর্মস্থলে উপস্থিতির বিশেষ নিয়মসমূহ
১. বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগের শর্ত
কোনো কর্মচারী অফিস চলাকালীন অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে পারবেন না। তবে জরুরি প্রয়োজনে কোনো সহকর্মীকে জানিয়ে এবং নির্ধারিত রেজিস্টারে ত্যাগের কারণ, সময় ও তারিখ লিপিবদ্ধ করে অফিস ত্যাগ করা যাবে। বিধি-৪ অনুযায়ী এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে ১ দিনের মূল বেতন কাটা হতে পারে।
২. কারণ দর্শানো ও শুনানির সুযোগ
শাস্তি প্রদানের আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (Show Cause) যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করবে। অর্থাৎ, আপনার অনুপস্থিতি বা বিলম্বের কোনো যৌক্তিক কারণ থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর অধিকার আপনার আছে।
৩. দণ্ডের অর্থ কর্তন প্রক্রিয়া
দণ্ডের অর্থ কর্মচারীর মাসিক বেতন থেকে কেটে আদায় করা হবে।
- যারা নিজের বেতন বিল নিজে তোলেন না, তাদের ক্ষেত্রে লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে হিসাব শাখা থেকে এই অর্থ কাটা হয়।
- যারা নিজের বেতন বিল নিজে তোলেন, তারা নির্দেশ পাওয়ার পর বেতন বিল থেকে অর্থ না কাটলে হিসাবরক্ষণ অফিস তা সরাসরি কেটে রাখবে।
দণ্ডের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনা বা আপিল করার নিয়ম
যদি আপনার বেতন কর্তনের আদেশ দেওয়া হয়, তবে আপনার জন্য আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে:
- আবেদনের সময়সীমা: আদেশ প্রদানের ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে হবে।
- কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব: কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ দিয়ে আদেশটি বহাল রাখতে পারে, অথবা চাইলে সংশোধন বা বাতিল করতে পারে।
- সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ: শুনানির সিদ্ধান্ত এবং প্রাপ্ত তথ্য লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করার নিয়ম রয়েছে।
মূল বিধিমালাটি দেখুন: সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
বিধি-৫ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রতি ২ দিন বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হলে তার ১ দিনের মূল বেতন কাটা যাবে।
জরুরি দরকারে সহকর্মীকে জানিয়ে অফিস ত্যাগ করা যাবে, তবে অবশ্যই ‘অফিস ত্যাগের রেজিস্টারে’ কারণ ও সময় লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
শাস্তি বা বেতন কর্তনের আদেশের বিরুদ্ধে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
সতর্কতা ও টিপস: সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী নিয়মিত উপস্থিতি আপনার বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন (ACR) এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সর্বদা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিয়ে ছুটি গ্রহণ বা অফিস ত্যাগের অভ্যাস করুন।
তথ্যসূত্র: [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট (ডিসেম্বর ৫, ২০১৯)]। সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।