আজকাল ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউব কমেন্ট সেকশনে গেলেই একটি সংখ্যা বারবার চোখে পড়ে— ‘৬৭’ (67)। হঠাৎ করেই এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের ইন্টারনেট পাড়ায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একটি সাধারণ সংখ্যা কেন এভাবে ভাইরাল হলো? এর পেছনে কি কোনো গোপন অর্থ আছে?
এই আর্টিকেলে আমরা ৬৭ মানে কী, এর উৎপত্তি এবং কেন এটি নিয়ে এত মাতামাতি হচ্ছে, তার আদ্যোপান্ত আলোচনা করব।
৬৭ মানে কী?
সরাসরি বলতে গেলে, বর্তমানে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড অনুযায়ী ‘৬৭’ (67) সংখ্যাটি একটি স্ল্যাং হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি মূলত সমকামিতা বা ‘Gay’ পরিচয়কে নির্দেশ করতে ব্যঙ্গাত্মক বা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে প্রেক্ষাপট ভেদে এর একাডেমিক বা গাণিতিক ভিন্ন অর্থও রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘৬৭’ ভাইরাল হওয়ার কারণ ও আসল অর্থ
ইন্টারনেট মেমে বা ট্রেন্ড সবসময় কোনো না কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা থেকে জন্ম নেয়। ৬৭-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়।
১. স্ল্যাং বা মেমে হিসেবে ব্যবহার
ফেসবুক বা টিকটকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং কমেন্টে কাউকে ট্রল করার জন্য ‘৬৭’ কোডটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে কোনো পুরুষ যখন একটু ভিন্নভাবে কথা বলেন বা আচরণ করেন, তখন নেটিজেনরা তাকে ‘৬৭’ বলে সম্বোধন করে। এটি মূলত একটি অশালীন ইঙ্গিত বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. কেন এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি?
ইন্টারনেটে বিভিন্ন গোপন কোড ব্যবহারের প্রবণতা নতুন নয়। যেমন অনেক আগে ‘৪৩’ সংখ্যাটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতো। ঠিক তেমনি বর্তমানে ‘৬৭’ সংখ্যাটিকে একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির পরিচায়ক হিসেবে ভাইরাল করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি কোনো বিশেষ ভাইরাল ভিডিও বা অডিও ক্লিপ থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ‘৬৭’ এর অন্যান্য অর্থ
সব জায়গায় ৬৭ মানেই কিন্তু স্ল্যাং নয়। পরিস্থিতি ভেদে এর ভিন্ন অর্থ থাকতে পারে:
- Class of 67 মানে কি: বিদেশে বা একাডেমিক ক্ষেত্রে এটি বলতে ১৯৬৭ সালের ব্যাচকে বোঝায়। অর্থাৎ যারা ১৯৬৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
- গাণিতিক গুরুত্ব: গণিত শাস্ত্রে ৬৭ একটি মৌলিক সংখ্যা (Prime Number)। এটি এমন একটি সংখ্যা যাকে ১ এবং ওই সংখ্যা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভাগ করা যায় না।
- আন্তর্জাতিক কোড: অনেক ক্ষেত্রে এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা সার্ভারের কোড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
কেন এই ধরণের কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়?
ইন্টারনেটে মানুষ সরাসরি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করলে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার এআই (AI) সেই কমেন্ট ডিলিট করে দেয় বা আইডি রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়। এই Community Guidelines এড়াতে ব্যবহারকারীরা সংখ্যার মতো কোড ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে থাকে।
সতর্কতা: কাউকে উদ্দেশ্য করে ‘৬৭’ বা এই ধরণের স্ল্যাং ব্যবহার করা সাইবার বুলিং-এর আওতায় পড়ে। যা নৈতিকভাবে যেমন অনুচিত, তেমনি আইনি জটিলতারও কারণ হতে পারে।
৬৭ নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
১. ৬৭ মেমে মানে কি?
এটি মূলত সমকামিতা বোঝাতে ব্যবহৃত একটি ইন্টারনেট স্ল্যাং, যা বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রল করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
২. এটি কি কোনো ভালো অর্থ বহন করে?
সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারে এটি কোনো পজিটিভ অর্থ বহন করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার
ইন্টারনেট সংস্কৃতি বা মেমে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আজ যা ‘৬৭’ কাল তা অন্য কোনো সংখ্যা হতে পারে। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই ধরণের নেতিবাচক ট্রেন্ড এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো তথ্য না জেনে হুজুগে পড়ে এমন কিছু ব্যবহার করা উচিত নয় যা অন্যকে মানসিক আঘাত দেয়।
তথ্যসূত্র: সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস এবং কালচারাল স্টাডিজ।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।