ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পরিচালনা নীতিমালার ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে। এই অনুচ্ছেদে পরীক্ষার্থীদের ‘নীরব বহিষ্কার’ (Silent Expulsion) করার বিধান ছিল। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থীকে আর গোপনে বা নীরবে বহিষ্কার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তির জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-কে সামনে রেখে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের ‘নীরব বহিষ্কার’ সংক্রান্ত বিধানটি পুরোপুরি বাতিল করেছে।
নীরব বহিষ্কার (Silent Expulsion) কী?
এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের নীতিমালায় অনুচ্ছেদ নম্বর ২৯-এ ‘নীরব বহিষ্কার’ এর কথা উল্লেখ ছিল।
পূর্বের এই নিয়ম অনুযায়ী:
- যদি কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে পরীক্ষাকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকত।
- অথবা, কক্ষ প্রত্যবেক্ষক (Invigilator) বা পরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকত।
- শুধুমাত্র সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীকে কিছু না জানিয়ে নীরবে বহিষ্কার করার সুযোগ ছিল।
এক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষে উক্ত পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে গোপন প্রতিবেদনসহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে গেলেও পরে জানতে পারত যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?
১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়মটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়বস্তু একনজরে:
- বাতিলকৃত অনুচ্ছেদ: এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬-এর ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ।
- মূল সিদ্ধান্ত: নীরব বহিষ্কারের বিধান আর থাকছে না।
- কার্যকরের সময়: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ) থেকে এই নির্দেশ কার্যকর।
- আওতাধীন এলাকা: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সকল এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র।
এই নিয়ম বাতিলের কারণ ও প্রভাব কী?
যেকোনো পরীক্ষার মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা। ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়মের কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। এই নিয়মটি বাতিলের ফলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে:
১. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হলে তা সুস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে প্রকাশ্যেই করা হবে।
২. বিভ্রান্তি দূরীকরণ: অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল প্রকাশের পর জানতে পারত যে তারা বহিষ্কৃত হয়েছে, যা মানসিক চাপের কারণ হতো। এখন আর এই অস্পষ্টতা থাকবে না।
৩. দায়িত্বশীলতা: কেন্দ্র পরিদর্শক এবং কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে, যা পরীক্ষা হলের শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি কার্যকরী হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাস্য
প্রশ্ন ১: নীরব বহিষ্কার নিয়মটি কবে বাতিল করা হয়েছে?
উত্তর: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়মটি বাতিল করা হয়।
প্রশ্ন ২: এই বাতিল আদেশ কি সারা দেশের সব বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য?
উত্তর: প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি শুধুমাত্র ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা’-এর। তাই প্রাথমিকভাবে এটি ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন সকল এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য প্রযোজ্য।
প্রশ্ন ৩: এখন থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কেউ অপরাধ করলে কী শাস্তি হবে?
উত্তর: পরীক্ষাকেন্দ্রে কেউ নকল করলে বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে বহিষ্কার বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ‘গোপনে’ বা ‘নীরবে’ বহিষ্কার করা যাবে না।
প্রশ্ন ৪: বাতিল হওয়া ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে উত্তরপত্রের OMR সম্পর্কে কী বলা ছিল?
উত্তর: ওই অনুচ্ছেদে বলা ছিল নীরব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR)-এর প্রথম অংশ আলাদা করা যাবে না, বরং গোপন প্রতিবেদনসহ আলাদা প্যাকেটে পাঠাতে হবে। যেহেতু অনুচ্ছেদটিই বাতিল, তাই এই প্রক্রিয়ার আর কোনো বৈধতা নেই।
শেষকথা
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তটি এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-কে আরও বেশি স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করার একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবক—সবার মাঝেই পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। পরীক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে, পড়াশোনায় মনোযোগী হোন এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সব ধরনের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা যথাযথভাবে মেনে চলুন।
তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
(বি.দ্র: শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট ও সঠিক তথ্যের জন্য সর্বদা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.dhakaeducationboard.gov.bd) অনুসরণ করুন।)

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।