সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রজ্ঞাপন ২০২৬

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উচ্চতর ডিগ্রি (মাস্টার্স বা এমএড)-এর জন্য অগ্রিম বর্ধিত বেতন (Advance Increment) প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই আদেশের ফলে হাজারো শিক্ষক ২০১৫ সাল থেকে বকেয়া সুবিধাসহ বেতন বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন

এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কারা এই সুবিধা পাবেন, ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা কত এবং এটি কীভাবে কার্যকর হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষকদের অগ্রিম বর্ধিত বেতন

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখন থেকে ২য় শ্রেণীর এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ১টি এবং ১ম শ্রেণীর ডিগ্রির জন্য ২টি অগ্রিম বর্ধিত বেতন বা ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এই আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে ।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষকরা কী সুবিধা পাবেন?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনটি ১৯৭০ সালের ১৭ জুলাই তারিখের মেমোরেন্ডাম বা আদেশের তফসিলে ‘সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা’ পদনাম অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির ভিত্তিতে এই সুবিধায় যা থাকছে:

ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা ও যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্টের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • ১ম শ্রেণীর মাস্টার্স বা এমএড: যাদের মাস্টার্স বা এমএড ডিগ্রিতে ১ম শ্রেণী বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ রয়েছে, তারা ২টি (দুই) অগ্রিম বর্ধিত বেতন পাবেন ।
  • ২য় শ্রেণীর মাস্টার্স বা এমএড: যাদের মাস্টার্স বা এমএড ডিগ্রিতে ২য় শ্রেণী বা সমমানের ফলাফল রয়েছে, তারা ১টি (এক) অগ্রিম বর্ধিত বেতন পাবেন ।

কার্যকর হওয়ার তারিখ ও বকেয়া

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রজ্ঞাপনটি বর্তমান সময় থেকে নয়, বরং ১ জুলাই ২০১৫ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) কার্যকর হবে । এর মানে হলো, যারা ২০১৫ সালের পরে এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন বা চাকরিতে ছিলেন, তারা বকেয়া সুবিধাও প্রাপ্য হবেন।

কেন এই প্রজ্ঞাপনটি গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারি চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫-এর ১২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ইনক্রিমেন্ট সুবিধা পাওয়ার বিধান ছিল। তবে ‘সহকারী শিক্ষক’ পদনামটি ১৯৭০ সালের আদেশের তফসিলে নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এতদিন অনেক শিক্ষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই নতুন আদেশের মাধ্যমে সেই আইনি জটিলতা নিরসন করা হলো

কারা পাবেন এই সুবিধা?

সহজ কথায়, এই সুবিধাটি পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

  1. আপনাকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক’ বা ‘সহকারী শিক্ষিকা’ পদে কর্মরত হতে হবে ।
  2. আপনার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএড (M.Ed) অথবা মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে ।
  3. ডিগ্রিটি অবশ্যই ১ম বা ২য় শ্রেণীর সমমানের হতে হবে (৩য় শ্রেণীর বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই) ।

বেতন বৃদ্ধির হিসাব

ধরা যাক, একজন শিক্ষকের মূল বেতন (Basic Salary) বর্তমানে ৩০,০০০ টাকা।

  • তিনি যদি ১ম শ্রেণীর মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হন, তবে তিনি মূল বেতনের ওপর ২টি ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন।
  • যেহেতু এটি ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর, তাই পে-ফিক্সেশন (Pay Fixation) করে বকেয়া পাওনাগুলোও হিসাব করা হবে।

নোট: সঠিক হিসাবের জন্য আপনার সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, কারণ প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি সকল হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে

মূল প্রজ্ঞাপনটি দেখুন: সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রজ্ঞাপন ২০২৬

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: এই আদেশটি কবে থেকে কার্যকর হবে? উত্তর: এই আদেশটি ১ জুলাই ২০১৫ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ শিক্ষকরা ২০১৫ সাল থেকে এই সুবিধা প্রাপ্য হবেন

প্রশ্ন: বিএড (B.Ed) ডিগ্রির জন্য কি ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যাবে? উত্তর: প্রজ্ঞাপনে শুধুমাত্র এমএড (M.Ed) এবং মাস্টার্স ডিগ্রির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএড-এর জন্য আলাদা কোনো ইনক্রিমেন্টের কথা এই আদেশে বলা হয়নি

প্রশ্ন: ৩য় শ্রেণীর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য কি কোনো ইনক্রিমেন্ট আছে? উত্তর: না, প্রজ্ঞাপনে শুধুমাত্র ১ম শ্রেণীর জন্য ২টি এবং ২য় শ্রেণীর জন্য ১টি ইনক্রিমেন্টের কথা বলা হয়েছে। ৩য় শ্রেণীর বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই

প্রশ্ন: আমি কীভাবে এই ইনক্রিমেন্টের জন্য আবেদন করবো? উত্তর: আপনাকে আপনার প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের (যেমন: জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা ডিডি) কাছে আবেদন করতে হবে এবং সার্ভিস বুকে এই তথ্য এন্ট্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় সনদপত্র জমা দিতে হবে

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ

Leave a Comment