সরকারি চাকরিজীবীর বেতন যখন একটি পুরনো স্কেল (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫) থেকে নতুন স্কেলে (জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬) রূপান্তরিত হয়, তখন শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন বসিয়ে দিলে চলে না। কারও চাকরির বয়স বেশি হলে তিনি ২০১৫ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে উপরের কোনো ধাপে বেতন পাচ্ছিলেন — সেই “সিনিয়রিটির” মূল্য নতুন স্কেলেও বজায় রাখতে হয়। এই প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় পে ফিক্সেশন, আর এটি নির্ধারিত হয় এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ গেজেটের অনুচ্ছেদ ৫ ও ৯(২) অনুযায়ী।
পদ্ধতিটি যেভাবে কাজ করে
শেয়ার করা চার্টে ১৬তম গ্রেডের প্রতিটি ধাপের জন্য যে গণনা দেখানো হয়েছে, তার যুক্তি এইরকম:
| ধাপ | কী বোঝায় |
|---|---|
| মূল বেসিক | ২০১৫ স্কেলে ওই ধাপে কর্মচারী যে বেতন পাচ্ছিলেন |
| পার্থক্য | ওই ধাপের বেতন থেকে গ্রেডের সর্বনিম্ন (প্রারম্ভিক) ধাপের বেতন বাদ দিলে যা থাকে — অর্থাৎ কর্মচারী তার প্রারম্ভিক অবস্থান থেকে কতটা এগিয়ে ছিলেন |
| নতুন বেসিক + পার্থক্য | ২০২৬ স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করা হয় |
| সমান/পরবর্তী ধাপ | ২০২৬ স্কেলে এই যোগফলের সমান কোনো ধাপ থাকলে সেটিই বসবে; না থাকলে তার ঠিক পরের (উপরের) ধাপে বেতন নির্ধারিত হবে |
| মূল বেসিকের ৫% | নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ করার অঙ্ক (আনুমানিক ৫%, প্রতিটি ধাপের প্রকৃত ইনক্রিমেন্ট গেজেটে নির্দিষ্ট আকারে দেওয়া থাকে) |
| চূড়ান্ত বেসিক | নির্ধারিত ধাপ + ১টি ইনক্রিমেন্ট — এটিই ০১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পূর্ণ (১০০%) নতুন মূল বেতন |
| বিয়োগফল | চূড়ান্ত বেসিক থেকে পুরনো মূল বেসিক বাদ দিলে যে অঙ্ক থাকে — অর্থাৎ মোট কত টাকা বেতন বাড়ছে |
| ৫০% | এই বৃদ্ধির অর্ধেক অংশ, যা প্রথম দফায় দেওয়া হচ্ছে |
| জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ মূল বেসিক | পুরনো মূল বেসিক + বৃদ্ধির ৫০% — অর্থাৎ ০১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কর্মচারী হাতে যে বেতন পাবেন |
বাস্তবায়নের সময়সূচি কেন ৫০% দিয়ে শুরু
গেজেটের অনুচ্ছেদ ১(৩) অনুযায়ী বর্ধিত বেতন একবারে নয়, ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে:
- ১ জুলাই – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য বৃদ্ধির ৫০% (৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ৪০%)
- ১ জানুয়ারি – ৩০ জুন ২০২৭: ১০ম–২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫% (৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ৭০%)
- ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ ১০০%
যেহেতু ১৬তম গ্রেড এই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে (১০ম–২০তম), তাই চার্টে ৫০% ব্যবহার করা হয়েছে — এটাই সঠিক নিয়ম।
উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক (১০ম ধাপ)
চার্টের ১০ম ধাপ ধরে হিসাবটা অনুসরণ করা যাক:
- ২০১৫ স্কেলে মূল বেসিক ছিল ১৪,৮৭০ টাকা
- মূল ধাপ (৯,৩০০) থেকে পার্থক্য ৫,৫৭০ টাকা
- ২০২৬ স্কেলের প্রারম্ভিক (২১,৯০০) + এই পার্থক্য = ২৭,৪৭০ টাকা
- ২০২৬ স্কেলে এই অঙ্কের সমান ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৭,৯৭০ টাকা-য় বেতন নির্ধারিত হয়
- এর সঙ্গে ১টি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়ায় ২৭,৯৭০ টাকা (চার্ট অনুযায়ী, কারণ এখানে নির্ধারিত ধাপই সর্বোচ্চ কাছাকাছি ধাপ)
- পুরনো বেতনের (১৪,৮৭০) সঙ্গে তুলনায় মোট বৃদ্ধি ১৩,১০০ টাকা
- এর ৫০% অর্থাৎ ৬,৫৫০ টাকা প্রথম দফায় যোগ হবে
- ফলে ২০২৬ সালের জুলাই–ডিসেম্বরে হাতে পাবেন ১৪,৮৭০ + ৬,৫৫০ = ২১,৪২০ টাকা
১৬তম গ্রেডের সম্পূর্ণ চিত্র (আপনার দেওয়া চার্ট অনুযায়ী)
| ধাপ | মূল বেসিক | পার্থক্য | চূড়ান্ত বেসিক | বিয়োগফল | ৫০% | জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ |
|---|---|---|---|---|---|---|
| মূল | ৯,৩০০ | ০ | ২১,৯০০ | ১২,৬০০ | ৬,৩০০ | ১৫,৬০০ |
| ২য় | ৯,৭৭০ | ৪৭০ | ২৩,০০০ | ১৩,২৩০ | ৬,৬১৫ | ১৬,৩৮৫ |
| ৫ম | ১১,০২০ | ১,৭২০ | ২৪,১৫০ | ১৩,১৩০ | ৬,৫৬৫ | ১৭,৫৮৫ |
| ১০ম | ১৪,৮৭০ | ৫,৫৭০ | ২৭,৯৭০ | ১৩,১০০ | ৬,৫৫০ | ২১,৪২০ |
| ১৫ম | ১৮,৪৯০ | ৯,১৯০ | ৩২,০৮০ | ১৩,৫৯০ | ৬,৭৯৫ | ২৫,২৮৫ |
| ১৯শ | ২২,৪৯০ | ১৩,১৯০ | ৩৫,৭০০ | ১৩,২১০ | ৬,৬০৫ | ২৯,০৯৫ |
(সম্পূর্ণ ১৯ ধাপের বিস্তারিত সংখ্যা আপনার আপলোড করা চার্টেই আছে — উপরে শুধু প্রবণতা বোঝানোর জন্য কয়েকটি প্রতিনিধিত্বমূলক ধাপ দেখানো হলো।)
লক্ষণীয় প্যাটার্ন
চার্ট লক্ষ করলে দেখা যায় — বিয়োগফল (অর্থাৎ মোট বেতনবৃদ্ধি) প্রায় ১২,৬০০ থেকে ১৪,২৮০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, নিচের ধাপে কম, ওপরের দিকে একটু বেশি। এটাই স্বাভাবিক, কারণ গেজেটে গ্রেডভেদে ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত ভিন্ন হারে প্রারম্ভিক বেতন বাড়ানো হয়েছে, ফলে প্রতিটি ধাপে শতাংশ একরকম হলেও টাকার অঙ্কে সামান্য তারতম্য থাকে।
একটা জরুরি সতর্কতা
এই ব্যাখ্যাটি আপনার দেওয়া চার্টের সংখ্যাগুলো ভিত্তি করে লেখা। ১৬তম গ্রেডের ২০২৬ স্কেলের সীমা (২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা) সরকারি গেজেটের সাথে মিলে যাচ্ছে, তাই কাঠামোটি নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে। তবে যেহেতু এটি সরাসরি সরকারি গেজেট বা iBAS++ থেকে না নিয়ে একটি শেয়ার করা ছবি থেকে নেওয়া, চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের আগে নিজের DDO বা হিসাবরক্ষণ অফিসে একবার মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।