জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের ফলে ০১ জুলাই ২০২৬ থেকে গেজেট জারির তারিখ পর্যন্ত যে বর্ধিত বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হয়, এই টুলে তার হিসাব করে বিল স্টেটমেন্ট প্রিন্ট বা PDF করুন। আপনার ডেটা শুধু আপনার ব্রাউজারেই প্রসেস হয়।
এরিয়ার বিল হিসাব
গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও সময়কাল দিন।
গেজেট জারি হয়েছে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। আপনার অফিস যে তারিখ পর্যন্ত বকেয়া ধরতে বলেছে, সেটি দিন।
এই সময়ে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকলে পে-স্লিপ অনুযায়ী মাসিক শতকরা হার (যেমন ১০ বা ১৫) দিন। না পেলে 0 রাখুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৯ম পে স্কেলের এরিয়ার বিল: এখন পরিস্থিতি কী?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এখন আর শুধু আলোচনার বিষয় নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ গেজেটটি সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়েছে, আর নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই: জুলাই থেকে যে কয়েক মাস পুরোনো হারে বেতন নিয়েছি, তার বাড়তি অংশ হিসেবে ঠিক কত টাকা পাওনা হলো?
এই পৃষ্ঠার ক্যালকুলেটর ঠিক সেই হিসাবটাই করে দেয়। গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন আর সময়কাল দিলেই মাসভিত্তিক বকেয়া, বিশেষ সুবিধা সমন্বয় এবং নেট প্রাপ্য বেরিয়ে আসে। নিচে পুরো নিয়মটা সহজ ভাষায় লিখে দিলাম, যাতে মেশিনের ফলাফলের পাশাপাশি আপনি নিজেও হিসাবটা বুঝে নিতে পারেন।
এরিয়ার বিল আসলে কী?
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই থেকে, কিন্তু গেজেট এসেছে তার অনেক পরে। এই ফাঁকা সময়ে সবাই পুরোনো হারেই বেতন পেয়েছেন। গেজেটে স্পষ্ট বলা আছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বর্ধিত বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবে। সেই বাড়তি অর্থই এরিয়ার বা বকেয়া বিল।
বেতন তিন ধাপে বাড়ছে, বকেয়াও সেই হারে
নতুন বেতন একবারে পুরোটা কার্যকর হচ্ছে না। বর্ধিত অংশ ধাপে ধাপে যুক্ত হবে। এখানে বর্ধিত অংশ মানে হলো গেজেট অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত নতুন মূল বেতন (এক ইনক্রিমেন্টসহ) থেকে আপনার ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন বাদ দিলে যে অঙ্ক থাকে।
| সময় | গ্রেড ১০–২০ | গ্রেড ১–৯ |
|---|---|---|
| ১ জুলাই – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | বর্ধিত অংশের ৫০% | বর্ধিত অংশের ৪০% |
| ১ জানুয়ারি – ৩০ জুন ২০২৭ | বর্ধিত অংশের ৭৫% | বর্ধিত অংশের ৭০% |
| ১ জুলাই ২০২৭ থেকে | পূর্ণ ১০০% (বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ) | পূর্ণ ১০০% |
বকেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের হিসাবে প্রথম ধাপের হারটাই কাজে লাগে, কারণ জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম ধাপের মধ্যেই পড়ে। তবে আপনি যদি পরের কোনো তারিখ পর্যন্ত সময়কাল দেন, ক্যালকুলেটর নিজে থেকেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের হার ধরে নেবে।
দুটি বাস্তব উদাহরণ
নিচের দুটি উদাহরণে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, মোট তিন মাস ধরা হয়েছে এবং বিশেষ সুবিধা ১৫% ধরা হয়েছে। আপনার পে-স্লিপে যে হার আছে, সেটাই ব্যবহার করবেন।
| বিষয় | গ্রেড ১০ (মূল বেতন ১৬,০০০) | গ্রেড ৯ (মূল বেতন ২২,০০০) |
|---|---|---|
| ১ জুলাই ২০২৬-এ নির্ধারিত নতুন বেতন | ৳ ৩৩,৬০০ | ৳ ৪৬,২০০ |
| বর্ধিত অংশ | ৳ ১৭,৬০০ | ৳ ২৪,২০০ |
| প্রথম ধাপে প্রাপ্য (৫০% / ৪০%) | ৳ ৮,৮০০ | ৳ ৯,৬৮০ |
| নতুন মূল বেতন (প্রথম ধাপ) | ৳ ২৪,৮০০ | ৳ ৩১,৬৮০ |
| তিন মাসের মোট বকেয়া | ৳ ২৬,৪০০ | ৳ ২৯,০৪০ |
| বিশেষ সুবিধা সমন্বয় (১৫% × ৩ মাস) | ৳ ৭,২০০ | ৳ ৯,৯০০ |
| নেট প্রাপ্য বকেয়া | ৳ ১৯,২০০ | ৳ ১৯,১৪০ |
উদাহরণ দুটি শুধু বোঝানোর জন্য। আপনার ধাপ, পিপি বা অন্য কোনো বিশেষ অবস্থা থাকলে সংখ্যা বদলে যাবে, তখন ক্যালকুলেটরে নিজের তথ্য বসিয়ে দেখে নিন।
বিশেষ সুবিধা কীভাবে সমন্বয় হয়?
গেজেট অনুযায়ী জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত গণ্য হবে। অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে গেজেট জারি পর্যন্ত সময়ে আপনি যে বিশেষ সুবিধা (সাধারণত মূল বেতনের ১০% বা ১৫%) পেয়ে গেছেন, নতুন স্কেলের বকেয়া মেটানোর সময় সেই অঙ্ক সমন্বয় করা হবে। ক্যালকুলেটরের ‘বিশেষ সুবিধা সমন্বয়’ ঘরে আপনার পে-স্লিপের হারটি লিখুন। কোনো সুবিধা না পেলে 0 রাখুন।
ক্যালকুলেটর ব্যবহারের ধাপ
একজনের বিল তৈরি করতে
- বিলের ধরন বেছে নিন: গেজেটেড হলে টি.আর. ফরম ১৩, নন-গেজেটেড হলে ১৫।
- আপনার গ্রেড নির্বাচন করুন।
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতন লিখুন। পিপি থাকলে সেটিও দিন।
- শুরুর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ থাকবে। শেষের তারিখ আপনার অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী দিন।
- বিশেষ সুবিধার শতকরা হার দিয়ে ‘বকেয়া বিল তৈরি করুন’ চাপুন।
- ফলাফল ঠিক মনে হলে ‘প্রিন্ট / PDF সেভ করুন’ বাটনে চাপুন। প্রিন্ট উইন্ডোতে ডেস্টিনেশন হিসেবে ‘Save as PDF’ বেছে নিলেই স্টেটমেন্ট PDF হয়ে যাবে।
অফিসের সবার বিল একসাথে করতে
- ‘ব্যাচ বিল (CSV)’ ট্যাবে গিয়ে টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন।
- এক্সেল বা গুগল শিটে নাম, পদবি, গ্রেড, মূল বেতন, পিপি ও বিশেষ সুবিধার হার লিখে CSV হিসেবে সেভ করুন।
- ফাইলটি আপলোড করে ‘সবার বিল তৈরি করুন’ চাপুন। সবার বকেয়া ও সর্বমোট একটি তালিকায় দেখা যাবে, চাইলে প্রিন্ট বা CSV নামিয়ে নিতে পারবেন।
আপনার তথ্য কোনো সার্ভারে যায় না। সব হিসাব আপনার নিজের ব্রাউজারেই হয়।
বকেয়া কবে হাতে আসছে?
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী অর্থ বিভাগ আইবাস++-এ নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশনের কাজ অক্টোবরের শুরু থেকে চালু করেছে এবং অক্টোবরের মধ্যেই তা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা হলো অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে, যা সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে হাতে আসে, প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসাথে দেওয়া। তবে কার বকেয়া কত হবে তা নির্ভর করবে তাঁর পে ফিক্সেশনের ওপর, তাই সবার অঙ্ক এক হবে না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টি আলাদা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, তাঁদের নতুন স্কেলে বেতন কবে থেকে হবে তা নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের আলাদা আদেশের ওপর। এই পর্যায়ে তাই সরকারি দপ্তরের কর্মীদের মতো নির্দিষ্ট করে তারিখ বলা যাচ্ছে না।
এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন
- বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা: গেজেটের শর্ত অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। নতুন নির্ধারিত ভাতা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। এই ক্যালকুলেটর শুধু মূল বেতনের বকেয়া হিসাব করে।
- পেনশনভোগী: সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোর সুবিধা এবং বকেয়া পাবেন। তাঁদের হিসাব পদ্ধতি আলাদা, এই টুলে ধরা হয়নি।
- সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন: নতুন স্কেলে গ্রেড ২০-এর শুরু ২০,০০০ টাকা এবং গ্রেড ১-এর নির্ধারিত বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা।
- সংখ্যা মিলিয়ে নিন: চূড়ান্ত বিল জমার আগে আপনার ডিডিও বা হিসাবরক্ষণ অফিসের পে ফিক্সেশনের সাথে মিলিয়ে নিন। কোথাও পার্থক্য থাকলে অফিসের হিসাবই বিবেচ্য।
বেতন নির্ধারণের ধাপে ধাপে হিসাব দেখতে চাইলে আমাদের পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর পাতাটি ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে ১ জুলাই ২০২৬, ১ জানুয়ারি ২০২৭ ও ১ জুলাই ২০২৭ তারিখের নির্ধারিত বেতন গেজেটের পদ্ধতি অনুসরণ করে দেখানো হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
৯ম পে স্কেলের এরিয়ার বিল কবে পাব?
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। নির্দিষ্ট তারিখ আপনার অফিস বা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
গ্রেড ১০ থেকে ২০ এর কর্মচারীরা কত শতাংশ বকেয়া পাবেন?
জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত অংশের ৫০%। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৭৫%, আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ ১০০%। গ্রেড ১ থেকে ৯-এর প্রথম ধাপে হার ৪০%।
বিশেষ সুবিধা বকেয়া থেকে কীভাবে কাটা হয়?
১ জুলাই থেকে গেজেট জারি পর্যন্ত সময়ে যে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, তার মোট অঙ্ক আপনার মোট বকেয়া থেকে বাদ যায়। বাকি অংশটাই নেট প্রাপ্য।
অসম্পূর্ণ মাসের হিসাব কীভাবে হয়?
এই ক্যালকুলেটরে কোনো মাসের কিছু দিন ধরা হলে দিন অনুপাতে হিসাব করা হয়। যেমন মাসের অর্ধেক দিন ধরলে সেই মাসের অর্ধেক পার্থক্য যোগ হয়। আপনার অফিস অন্য পদ্ধতি মানলে চূড়ান্ত অঙ্ক সেই অনুযায়ী হবে।
এই ক্যালকুলেটরের ফলাফল কি চূড়ান্ত?
না। এটি আপনাকে আগে থেকে একটা ধারণা দেওয়ার জন্য তৈরি তথ্যগত সহায়ক টুল। সরকারি আদেশ ও আইবাস++ এর হিসাবই চূড়ান্ত।