আগে টাইমস্কেল পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—টাইমস্কেল প্রাপ্তদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ আছে কি না? এর উত্তর নির্ভর করে কর্মচারী কোন পদে চাকরি করছেন, আগে কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, কতবার পেয়েছেন এবং তাঁর ক্ষেত্রে কোন সরকারি আদেশ প্রযোজ্য তার ওপর। শুধু টাইমস্কেল পেয়েছেন বলেই সবাই উচ্চতর গ্রেড পাবেন বা কেউই পাবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
টাইমস্কেল প্রাপ্তদের উচ্চতর গ্রেড: মূল বিষয়
জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশে পুরোনো টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চতর গ্রেডের বিধান রাখা হয়েছে। আগে টাইমস্কেল পাওয়া থাকলে সেটি চাকরির আর্থিক সুবিধার ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তী প্রাপ্যতা নির্ধারণের সময় প্রযোজ্য স্পষ্টীকরণ, সরকারি পরিপত্র এবং আদালতের প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত থাকলে সেগুলোও যাচাই করা জরুরি।
কোন বিষয়গুলো প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করে?
- টাইমস্কেলের সংখ্যা: একই পদে আগে একবার নাকি একাধিকবার উচ্চতর স্কেল পেয়েছেন।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: মঞ্জুরির আদেশে কোন তারিখ থেকে সুবিধা কার্যকর হয়েছে।
- পদ ও চাকরির ধারাবাহিকতা: একই পদে চাকরির সময় কীভাবে গণনা হবে।
- পদোন্নতির ইতিহাস: এর মধ্যে পদোন্নতি হয়েছে কি না এবং তা প্রাপ্যতায় কী প্রভাব ফেলে।
- সন্তোষজনক চাকরির শর্ত: সংশ্লিষ্ট বিধানে যে শর্ত আছে তা পূরণ হয়েছে কি না।
- সর্বশেষ নির্দেশনা: বিশেষ সুবিধা বা বেতন নির্ধারণ নিয়ে পরবর্তী কোনো পরিপত্র প্রযোজ্য কি না।
আগে একটি টাইমস্কেল পেলে কী হবে?
একই পদে আগে একটি মাত্র টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা যাচাইয়ের জন্য সেই সুবিধার তারিখ ও সংশ্লিষ্ট বিধান দেখতে হবে। জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর অনুচ্ছেদ ৭ এবং পরবর্তী স্পষ্টীকরণে চাকরির মেয়াদ ও পূর্বে পাওয়া সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযোজ্য ব্যাখ্যা ও পরবর্তী আদেশ বিবেচনা না করে শুধু ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবাই যোগ্য—এমন দাবি করা যাবে না।
একাধিক টাইমস্কেল পেয়ে থাকলে কী হবে?
একই পদে দুই বা ততোধিক উচ্চতর স্কেল—যেমন টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড—পাওয়ার ইতিহাস থাকলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতায় বিধিনিষেধ থাকতে পারে। তাই প্রত্যেকটি মঞ্জুরির আদেশ ও তারিখ একসঙ্গে পরীক্ষা করা জরুরি। অর্থ বিভাগের ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখের নোটিশে টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্রে বিবেচ্য গ্রেড নির্ধারণের বিষয় উল্লেখ আছে।
নিজের প্রাপ্যতা যাচাই করার ধাপ
- নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও সার্ভিস বুক থেকে চাকরির ধারাবাহিকতা মিলিয়ে নিন।
- টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের সব অফিস আদেশ সংগ্রহ করুন।
- প্রতিটি সুবিধার কার্যকর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেল লিখে রাখুন।
- প্রযোজ্য জাতীয় বেতন স্কেল ও অর্থ বিভাগের স্পষ্টীকরণ/পরিপত্র দেখুন।
- দপ্তরের প্রশাসন শাখার মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যাচাই করান।
- অনুমোদনের পর প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ করুন।
বেতন নির্ধারণের সরকারি লিংক
iBAS++-এর অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড ও বেতন পুনর্নির্ধারণের ফরম রয়েছে। এটি বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে; কিন্তু ব্যক্তিগত প্রাপ্যতার চূড়ান্ত ভিত্তি হলো প্রযোজ্য সরকারি বিধান ও অনুমোদন।
প্রয়োজনীয় লিংক: জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫ | টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তদের বিশেষ সুবিধা-সংক্রান্ত নোটিশ | iBAS++ অনলাইন বেতন নির্ধারণী
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
টাইমস্কেল পাওয়ার পর কত বছর হলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যায়?
সময়সীমা নির্ধারণে প্রযোজ্য বেতন আদেশ, আগে পাওয়া সুবিধার ধরন ও কার্যকর তারিখ দেখতে হবে। একাধিক সুবিধা বা বিশেষ বিধান থাকলে হিসাব ভিন্ন হতে পারে।
টাইমস্কেল পাওয়া থাকলে কি আবেদন করতেই হবে?
দপ্তরের প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী নথি যাচাই, প্রস্তাব, অনুমোদন বা বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম প্রয়োজন হতে পারে। নিজের দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
শুধু iBAS++-এ আবেদন করলেই কি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে?
না। অনলাইন ফরম দাখিল প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র। যোগ্যতা, সরকারি আদেশ এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
টাইমস্কেল প্রাপ্তদের উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নির্ধারণে আগের সুবিধার সংখ্যা, কার্যকর তারিখ এবং চাকরির ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট গেজেট, অর্থ বিভাগের পরিপত্র এবং নিজের দপ্তরের হিসাব যাচাই করুন। এতে ভুল বেতন নির্ধারণ ও পরবর্তী আপত্তির ঝুঁকি কমবে।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।