আসসালামু আলাইকুম, পবিত্র রমজানুল মুবারকের শুভুচ্ছা।
ইফতারের দোয়া হলো রমজানের রোজা ভাঙার পর পড়া একটি সুন্নত আমল, যা রাসুল (সা.) পড়তেন। প্রধান দোয়াটি: “اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ” – বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু। অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি।
রোজাদার হিসেবে বাংলাদেশে রমজানে সারাদিনের তৃষ্ণা-ভুখ সহ্য করে ইফতারের মুহূর্তটি বিশেষ। এই দোয়া পড়লে রোজা কবুলের আশা বাড়ে এবং সওয়াব লাভ হয়।
ইফতারের সঠিক দোয়া কী?
রাসুল (সা.) ইফতারের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করতেন, যা হাদিসে বর্ণিত। দুটি প্রধান দোয়া আছে:
- প্রথম দোয়া (ইফতারের মূল দোয়া):
- আরবি: اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু।
- অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি।
- দ্বিতীয় দোয়া (পিপাসা মেটার পর):
- আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
- উচ্চারণ: যাহাবা য-যামাউ ওয়া বতাল্লাতিল উরুকু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
- অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সতেজ হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নির্ধারিত হলো।
এগুলো সুনানে আবু দাউদে (হাদিস: ২৩৫৭-২৩৫৮) বর্ণিত।
ইফতার কীভাবে করবেন?
বাংলাদেশী পরিবারে ইফতার প্রায়ই খেজুর-পানি দিয়ে শুরু হয়। সঠিক সুন্নাহ অনুসরণ করুন:
- সূর্যাস্ত হওয়া নিশ্চিত করুন (আজানের আগে ইফতার জায়েজ)।
- বিসমিল্লাহ বলে ১-৩টি খেজুর খান (না থাকলে পানি বা অন্য ফল)।
- পানি পান করুন।
- প্রথম দোয়া পড়ুন।
- দ্বিতীয় দোয়া পড়ুন।
- তারপর মাগরিব নামাজ আদায় করুন।
এতে রোজার পূর্ণ সওয়াব পাবেন। ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা ইফতার করুন।
ইফতারের পর কী দোয়া পড়বেন?
ইফতারের পর দরুদ শরিফ বা ইস্তিগফার পড়ুন। উদাহরণ: দরুদ ইবরাহিম। এছাড়া সাধারণ দোয়া যেমন রোজা কবুলের জন্য প্রার্থনা করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ইফতার শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলুন, তারপর খান এবং দোয়া পড়ুন। আগে কোনো বিশেষ দোয়া নেই।
হ্যাঁ, পানি বা ফল দিয়ে শুরু করুন। খেজুর সুন্নত কিন্তু ফরজ নয়।
রোজা কবুল হবে, কিন্তু দোয়া পড়লে অতিরিক্ত সওয়াব। এটি সুন্নত।
ডিসক্লেইমার: আমল করার ক্ষেত্রে অবশ্যই কোন আলেমের পরামর্শ নিন। ধন্যবাদ

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।