২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক পুরুষদের স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইলে সোনা জিতেছেন চীনের সু ইমিং (Su Yiming)। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইতালির লিভিনো স্নো পার্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তার প্রথম রানের স্কোর ছিল ৮২.৪১। রুপো পান জাপানের হাসেগাওয়া তাইগা (৮২.১৩) এবং ব্রোঞ্জ পান যুক্তরাষ্ট্রের জেক ক্যান্টার (৭৯.৩৬)।
মিলানো কর্টিনা ২০২৬
মিলানো কর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ইতালির আল্পস পর্বতমালার কোলে। লিভিনো স্নো পার্কের ঢালে যখন চীনের ২২ বছর বয়সী সু ইমিং তার প্রথম রান সম্পন্ন করলেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ। কারণ সেদিনটি শুধু একটি ইভেন্টের ফাইনাল ছিল না এটি ছিল সু ইমিং-এর ২২তম জন্মদিন, এবং চীনের জন্য এবারের অলিম্পিকে প্রথম সোনার পদক।
স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইল কী?
শীতকালীন এই খেলাটি সম্পর্কে সহজ কথায় বলতে গেলে, স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইল হলো এমন একটি ক্রীড়া যেখানে প্রতিযোগীরা তুষারাবৃত পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় বিভিন্ন বাধা (লোহার রেইল, বক্স) এবং বড় লাফের (কিকার বা জাম্প) উপর দিয়ে দারুণ সব ট্রিক বা কারসাজি দেখান।
বিচারকরা মূলত চারটি বিষয় মূল্যায়ন করেন:
- ক্রিয়েটিভিটি (Creativity): ট্রিকটি কতটা অভিনব বা উদ্ভাবনী।
- এক্সিকিউশন (Execution): কতটা নিখুঁতভাবে ট্রিক সম্পন্ন হয়েছে।
- ডিফিকাল্টি (Difficulty): ট্রিকটি কতটা কঠিন।
- ফ্লো (Flow): পুরো রানটি কতটা মসৃণ ও ছন্দময়।
প্রতিযোগীদের তিনটি রানের সুযোগ দেওয়া হয় এবং এর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরটিই চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে গণ্য হয়।
২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক স্লোপস্টাইল ফলাফল
| পদক | অ্যাথলেট | দেশ | সেরা স্কোর |
| 🥇 সোনা | সু ইমিং (Su Yiming) | চীন 🇨🇳 | ৮২.৪১ |
| 🥈 রুপো | হাসেগাওয়া তাইগা (Taiga Hasegawa) | জাপান 🇯🇵 | ৮২.১৩ |
| 🥉 ব্রোঞ্জ | জেক ক্যান্টার (Jake Canter) | যুক্তরাষ্ট্র 🇺🇸 | ৭৯.৩৬ |
ভেন্যু: লিভিনো স্নো পার্ক, ভালতেলিনা, ইতালি | ফাইনাল: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সু ইমিং
সু ইমিং জন্মগ্রহণ করেন ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে, চীনের জিলিন শহরে। বেইজিং ২০২২ অলিম্পিকে নিজের দেশে বিগ এয়ারে সোনা এবং স্লোপস্টাইলে রুপো জিতেছিলেন তিনি। তবে স্লোপস্টাইলের সোনাটা তখন হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।
চার বছরের অপেক্ষা, চোট ও মানসিক ক্লান্তি সামলে মিলানো কর্টিনায় তিনি ফিরে আসেন চ্যাম্পিয়নের মতোই। ফাইনালে প্রথম রানেই সু ইমিং স্কোর করেন ৮২.৪১, যা শেষ পর্যন্ত গোল্ড মেডেলজয়ী স্কোর হিসেবে অক্ষত থাকে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পারফরমার
- হাসেগাওয়া তাইগা (জাপান): এই পদক ঐতিহাসিক। তিনি হলেন জাপানের প্রথম পুরুষ অ্যাথলেট যিনি অলিম্পিক স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইলে পদক পেয়েছেন।
- জেক ক্যান্টার (যুক্তরাষ্ট্র): ক্যান্টার তার তৃতীয় এবং শেষ রানে ৭৯.৩৬ স্কোর করে অষ্টম স্থান থেকে দুর্দান্ত কামব্যাক করে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেন।
- মার্কাস ক্লেভেল্যান্ড (নরওয়ে): দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নরওয়ের মার্কাস ক্লেভেল্যান্ড মাত্র চতুর্থ স্থানে শেষ করেন, যা অলিম্পিকের সবচেয়ে আক্ষেপের জায়গা।
বিগ নেম কোথায় ছিলেন?
- ম্যাক্স প্যারট (কানাডা): বেইজিং ২০২২-এর সোনাজয়ী কানাডিয়ান কিংবদন্তি ম্যাক্স প্যারট এবার ইভেন্টেই অংশ নেননি।
- মার্ক ম্যাকমরিস (কানাডা): টানা তিনবারের অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী ম্যাকমরিস যোগ্যতা রাউন্ড পার করলেও ফাইনালে অষ্টম স্থানে (৭৫.৫০ স্কোর) শেষ করেন।
সু ইমিং-এর এই জয় কেন ঐতিহাসিক?
- চীনের প্রথম সোনা: মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এ চীনের প্রথম সোনার পদক।
- জন্মদিনে জয়: ঠিক নিজের ২২তম জন্মদিনে শীর্ষ পোডিয়ামে দাঁড়ানো।
- চতুর্থ অলিম্পিক পদক: মাত্র ২২ বছরে চারটি অলিম্পিক পদক লাভ (বেইজিংয়ে দুটি, মিলানোতে বিগ এয়ার ব্রোঞ্জ ও স্লোপস্টাইল সোনা)।
প্রশ্ন ও উত্তর
২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক পুরুষদের স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইলে কে জিতেছেন?
চীনের সু ইমিং সোনা জিতেছেন (স্কোর: ৮২.৪১)। জাপানের হাসেগাওয়া তাইগা রুপো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেক ক্যান্টার ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।
ম্যাক্স প্যারট কি ২০২৬ অলিম্পিক স্লোপস্টাইলে ছিলেন?
না। বেইজিং ২০২২-এর সোনাজয়ী ম্যাক্স প্যারট মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এ এই ইভেন্টে অংশ নেননি।
২০২৬ অলিম্পিক স্লোপস্টাইলে যোগ্যতা রাউন্ডের শীর্ষ স্কোরার কে ছিলেন?
নিউজিল্যান্ডের ডেইন মেনজিস (Dane Menzies) যোগ্যতা রাউন্ডে ৮৬.০৬ স্কোর করে শীর্ষে ছিলেন। তবে ফাইনালে তিনি সেই পারফর্ম্যান্স ধরে রাখতে পারেননি।
স্নোবোর্ডিং কি বাংলাদেশে জনপ্রিয়?
বাংলাদেশে তুষারপাত না হওয়ায় শীতকালীন ক্রীড়ার সরাসরি চর্চা নেই। তবে অলিম্পিক কভারেজ ও ডিজিটাল মিডিয়ার কারণে বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে এই রোমাঞ্চকর খেলার প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
শেষকথা
সু ইমিং-এর জয় কেবল একটি পদকের গল্প নয়; এটি হলো ধৈর্য, পরিশ্রম এবং নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখার গল্প। স্নোবোর্ডিং স্লোপস্টাইল এই অলিম্পিকে আবারও প্রমাণ করলো খেলাধুলায় যোগ্যতা রাউন্ডের চেয়ে ফাইনালের দিনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাপের মুহূর্তে যে স্থির থাকতে পারে, পোডিয়ামটা তারই।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।