বেতন নির্ধারণী বিবরণী (Pay Fixation Statement): জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬

অর্থ বিভাগের এস. আর. ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ (তারিখ: ১৭-০৯-২০২৬) অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর বেতন কীভাবে ধাপে ধাপে নির্ধারিত হবে, তারই একটি আনুষ্ঠানিক গণনা-ছক (worksheet) এই ছবিতে দেখানো হয়েছে। এটি মূলত ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO) বা iBAS++ সিস্টেমে বেতন নির্ধারণের সময় ব্যবহৃত ফর্মের কাঠামো। নিচে প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো, সাথে একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে পুরো হিসাবটি দেখানো হলো।

বিবরণীর ১৬টি ধাপ — কী বোঝায়

নংবিবরণউদ্দেশ্য
০১(ক)৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২০১৫ স্কেল অনুযায়ী গৃহীত মূল বেতনবর্তমান (পুরাতন) মূল বেতন চিহ্নিত করা
০১(খ)পিপি (Personal Pay, যদি থাকে)অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সুবিধা থাকলে যোগ করা
০২মোট বেতন (১ক+১খ)প্রকৃত বর্তমান বেতন নির্ণয়
০৩২০১৫ স্কেলে নিজের গ্রেডের প্রারম্ভিক (স্কেল শুরুর) ধাপনিজ গ্রেডের ভিত্তি বেতন কত ছিল তা বের করা
০৪পার্থক্য (০২ − ০৩)কর্মচারী প্রারম্ভিক ধাপ থেকে কত ধাপ এগিয়ে আছেন, তার টাকার অঙ্ক
০৫২০২৬ স্কেলে নিজের গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপনতুন স্কেলের ভিত্তি বেতন
০৬মোট মূলবেতন নির্ধারণ (০৫+০৪)নতুন স্কেলে “সমতুল্য” অবস্থান নির্ণয়
০৭০৬ নং-এর সমান বা তার পরবর্তী নিকটতম ধাপনতুন স্কেলের প্রকৃত ধাপে বসানো (গেজেটের অনুচ্ছেদ ৫(খ) অনুযায়ী)
০৮১ জুলাই ২০২৬-এ ১টি ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন (পে-স্কেল অনুচ্ছেদ ৯(২) মোতাবেক)পূর্ণ নতুন স্কেলে চূড়ান্ত ভিত্তি-বেতন (১০০% হারে, ভবিষ্যতের রেফারেন্স হিসেবে)
০৯৩০ জুন ২০২৬-এ ২০১৫ স্কেলে আহরিত মূলবেতনতুলনার ভিত্তি (০১ক-এর পুনরাবৃত্তি)
১০পার্থক্য (০৮ − ০৯)নতুন স্কেলে গেলে মোট কত টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছেন, তার পূর্ণ অঙ্ক
১১১০ নং-এর ৪০% (গ্রেড ১–৯) বা ৫০% (গ্রেড ১০–২০)১ম ধাপের (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬) আংশিক বৃদ্ধি
১২৩০ জুন ২০২৬-এ গৃহীত মূল বেতনভিত্তি বেতন (পুনরাবৃত্তি)
১৩১ জুলাই ২০২৬-এ কার্যকরী প্রাপ্য মূলবেতন (১২+১১)জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ে প্রকৃত হাতে পাওয়া বেতন
১৪১০ নং-এর ৭০% (গ্রেড ১–৯) বা ৭৫% (গ্রেড ১০–২০)২য় ধাপের (জানুয়ারি–জুন ২০২৭) আংশিক বৃদ্ধি
১৫১ জানুয়ারি ২০২৭-এ কার্যকরী প্রাপ্য মূলবেতন (১২+১৪)জানুয়ারি–জুন ২০২৭ সময়ে প্রকৃত হাতে পাওয়া বেতন
১৬১ জুলাই ২০২৭-এ প্রাপ্য মূলবেতন (০৮ নং-এর পরবর্তী ধাপ)১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ স্কেলে + বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ চূড়ান্ত বেতন

একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে হিসাব

ধরা যাক, ৯ম গ্রেডে কর্মরত একজন কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল বেতন ২৬,২০০ টাকা (২০১৫ স্কেলে)।

ধাপহিসাবফলাফল
০১(ক)+(খ), ০২গৃহীত মূল বেতন + পিপি (০)২৬,২০০ টাকা
০৩২০১৫ স্কেলে গ্রেড-৯-এর প্রারম্ভিক ধাপ২২,০০০ টাকা
০৪পার্থক্য (২৬,২০০ − ২২,০০০)৪,২০০ টাকা
০৫২০২৬ স্কেলে গ্রেড-৯-এর প্রারম্ভিক ধাপ৪৪,০০০ টাকা
০৬মোট (৪৪,০০০ + ৪,২০০)৪৮,২০০ টাকা
০৭নিকটতম পরবর্তী ধাপ (গ্রেড-৯ স্কেলে)৪৮,৬০০ টাকা
০৮১টি ইনক্রিমেন্টসহ প্রকৃত মূল বেতন৪৮,৬০০ টাকা
০৯৩০ জুন ২০২৬-এ আহরিত মূলবেতন২৬,২০০ টাকা
১০পার্থক্য (৪৮,৬০০ − ২৬,২০০)২২,৪০০ টাকা
১১৪০% (গ্রেড ৯, তাই ১–৯ গ্রেডের হার প্রযোজ্য)৮,৯৬০ টাকা
১২৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন২৬,২০০ টাকা
১৩১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এ প্রকৃত বেতন (১২+১১)৩৫,১৬০ টাকা
১৪৭০%১৫,৬৮০ টাকা
১৫১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭-এ প্রকৃত বেতন (১২+১৪)৪১,৮৮০ টাকা
১৬১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ বেতন (০৮-এর পরবর্তী ধাপ)৫১,০০০ টাকা

(এটি শুধু পদ্ধতি বোঝানোর জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক হিসাব — প্রকৃত বেতন নির্ধারণ হবে iBAS++ সিস্টেমে নিজ গ্রেড ও বর্তমান ধাপ অনুযায়ী।)

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

১. দুইবার ইনক্রিমেন্ট গণনা হচ্ছে না — ধাপ ০৭-০৮ শুধু ১০০% হারের (২০২৭ সালের জুলাই থেকে কার্যকর) চূড়ান্ত অবস্থান নির্ণয়ের জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট তৈরি করছে; প্রকৃত মাসিক বেতন নির্ধারিত হচ্ছে ধাপ ১৩ ও ১৫-এ, যেখানে ৪০/৭০% বা ৫০/৭৫% হারে আংশিক বৃদ্ধি যোগ হচ্ছে।

২. গ্রেডভেদে হার ভিন্ন — ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে ৪০%→৭০% হারে বৃদ্ধি হয়, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে (৫০%→৭৫%) বৃদ্ধি হয় — অর্থাৎ নিচের গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম দুই ধাপেই আনুপাতিকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

৩. ১ জুলাই ২০২৭ থেকেই পূর্ণ স্কেল — এর আগে কেউই সম্পূর্ণ নতুন স্কেলের অঙ্ক হাতে পাবেন না; পুরো প্রক্রিয়াটি একটি দুই বছরের রূপান্তর পর্যায়।

ভাতাদির প্রাপ্যতা সংক্রান্ত নোট (ছবির নিচের অংশ)

  • বাড়ি ভাড়া ভাতা: ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাবকৃত হারেই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রদান করা হবে — নতুন বেতনের ভিত্তিতে নয়।
  • চিকিৎসা ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, ধোলাই ভাতা, টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা — একইভাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত পুরাতন হারেই প্রদেয় হবে।

অর্থাৎ ২০২৬-২৭ সালে মূল বেতন ধাপে ধাপে বাড়লেও, বেশিরভাগ ভাতা বাড়বে না — তা বাড়বে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে, নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে (এটি আগের আলোচনায় উল্লেখিত অনুচ্ছেদ ১২-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ)।

সারাংশ

এই বিবরণী ফর্মটি মূলত গেজেটের অনুচ্ছেদ ৫ (বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি) ও অনুচ্ছেদ ১(৩) (ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন) — দুটোকে একত্রে একটি একক গণনা-প্রক্রিয়ায় রূপ দিয়েছে, যাতে প্রতিটি কর্মচারী বা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সহজে ধাপে ধাপে নিজের প্রকৃত মাসিক বেতন বের করতে পারেন — জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭, এবং জুলাই ২০২৭ — এই তিনটি সময়বিন্দুর জন্য আলাদাভাবে।

Leave a Comment