BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেড: পার্থক্য, নিয়ম ও প্রাপ্যতা

সরকারি চাকরিতে টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেড নিয়ে অনেক কর্মচারীর মনে প্রশ্ন থাকে। দুটির নাম কাছাকাছি মনে হলেও এগুলোর বিধান, প্রযোজ্য সময় এবং বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এক নয়। বিশেষ করে আগে টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে পরবর্তীতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে কি না, তা বুঝতে চাকরির ইতিহাস ও সরকারি আদেশ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

টাইমস্কেল কী?

টাইমস্কেল বলতে অতীতে প্রচলিত এমন একটি বেতন-সুবিধাকে বোঝানো হতো, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কর্মচারী নির্ধারিত সময় বা শর্ত অনুসারে উচ্চতর বেতন স্কেল পেতেন। জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশে সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও উচ্চতর স্কেল (টাইমস্কেল) দেওয়ার পুরোনো বিধান বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে আগের সময়ে বৈধভাবে পাওয়া সুবিধার রেকর্ড পরবর্তী বেতন নির্ধারণ বা প্রাপ্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

উচ্চতর গ্রেড কী?

উচ্চতর গ্রেড হলো প্রযোজ্য সরকারি বিধানের শর্ত পূরণ করলে একই পদে কর্মরত যোগ্য কর্মচারীর বেতন পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে নির্ধারণের সুবিধা। এটি নিজে থেকে পদোন্নতি নয়; পদবি বা দায়িত্ব পরিবর্তনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না।

টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের প্রধান পার্থক্য

বিষয় টাইমস্কেল উচ্চতর গ্রেড
বিধানের প্রেক্ষাপট আগের বেতন কাঠামোর সুবিধা প্রযোজ্য বেতন আদেশের নির্দিষ্ট বিধান
বর্তমান বিবেচনা আগে পাওয়া সুবিধার নথি যাচাই করা হয় যোগ্যতা ও প্রযোজ্য বিধান অনুসারে প্রাপ্যতা নির্ধারিত হয়
পদোন্নতি এটি নিজে পদোন্নতি নয় এটিও নিজে পদোন্নতি নয়
প্রয়োজনীয় যাচাই মঞ্জুরির আদেশ ও কার্যকর তারিখ চাকরির মেয়াদ, সন্তোষজনক চাকরি ও পূর্ববর্তী সুবিধার ইতিহাস

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেডের সাধারণ নিয়ম

জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর অনুচ্ছেদ ৭(১)-এ বলা হয়েছে, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার বিধান রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭(২)-এ প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পরবর্তী ছয় বছর পদোন্নতি না হলে এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের বিধান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট স্পষ্টীকরণ, আদালতের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী সরকারি পরিপত্র এবং কর্মচারীর ব্যক্তিগত রেকর্ড বিবেচনা না করে এই সাধারণ নিয়মকে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

আগে টাইমস্কেল পেয়ে থাকলে কী করবেন?

  • টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরির অফিস আদেশ সংগ্রহ করুন।
  • কোন পদে এবং কোন তারিখে সুবিধাটি কার্যকর হয়েছিল, তা যাচাই করুন।
  • একই পদে একাধিক উচ্চতর আর্থিক সুবিধা পাওয়া হয়েছে কি না দেখুন।
  • সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের পরিপত্র এবং প্রযোজ্য বিশেষ সুবিধা-সংক্রান্ত নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
  • দপ্তরের প্রশাসন ও হিসাবরক্ষণ শাখার মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের হিসাব যাচাই করুন।

বেতন নির্ধারণ কোথায় করবেন?

সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++ অনলাইন ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-সংক্রান্ত ফরম রয়েছে। সেখানে টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন পুনর্নির্ধারণের বিভিন্ন প্রক্রিয়া উল্লেখ আছে। কোন ফরম আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা দপ্তরের হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে নিশ্চিত করুন।

সরকারি সূত্র: অর্থ বিভাগের জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫ | iBAS++ অনলাইন বেতন নির্ধারণী | টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা-সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের নোটিশ

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেড কি একই?

না। এগুলো ভিন্ন বিধান ও সময়ের বেতন-সুবিধার নাম। আগে পাওয়া টাইমস্কেল পরবর্তী প্রাপ্যতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে, কিন্তু দুটিকে একই ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

উচ্চতর গ্রেড পেলেই কি পদোন্নতি হয়?

না। উচ্চতর গ্রেড বেতন-সুবিধা; পদোন্নতি আলাদা প্রক্রিয়া।

কোন নিয়মটি আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

আপনার নিয়োগের ধরন, পদ, চাকরির মেয়াদ, পূর্বে পাওয়া সুবিধা এবং সর্বশেষ প্রযোজ্য সরকারি আদেশ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শেষ কথা

টাইমস্কেল ও উচ্চতর গ্রেডের পার্থক্য বুঝতে হলে শুধু নাম বা চাকরির বছর দেখলেই হবে না। মঞ্জুরির আদেশ, কার্যকর তারিখ, চাকরির রেকর্ড এবং প্রযোজ্য গেজেট/পরিপত্র একসঙ্গে যাচাই করুন। ব্যক্তিগত প্রাপ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দপ্তরের প্রশাসন শাখা ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের পরামর্শ নিন।

Leave a Comment