সিলেকশন গ্রেডের নিয়ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনেক সরকারি কর্মচারী পুরোনো নিয়ম ও বর্তমান বিধান গুলিয়ে ফেলেন। কারণ সিলেকশন গ্রেড আগে প্রচলিত বেতন-সুবিধার একটি ধরন ছিল, কিন্তু জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫ জারির সময় পুরোনো সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও টাইমস্কেল দেওয়ার বিধান বিলুপ্ত করা হয়। তাই এখন কোনো কর্মচারীর প্রাপ্যতা যাচাই করতে হলে তাঁর চাকরির সময়কাল, পূর্বে পাওয়া সুবিধা এবং বর্তমানে প্রযোজ্য সরকারি আদেশ দেখতে হবে।
সিলেকশন গ্রেড কী?
সিলেকশন গ্রেড ছিল নির্দিষ্ট শর্তে কর্মচারীকে উচ্চতর বেতন স্কেলে বেতন পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার একটি পুরোনো ব্যবস্থা। এটি সাধারণ পদোন্নতির সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। কোন কর্মচারী কখন এবং কোন শর্তে সিলেকশন গ্রেড পেতেন, তা সংশ্লিষ্ট সময়ের চাকরি বিধি ও বেতন আদেশের ওপর নির্ভর করত।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এ কী পরিবর্তন হয়?
জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশের অনুচ্ছেদ ৬-এ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে গেজেট প্রকাশের পর সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও উচ্চতর স্কেল (টাইমস্কেল) প্রদানের পুরোনো বিধান বিলুপ্ত করার কথা উল্লেখ আছে। একই আদেশের অনুচ্ছেদ ৭-এ নির্দিষ্ট শর্তে উচ্চতর গ্রেডের বিধান দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরোনো সিলেকশন গ্রেডের নিয়মকে বর্তমান উচ্চতর গ্রেডের নিয়ম হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
সিলেকশন গ্রেডের নিয়ম জানতে কোন বিষয়গুলো দেখবেন?
- মঞ্জুরির তারিখ: সিলেকশন গ্রেড কোন তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছিল তা যাচাই করুন।
- পদ ও বেতন স্কেল: সুবিধাটি কোন পদে এবং কোন স্কেলে দেওয়া হয়েছিল তা দেখুন।
- সংশ্লিষ্ট আদেশ: অফিস আদেশ, গেজেট এবং প্রযোজ্য অর্থ বিভাগের পরিপত্র সংগ্রহ করুন।
- পরবর্তী সুবিধা: একই পদে পরে টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন কি না যাচাই করুন।
- বর্তমান প্রাপ্যতা: পরবর্তী কোনো সরকারি নির্দেশনা বা বিশেষ সুবিধা-সংক্রান্ত আদেশ প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করুন।
আগে সিলেকশন গ্রেড পেলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে?
এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। একই পদে আগে পাওয়া সিলেকশন গ্রেডের সংখ্যা, মঞ্জুরির তারিখ এবং প্রযোজ্য সরকারি ব্যাখ্যা পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থ বিভাগের ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখের নোটিশে টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড/উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য গ্রেড নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। নিজের ক্ষেত্রে কীভাবে এটি প্রযোজ্য হবে, তা মূল নোটিশ ও সংযুক্তি দেখে নিশ্চিত করুন।
কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
- নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র
- সার্ভিস বুক বা চাকরির রেকর্ড
- সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরির অফিস আদেশ
- আগের বেতন নির্ধারণের কপি
- টাইমস্কেল/উচ্চতর গ্রেডের অন্যান্য আদেশ
- দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি
বেতন নির্ধারণ কীভাবে যাচাই করবেন?
iBAS++ অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর জন্য টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন পুনর্নির্ধারণের ফরম রয়েছে। তবে শুধু অনলাইনে তথ্য দাখিল করলেই কোনো সুবিধা আইনগতভাবে প্রাপ্য হয়ে যায় না। প্রযোজ্য বিধান, অফিস আদেশ এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্র: জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫, অর্থ বিভাগ | বিশেষ সুবিধায় বিবেচ্য গ্রেড-সংক্রান্ত নোটিশ, ৩০ জুলাই ২০২৫ | iBAS++ বেতন নির্ধারণী
প্রশ্নোত্তর
বর্তমানে কি নতুন করে সিলেকশন গ্রেড দেওয়া হয়?
জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫-এর আদেশে পুরোনো সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রদানের বিধান বিলুপ্ত হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মচারীর পুরোনো মঞ্জুরি বা বিশেষ বিধান যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ দেখতে হবে।
সিলেকশন গ্রেড আর পদোন্নতি কি এক?
না। সিলেকশন গ্রেড ছিল বেতন-সুবিধার একটি ব্যবস্থা; পদোন্নতি হলো পদ বা পদমর্যাদায় উন্নীত হওয়ার আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
সিলেকশন গ্রেডের কাগজপত্র কোথায় জমা দেব?
প্রথমে নিজ দপ্তরের প্রশাসন বা হিসাব শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে তারা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই প্রক্রিয়া জানাবে।
শেষ কথা
সিলেকশন গ্রেডের নিয়ম বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন আদেশ এবং বর্তমানে প্রযোজ্য নির্দেশনা আলাদা করে দেখতে হবে। পুরোনো সুবিধা পাওয়ার তথ্য গোপন না করে সব আদেশসহ দপ্তরের মাধ্যমে প্রাপ্যতা যাচাই করুন। এতে ভুল বেতন নির্ধারণ ও পরবর্তী জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।