সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রবাসীরা আগে নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরসিটিএ) শুধু অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে খুলতে পারতেন। ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগ নিয়ম বদলেছে। এখন অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকেও এই হিসাব খোলা যাবে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সার্কুলার ২৩ জুনের আগের সার্কুলারের জায়গায় এসেছে এবং বিদ্যমান হিসাব নতুন নিয়মেই চলবে।
এনআরসিটিএ আসলে কী
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা এই হিসাবে টাকায় অর্থ জমা রাখতে পারেন, দেশে খরচ ও বিনিয়োগ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে বিদেশে ফেরত পাঠাতে পারেন।
নতুন নিয়মে যা যা মিলবে
- আরও বেশি ব্যাংক: অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকেও হিসাব খোলা যাবে।
- তিন ধরনের হিসাব: সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি।
- জমা: ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস ও মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে পাঠানো টাকা এবং নিজের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে স্থানান্তর করা অর্থ।
- দেশে ব্যবহার: খরচ মেটানো, অন্য হিসাবে টাকা পাঠানো এবং অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ।
- ঋণ: হিসাবে জমা টাকা জামানত রেখে ঋণ নেওয়া যাবে।
- বিদেশে পাঠানো: হিসাবের মূল টাকা এবং তার ওপর অর্জিত সুদ বা মুনাফা বিদেশে পাঠানো যাবে।
- অনলাইন সেবা: ব্যাংকগুলো অনলাইনে হিসাব খোলা ও ই-ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে।
সংবাদে আরও যা এসেছে
- স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পরও হিসাবটি চালু রাখা যাবে।
- বিদেশে থাকা অবস্থায় হিসাবধারীর মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি পুরো অর্থ পাবেন।
- ডিলার ব্যাংকগুলো এই হিসাবের জমা অর্থ থেকে সাধারণ ব্যাংকিংয়ের মতো ঋণ দিতে পারবে।
এই তিনটি তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। সার্কুলারের মূল কপির সঙ্গে আমি মিলিয়ে দেখিনি।
খোলার আগে কী দেখবেন
- আপনার ব্যাংক এই হিসাব চালু করেছে কি না এবং অনলাইনে খোলার সুযোগ আছে কি না।
- সুদ বা মুনাফার হার, ফি এবং মেয়াদি হিসাবের শর্ত ব্যাংকভেদে আলাদা হতে পারে। সার্কুলারে এগুলো নির্দিষ্ট করা নেই।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদিত বিনিয়োগ খাতের তালিকা ব্যাংকের কাছ থেকে লিখিত নিন।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
আগে কোথায় খোলা যেত?
শুধু অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে। এখন অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকেও।
সুদের টাকা কি বিদেশে পাঠানো যাবে?
হ্যাঁ। সার্কুলার অনুযায়ী মূল টাকার পাশাপাশি অর্জিত সুদ বা মুনাফাও পাঠানো যাবে।
দায়মুক্তি: এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচারিত তথ্যছবি ও সংবাদ প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ। সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল সার্কুলার ও আপনার ব্যাংকের নির্দেশনা দেখুন।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।
