আপনি কি জানেন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে বর্তমানে কয়টি সিম নিবন্ধিত আছে? বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিম কার্ডের মালিকানায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে একজন গ্রাহক তার এনআইডি দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি সিম কার্ড নিজের নামে রাখতে পারবেন। এর বেশি সিম থাকলে সেগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সংক্ষেপে মূল তথ্য:
- নতুন সীমা: এনআইডি প্রতি সর্বোচ্চ ৫টি সিম।
- কার্যকরী তারিখ: ১ জানুয়ারি, ২০২৬।
- অতিরিক্ত সিমের পরিণতি: যাদের ১০টির বেশি সিম আছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলো জানুয়ারি থেকেই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
- নতুন সংযোজন: স্মার্ট ডিভাইসের জন্য আসছে ভয়েস-বিহীন আইওটি (IoT) সিম।
বিটিআরসি কেন সিমের সংখ্যা কমিয়ে ৫টি করছে?
এতদিন একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রাখতে পারতেন, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ১০টি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এবং নিরাপত্তার খাতিরে এই সংখ্যা কমিয়ে ৫টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং টেলিকম খাতের শৃঙ্খলার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বিটিআরসি আইওটি (IoT) সিম চালুর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করেছে।
আপনার যদি ১০টির বেশি সিম থাকে তবে কী হবে?
বিটিআরসির তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় ৯০ লাখ গ্রাহক আছেন যাদের একটি এনআইডির বিপরীতে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত।
- অটোমেটিক ডিঅ্যাক্টিভেশন: যাদের ১০টির বেশি সিম আছে, অপারেটররা তাদের তথ্য যাচাই করে অতিরিক্ত সিমগুলো বন্ধ করে দেবে।
- পছন্দের সুযোগ: গ্রাহক চাইলে নিজে বাছাই করতে পারবেন কোন সিমগুলো তিনি সচল রাখতে চান।
- ডেডলাইন: ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই তালিকা তৈরির কাজ শেষ হবে এবং জানুয়ারি থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু হবে।
নতুন আসছে আইওটি (IoT) সিম: এটি আসলে কী?
অনেকেই ভাবছেন ৫টি সিমের সীমা দিয়ে হয়তো বর্তমান যুগে সব কাজ চালানো সম্ভব হবে না। তাদের জন্য সুখবর হলো আইওটি (IoT) সিম।
- এই সিমগুলো শুধুমাত্র ডাটা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য।
- এতে কোনো ভয়েস কল সুবিধা থাকবে না।
- গাড়ির ট্র্যাকিং, স্মার্ট ডিভাইস বা সিসি ক্যামেরার মতো ডিভাইসে এগুলো ব্যবহার করা যাবে।
- সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই আইওটি সিমগুলো আপনার ব্যক্তিগত ব্যবহারের ৫টি সিমের লিমিটের বাইরে থাকবে।
গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও করণীয়
আপনার নামে কয়টি সিম আছে তা আজই যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত সিমগুলো হুট করে বন্ধ হয়ে গেলে আপনার প্রয়োজনীয় কোনো অ্যাকাউন্ট (যেমন- বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) বিপদে পড়তে পারে।
আপনার এনআইডিতে কয়টি সিম নিবন্ধিত তা দেখার উপায়: আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *16001# ডায়াল করুন। এরপর আপনার এনআইডি কার্ডের শেষ ৪টি ডিজিট দিন। ফিরতি এসএমএসে আপনি আপনার নামে নিবন্ধিত সব সিমের তালিকা পেয়ে যাবেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. ৫টির বেশি সিম থাকলে কি সব বন্ধ হয়ে যাবে? না, ৫টির বেশি কিন্তু ১০টির কম সিম থাকলে সেগুলো এখনই বন্ধ হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কোনো সিম আর কেনা যাবে না। যাদের ১০টির বেশি সিম আছে, তাদের অতিরিক্তগুলো বন্ধ হবে।
২. আইওটি সিম কি স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যাবে? আইওটি সিম সাধারণত ডাটা ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা। এগুলো ভয়েস কল সাপোর্ট করবে না, তাই ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের চেয়ে স্মার্ট ডিভাইসে এটি বেশি কার্যকর।
৩. বাড়তি সিম বন্ধ হলে কি রিফান্ড পাওয়া যাবে? সাধারণত সিম বন্ধ হয়ে গেলে ব্যালেন্স রিফান্ডের কোনো সরাসরি নির্দেশনা এখনও অপারেটরদের পক্ষ থেকে আসেনি। তাই অতিরিক্ত সিমে বড় অঙ্কের ব্যালেন্স না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি (প্রকাশিত প্রতিবেদন: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) আপডেট তারিখ: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
আমাদের মতামত: বিটিআরসির এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে গ্রাহকদের উচিত এখনই তাদের নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা চেক করে প্রয়োজনীয় সিমগুলো গুছিয়ে নেওয়া, যাতে বছরের শুরুতেই কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
আপনার কি ৫টির বেশি সিম ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে? কমেন্টে আমাদের জানান অথবা আরও তথ্যের জন্য আমাদের পরবর্তী আপডেটগুলো অনুসরণ করুন।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।