সরকারি কর্মচারী নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯ অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মচারী তার চাকরিকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরণের ছুটি ভোগ করতে পারেন। এর মধ্যে প্রধান হলো কর্মকালের ১/১১ হারে অর্জিত গড় বেতনে ছুটি এবং বছরে সর্বোচ্চ ২০দিন নৈমিত্তিক ছুটি । এছাড়াও মহিলা কর্মচারীরা সমগ্র চাকরিকালীন জীবনে ২ বার ৬ মাস করে প্রসূতি ছুটি পেয়ে থাকেন । এই বিধিমালাটি ১৯৫৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি সকল সরকারি কর্মচারীর ছুটির অধিকার নিশ্চিত করে ।
নির্ধারিত ছুটিবিধিমালা ১৯৫৯ এর প্রধান ছুটির ধরণসমূহ
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ও ১৯৫৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা প্রধানত নিম্নলিখিত ছুটিগুলো ভোগ করতে পারেন:
- অর্জিত ছুটি (Earned Leave): গড় বেতনে এবং অর্ধ-গড় বেতনে অর্জিত ছুটি ।
- নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave): জরুরি প্রয়োজনে স্বল্পকালীন অনুপস্থিতি ।
- প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave): মহিলা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি ।
- অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave): উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের জন্য ।
- অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave): বেতনবিহীন বিশেষ ছুটি ।
- শ্রান্তি বিনোদন ছুটি (Rest and Recreation Leave): প্রতি ৩ বছর অন্তর ভাতা ও ছুটি ।
অর্জিত ছুটি (Earned Leave) হিসাব করার নিয়ম
অর্জিত ছুটি মূলত কর্মকালের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত হয়। এটি দুই ভাবে হিসাব করা হয়:
গড় বেতনে অর্জিত ছুটি
- অর্জনের হার: একজন কর্মচারী কর্মকালের প্রতি ১১ দিনের জন্য ১ দিন হারে এই ছুটি অর্জন করেন ।
- জমার সীমা: এই ছুটি সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত একত্রে জমা হতে পারে । ৪ মাসের অতিরিক্ত অর্জিত ছুটি একটি পৃথক হিসাবে জমা রাখা হয় যা বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন চিকিৎসা বা তীর্থযাত্রা) ব্যবহার করা যায় ।
- ভোগের সীমা: এককালীন সর্বোচ্চ ৪ মাসের বেশি গড় বেতনে ছুটি ভোগ করা যাবে না, তবে চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে এটি ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে ।
অর্ধ-গড় বেতনে অর্জিত ছুটি
- অর্জনের হার: কর্মকালের প্রতি ১২ দিনের জন্য ১ দিন হারে এই ছুটি অর্জিত হয় এবং এটি সীমাহীনভাবে জমা হতে পারে ।
- রূপান্তর: চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে প্রতি ২ দিন অর্ধ-গড় বেতনের ছুটির পরিবর্তে ১ দিন গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তর করা যায়, যা সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে ।
প্রসূতি ছুটি বিধিমালা ২০২১
মহিলা সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রসূতি ছুটি একটি সংরক্ষিত অধিকার। এর নিয়মগুলো হলো:
- ছুটির মেয়াদ: সন্তান প্রসবের পূর্বে বা পরে মিলিয়ে মোট ৬ মাস ছুটি পাওয়া যায় ।
- বেতন: এই সময়ে কর্মচারী সর্বশেষ উত্তোলিত হারে পূর্ণ বেতন পাবেন ।
- সীমা: সমগ্র চাকরিকালীন জীবনে এই ছুটি সর্বোচ্চ ২ বার নেওয়া যাবে ।
- অস্থায়ী কর্মচারী: চাকরির মেয়াদ নির্বিশেষে সকল অস্থায়ী মহিলা কর্মচারীও এখন এই ছুটি পাওয়ার যোগ্য ।
নৈমিত্তিক ছুটি ও অন্যান্য জরুরি ছুটি
নৈমিত্তিক ছুটি মূলত সার্ভিস রুলস স্বীকৃত কোনো প্রথাগত ছুটি নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনে কাজে অনুপস্থিতি ।
- বাৎসরিক সীমা: এক পঞ্জিকা বর্ষে সর্বমোট ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করা যায় ।
- এককালীন সীমা: একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ দিনের বেশি এই ছুটি নেওয়া যায় না ।
- সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave): পরিবারের কারো সংক্রামক ব্যাধি হলে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ২১ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত এই ছুটি পাওয়া যায়, যা কর্মকাল হিসেবে গণ্য হয় ।
শ্রান্তি বিনোদন ও বহিঃবাংলাদেশ ছুটি
- শ্রান্তি বিনোদন: প্রতি ৩ বছর অন্তর ১৫ দিনের গড় বেতনে ছুটি এবং ১ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পাওয়া যায় ।
- বহিঃ বাংলাদেশ ছুটি: দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অগ্রিম ছুটির মঞ্জুরি এবং জি.ও (GO) নিতে হবে ।
অবসর–উত্তর ছুটি
সরকারি কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১২ মাস বা ১ বছর পর্যন্ত পিআরএল (PRL) ভোগ করতে পারেন । যদি কোনো কর্মচারী এই ছুটি ভোগ না করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ১২ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যামগ্র্যান্ট হিসেবে পাবেন ।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
হ্যাঁ, গড় বেতনে বা অর্ধ-গড় বেতনে ছুটিতে থাকাকালীন সময় পূর্ণ হারে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়া যায় ।
যদি কোনো অস্থায়ী কর্মচারী ৩ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকুরি সম্পন্ন করেন, তবে তিনি ছুটির উদ্দেশ্যে স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন ।
হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ মাস এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি (Leave Not Due) অর্ধ-গড় বেতনে নেওয়া যেতে পারে ।
তথ্যসূত্র ও আপডেট:
- নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ ।
- বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) পার্ট-১ ।
- সর্বশেষ আপডেট তারিখ: ১ জানুয়ারি, ২০২৬।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।