সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেলের সর্বশেষ খবর হলোজাতীয় বেতন কমিশন বর্তমানে নবম পে স্কেলের সুপারিশ তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের পে স্কেলে বেতন বৈষম্য কমাতে বর্তমানের ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৪ বা ১৬টিতে আনার জোরালো প্রস্তাবনা চলছে।
৯ম পে স্কেলের সর্বশেষ আপডেট (জানুয়ারি ২, ২০২৬)
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কিছু প্রশাসনিক কারণে তা ২০২৬ সালের প্রথম কোয়ার্টারে সম্পন্ন হতে পারে। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর নির্ধারিত পূর্ণ কমিশনের সভাটি সাধারণ ছুটির কারণে স্থগিত হলেও চলতি সপ্তাহেই নতুন তারিখ নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পে স্কেলের খবর: গ্রেড সংখ্যা নিয়ে যে ৩টি প্রস্তাবনা আলোচনায় আছে
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বেতন বৈষম্য দূর করা। কমিশন বর্তমানে ৩টি বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে:
- বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা: বর্তমান কাঠামো ঠিক রেখে শুধু বেতন বৃদ্ধি করা।
- ১৬টি গ্রেডে নামিয়ে আনা: মধ্যম সারির ও নিম্নধাপের কর্মচারীদের বৈষম্য কমাতে ১৬টি গ্রেড করা।
- ১৪টি গ্রেডে রূপান্তর: একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে বৈষম্য প্রায় পুরোপুরি নির্মূল করার প্রস্তাব।
কত টাকা বাড়তে পারে সরকারি কর্মচারীদের বেতন?
পে কমিশনের প্রাথমিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান বাজারমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনা করে মূল বেতন গড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
- সর্বনিম্ন বেতন: বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬,৫০০ টাকা থেকে ৩২,০০০ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন সংগঠন থেকে।
- সর্বোচ্চ বেতন: গ্রেড-১ এর বেতন ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা: মাসিক চিকিৎসা ভাতা এবং সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা ভাতা দ্বিগুণ করার সুপারিশ আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
৯ ধাপের বেতন কাঠামো ও কর্মচারীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মচারীরা প্রত্যাশা করছেন যেন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করা হয়। নিচে বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরিবর্তনের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা (৮ম পে স্কেল) | সম্ভাব্য পরিবর্তন (৯ম পে স্কেল) |
| গ্রেড সংখ্যা | ২০টি | ১৪ – ১৬টি |
| সর্বনিম্ন মূল বেতন | ৮,২৫০ টাকা | ১৬,৫০০ – ৩২,০০০ টাকা (প্রস্তাবিত) |
| বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট | ৫% চক্রবৃদ্ধি হার | আরও বৃদ্ধির প্রস্তাব |
| মহার্ঘ ভাতা | ১০% (বিশেষ সুবিধা) | স্থায়ী বেতন কাঠামোয় সমন্বয় |
কেন নতুন পে স্কেল প্রয়োজন?
বিগত ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ করে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানেই সরকার নতুন বেতন কমিশন গঠন করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নতুন পে স্কেল কেবল সরকারি কর্মচারীদের নয়, বরং পরোক্ষভাবে বেসরকারি খাতের বেতন কাঠামোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পে স্কেলের খবর নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. ৯ম পে স্কেল কবে কার্যকর হবে?
কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর সরকার তা যাচাই-বাছাই করে ২০২৬ সালের যেকোনো মাসে গেজেট প্রকাশ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ২০২৬-এর জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. ২০ গ্রেডের পরিবর্তে কি গ্রেড কমানো হবে?
হ্যাঁ, বেতন বৈষম্য কমানোর জন্য কমিশন গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৬ বা ১৪টিতে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
৩. নতুন পে স্কেলে ইনক্রিমেন্ট কত হবে?
বর্তমান চক্রবৃদ্ধি হারের ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখার পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে।
শেষকথা
পে স্কেলের খবর এখন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর জন্য আশার আলো। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন পে স্কেল সময়ের দাবি। কমিশনের সুপারিশ ও সরকারি সিদ্ধান্তের সঠিক তথ্য পেতে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমে চোখ রাখুন।
সর্বশেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি, ২০২৬
তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।