আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত ৯ম পে স্কেল ২০২৬-এর চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী ২১ জানুয়ারি জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের পে স্কেলে হয়ত বেতন বৈষম্য কমাতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার জোরালো সুপারিশ করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং সেটা জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারে।
নতুন পে স্কেল ২০২৬: কী থাকছে এবারের রিপোর্টে?
বাংলাদেশ সরকারি বেতন কমিশন (National Pay Commission) তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন বেতন কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
১. বেতন বৈষম্য কমাতে ১:৮ অনুপাত
বর্তমান কাঠামোতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতনের যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনার জন্য ১:৮ অনুপাত প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন গ্রেডের (বিশেষ করে ১১-২০ গ্রেড) কর্মচারীদের বেতন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
২. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের সম্ভাব্য হার
বিভিন্ন সূত্র এবং সাম্প্রতিক বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী:
- সর্বোচ্চ বেতন: ১,২০,০০০ টাকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- সর্বনিম্ন বেতন: ২১,০০০ টাকা, ১৭,০০০ টাকা অথবা ১৬,০০০ টাকা। এই তিনটি প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনার টেবিলে আছে। তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ২১,০০০ টাকার দাবিটিই সবচেয়ে জোরালো।
বাজেট ও বাস্তবায়নের সময়সীমা
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার ইতিমধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
- বাজেট বরাদ্দ: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ ২২,০০০ কোটি টাকা নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মূল বেতন (Basic) এবং জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি নাটোরের এক সভায় চাকুরিজীবীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর খুব শীঘ্রই বাস্তবায়ন শুরু হবে।”
কেন এই পে স্কেল চাকুরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বিগত ১০ বছর ধরে নতুন কোনো পে স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে ছিলেন। এবারের পে স্কেল শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে বেশ কিছু নতুন দিক থাকছে:
- স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্ট: বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার পুনর্নির্ধারণ।
- চিকিৎসা ও আবাসন ভাতা: বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় এই ভাতাগুলো দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- পেনশন সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য বীমা ও পেনশন বৃদ্ধির পরিকল্পনা।
সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব
এই নতুন পে স্কেল শুধুমাত্র সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। বেতন বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, তবে এর ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে, সেদিকেও সরকারের নজর রাখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যম (প্রথম আলো, সময় নিউজ ও সমকাল)।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।