আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের জন্য সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,৭৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য এই সীমা ৪,২৫,০০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ৫,০০,০০০ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহতদের জন্য ৫,২৫,০০০ টাকা।
বাংলাদেশ সরকারের নতুন আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের (২০২৬-২০২৭ থেকে ২০৩০-২০৩১) জন্য করহারের নতুন তফসিল প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি যদি একজন করদাতা হয়ে থাকেন, তবে আপনার আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করার আগে নতুন এই স্ল্যাবগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য নতুন আয়কর হার, বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা এবং বিশেষ সুবিধাগুলো সহজভাবে আলোচনা করেছি।
কাদের জন্য এই করহার প্রযোজ্য?
নতুন এই তফসিলটি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(৬৯) এ সংজ্ঞায়িত নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে:
- সাধারণ ব্যক্তি করদাতা (Individual)
- অনিবাসী বাংলাদেশি (Non-Resident Bangladeshis – NRB)
- হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (Hindu Undivided Family)
২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ করবর্ষের আয়কর স্ল্যাব
সাধারণ করদাতাদের জন্য মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচে একটি সহজ টেবিলের মাধ্যমে করধাপগুলো তুলে ধরা হলো:
| আয়ের ধাপ (করধাপ) | করহার (Tax Rate) |
| প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত | শূন্য (০%) |
| পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ১০% |
| পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ১৫% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ২০% |
| পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত | ২৫% |
| অবশিষ্ট টাকার উপর | ৩০% |
বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা
সরকার সমাজের বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য সাধারণ করমুক্ত আয়ের (৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) চেয়ে বেশি ছাড় প্রদান করেছে। শর্তসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
- মহিলা ও বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক: মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৪,২৫,০০০ টাকা।
- তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী: তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং স্বাভাবিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫,০০,০০০ টাকা।
- মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা: গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ৫,২৫,০০০ টাকা।
প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতার জন্য বিশেষ সুবিধা
যদি কোনো করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকে, তবে তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
- কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান/পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাবে।
- শর্ত: যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা এবং মাতা উভয়েই করদাতা হন, তবে যেকোনো একজন (পিতা অথবা মাতা) এই বিশেষ সুবিধাটি ভোগ করতে পারবেন।
সাধারন জিজ্ঞাসা
১. ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ করমুক্ত আয়ের সীমা কত?
২০২৬-২০২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই আয়ের নিচে কাউকে কোনো আয়কর দিতে হবে না।
২. ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের জন্য কি কোনো আয়কর সুবিধা আছে?
হ্যাঁ, নতুন আইন অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. স্বামী-স্ত্রী উভয়েই করদাতা হলে প্রতিবন্ধী সন্তানের সুবিধা কে পাবেন?
যদি কোনো প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতামাতা উভয়েই টিআইএন (TIN) ধারী করদাতা হন, তবে তাদের মধ্যে যেকোনো একজন তাদের করমুক্ত আয়ের সীমার সাথে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা সুবিধা যোগ করতে পারবেন।
৪. অনিবাসী বাংলাদেশিদের (প্রবাসীদের) জন্য কি আলাদা কোনো করহার আছে?
না, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী অনিবাসী বাংলাদেশিসহ সকল স্বাভাবিক ব্যক্তির জন্য একই করহার এবং স্ল্যাব প্রযোজ্য হবে।
আপডেট তারিখ: ১১ জুন, ২০২৬
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, তফসিল-২ (ধারা ১৫৯ দ্রষ্টব্য), আয়কর আইন ২০২৩।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।