সরকারি কর্মচারী ও নাগরিকদের জন্য বিধি, অফিস আদেশ, পে-স্কেল, পেনশন ও চাকরিসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য

BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

সহকারী ও প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড: স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ থেকেই ৬ বছর গণনা

ভূমিকা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি ছিল। প্রশ্নটি ছিল, ৬ বছরের সময় গণনা শুরু হবে প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার তারিখ থেকে, নাকি স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ থেকে। এই বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার ১৭/০৯/২০২৬ তারিখে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কাছে মতামত চান। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় জবাব দিয়েছে বলে প্রদত্ত লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পটভূমি

প্রধান শিক্ষক: ০৯/০৩/২০১৪ তারিখে পদের স্কেল উন্নীত হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারিত হয়। যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা ওই তারিখের আগে একটি টাইম স্কেল পেয়েছিলেন, তাঁদের মূল বেতন এক গ্রেড উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়।

সহকারী শিক্ষক: ০৯/০৩/২০১৪ তারিখে স্কেল উন্নীত হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ১৪তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১৫তম গ্রেড পান। পরে ০৯/০২/২০২০ তারিখে আবার উন্নীত করে উভয় ক্ষেত্রেই ১৩তম গ্রেড করা হয়। যাঁরা আগে একটি টাইম স্কেল পেয়েছিলেন, তাঁদের বেতন প্রথমে ১৩তম এবং পরে ১২তম গ্রেডে নির্ধারিত হয়।

বিভ্রান্তির কারণ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২১/০৯/২০১৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল (টাইম স্কেল) বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে, তা পাওয়ার ৬ বছর পূর্তির পর ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। স্কেল উন্নীতকরণের পর দুটি প্রশ্ন দেখা দেয়:

  • ৬ বছরের হিসাব প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার তারিখ থেকে হবে, নাকি স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ থেকে?
  • দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড হিসেবে কোন গ্রেড প্রাপ্য হবে?

এ কারণে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ব্যাখ্যা

অর্থ বিভাগের ২০/০৮/২০২৫ তারিখের ১৫৭ নং ও ০৯/০৮/২০২১ তারিখের ৬০ নং স্মারক এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ০৫/০৩/২০২৪ তারিখের ৩৮ নং স্মারকের বর্ণনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

পদ স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ ৬ বছর পূর্তির পর ৭ম বছর প্রস্তাবিত প্রাপ্য গ্রেড
প্রধান শিক্ষক ০৯/০৩/২০১৪ ০৯/০৩/২০২০ ৯ম গ্রেড
সহকারী শিক্ষক ০৯/০২/২০২০ ০৯/০২/২০২৬ ১১তম গ্রেড

এই ব্যাখ্যা কার্যকর করার আগে মন্ত্রণালয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের মতামত চেয়েছে বলে প্রদত্ত লেখায় উল্লেখ রয়েছে।

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের জবাব

প্রদত্ত লেখার বর্ণনা অনুযায়ী, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (উপ হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, পেনশন কর্তৃক স্বাক্ষরিত) জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৯/০৭/২০২৬ তারিখের স্মারকের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উন্নীতকরণের তারিখ থেকেই সময় গণনা করতে হবে। অর্থাৎ প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার তারিখের পরিবর্তে স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ ধরে ৬ বছরের হিসাব করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: চিঠির সংশ্লিষ্ট বাক্যে “দশ বছর” কথাটিও রয়েছে বলে প্রদত্ত লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ছবির লেখা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই চিঠির মূল কপি ও সর্বশেষ প্রযোজ্য সরকারি আদেশ যাচাই না করে এই অংশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

চিঠিটি জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস ও অন্যান্য দপ্তরে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বলে বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য এর অর্থ

  • স্কেল উন্নীতকরণের আগে একটি টাইম স্কেল পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সময় গণনা উন্নীতকরণের তারিখ ধরে হতে পারে—তবে ব্যক্তিগত চাকরির রেকর্ড ও প্রযোজ্য আদেশ যাচাই করা জরুরি।
  • সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী ০৯/০২/২০২০ তারিখ থেকে ৬ বছর পূর্ণ হওয়ায় ২০২৬ সালে প্রাপ্যতার প্রশ্ন এসেছে।
  • নিজ নিজ উপজেলা শিক্ষা অফিস বা হিসাবরক্ষণ অফিসে আবেদন করে বেতন পুনর্নির্ধারণ ও প্রাপ্যতা যাচাই করা ভালো।

উপসংহার

প্রদত্ত চিঠির বর্ণনা অনুযায়ী, স্কেল উন্নীতকরণের তারিখ থেকে সময় গণনার ব্যাখ্যা দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বিভ্রান্তি নিরসনে সহায়ক হতে পারে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল চিঠি, সর্বশেষ আদেশ এবং ব্যক্তিগত চাকরির রেকর্ড মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

সম্পাদকীয় নোট: প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট স্মারক ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের মূল চিঠির তারিখ, বক্তব্য এবং প্রাপ্য গ্রেড যাচাই করুন।

Leave a Comment