আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি ২০২৬

আপনি কি ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিলেন? আপনার জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ব্যক্তিগত পর্যায়ের করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।

এক নজরে নতুন সময়সীমা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা (Individual) এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পরিবর্তে বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, করদাতারা আরও এক মাস অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন কোনো জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য।

এনবিআর-এর নতুন আদেশে যা বলা হয়েছে

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মূলত করদাতাদের সুবিধার্থে এবং রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই আদেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য এই বর্ধিত সময় কার্যকর হবে।

কারা এই সুবিধা পাবেন?

এই সময়সীমা বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন মূলত:

  • স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা (Individual): সাধারণ পেশাজীবী, চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী।
  • হিন্দু অবিভক্ত পরিবার: যারা পারিবারিক সূত্রে কর প্রদান করেন।

সময় বাড়লেও কেন দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়া জরুরি?

যদিও সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, তবুও শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এর কিছু বাস্তব সুবিধা হলো:

  1. সার্ভার জটিলতা এড়ানো: শেষ কয়েকদিনে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে গেলে অনেক সময় সার্ভার স্লো হয়ে যায়।
  2. ভুল সংশোধনের সুযোগ: আগে জমা দিলে কোনো তথ্য ভুল হলে তা যাচাই ও সংশোধনের পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
  3. ব্যাংকিং ঝামেলা: করের টাকা জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোতে শেষ সময়ে দীর্ঘ লাইন থাকে।

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সহজ ধাপ

আপনি যদি ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • ধাপ ১: এনবিআর-এর অফিসিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) লগইন করুন।
  • ধাপ ২: আপনার টিআইএন (TIN) এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
  • ধাপ ৩: আপনার আয়ের উৎস (যেমন: বেতন, বাড়ি ভাড়া বা ব্যবসা) অনুযায়ী তথ্য প্রদান করুন।
  • ধাপ ৪: রেয়াত বা কর ছাড়ের জন্য জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র বা ডিপিএস-এর তথ্য যুক্ত করুন।
  • ধাপ ৫: সমস্ত তথ্য যাচাই করে ‘Submit Return’ বাটনে ক্লিক করুন এবং প্রাপ্তি স্বীকার পত্র (Acknowledgement Slip) ডাউনলোড করে রাখুন।

শেষকথা

সরকারের এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। তবে জরিমানা বা আইনি জটিলতা এড়াতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যেই আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করুন। নিয়মিত কর প্রদান করে দেশের উন্নয়নে অংশ নিন।

তথ্যসূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), বাংলাদেশ।

ডিসক্লেইমার: এই নিবন্ধটি কেবলমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। আয়কর সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে অভিজ্ঞ ট্যাক্স ল ইয়ার বা পেশাদার কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।

Leave a Comment