উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী, সরকার এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে বা জনস্বার্থে যে কোনো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের অপসারণ করতে পারবে । একই সাথে, পরিষদের প্রশাসনিক কার্যাবলি সচল রাখার জন্য সরকার উপযুক্ত কর্মকর্তাকে ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে এবং তাঁকে সহায়তার জন্য একটি কমিটিও গঠন করতে পারবে । এছাড়া আইনে নারী অধিকার ও সম্মানের অংশ হিসেবে ‘মহিলা’ শব্দের বদলে ‘নারী’ শব্দের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে ।
সংশোধিত আইনের পটভূমি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত এই আইনটি ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বা ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে । এটি মূলত উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ (১৯৯৮ সনের ২৪ নং আইন)-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত হয়েছে । গেজেট প্রকাশের সাথে সাথেই এই আইনটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে ।
আইনে আসা মূল পরিবর্তনসমূহ
নতুন সংশোধনীতে প্রশাসনিক কাঠামো এবং পদবিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে মূল পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হলো:
- পদবিতে ভাষাগত পরিবর্তন: মূল আইনের সর্বত্র উল্লিখিত “মহিলা”, “মহিলাদের” ও “মহিলাকে” শব্দগুলোর পরিবর্তে যথাক্রমে “নারী”, “নারীদের” ও “নারীকে” শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ।
- ধারা বিলুপ্তি: আইনের ধারা ২-এর দফা (ডড) এবং দফা (ণ) সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হয়েছে । পাশাপাশি আইনের ধারা ১৬ক এবং ধারা ২০-এর উপ-ধারা (২) এর দফা (গগ) বাতিল করা হয়েছে ।
- পূর্ববর্তী অধ্যাদেশ বাতিল: উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ (৩ নং অধ্যাদেশ) এবং পূর্ববর্তী বছরের আরেকটি অধ্যাদেশ (৪৯ নং অধ্যাদেশ) রহিত করা হয়েছে । তবে এই রহিতকরণের আগে ওই অধ্যাদেশগুলোর অধীনে নেওয়া সকল ব্যবস্থা বা কাজ বৈধ বলে গণ্য হবে ।
চেয়ারম্যান ও সদস্য অপসারণ (নতুন ধারা ১৩ঘ)
আইনে একটি নতুন ধারা ‘১৩ঘ’ যুক্ত করা হয়েছে । এই ধারার ফলে সরকারের হাতে বিশেষ ক্ষমতা অর্পিত হয়েছে:
- অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, সরকার অত্যাবশ্যক বিবেচনা করলে বা জনস্বার্থে পদক্ষেপ নিতে পারবে ।
- এই ক্ষমতার অধীনে যে কোনো বা সকল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান বা অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যাবে ।
প্রশাসক ও কমিটি নিয়োগের বিধান (নতুন ধারা ১৩ঙ)
উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম যেন কোনো অবস্থাতেই স্থবির না হয়, সেজন্য নতুন ধারা ‘১৩ঙ’ সন্নিবেশিত হয়েছে ।
- প্রশাসক নিয়োগ: সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে । পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন ।
- সহায়ক কমিটি: প্রশাসকের কাজকে সহজ ও গতিশীল করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিতে পারবে ।
- ক্ষমতা প্রয়োগ: নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং গঠিত কমিটির সদস্যরা পরিষদের সাধারণ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করবেন ।
শব্দগত পরিবর্তনের তুলনামূলক তালিকা
| পূর্ববর্তী শব্দ (১৯৯৮ সালের আইন) | সংশোধিত শব্দ (২০২৬ সালের আইন) |
| মহিলা | নারী |
| মহিলাদের | নারীদের |
| মহিলাকে | নারীকে |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
সরকার কি চাইলেই উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত বা অপসারণ করতে পারে?
হ্যাঁ, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর নতুন ধারা ১৩ঘ অনুযায়ী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে বা জনস্বার্থে অত্যাবশ্যক মনে করলে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা সদস্যদের অপসারণ করতে পারে ।
উপজেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের নিয়ম কী?
নতুন ধারা ১৩ঙ অনুযায়ী, সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত উপযুক্ত কর্মকর্তাকে বা উপযুক্ত ব্যক্তিকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে ।
প্রশাসকের কাজ কী হবে এবং তাঁকে কে সাহায্য করবে?
প্রশাসক মূলত উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন । তাঁর কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকার একটি সদস্য সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দিতে পারবে, যারা সাধারণ সদস্যদের মতো দায়িত্ব পালন করবেন ।
নারী ভাইস চেয়ারম্যানদের পদবিতে কী পরিবর্তন এসেছে?
সংশোধিত আইনে “মহিলা” শব্দের ব্যবহার বাতিল করে “নারী” শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে । তাই দাপ্তরিকভাবে “মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান”-এর পরিবর্তে এখন “নারী ভাইস চেয়ারম্যান” ব্যবহৃত হবে।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।