পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার উপায় ২০২৬

আমরা যখন নতুন মিটারের জন্য আবেদন করি তারপর অনেকেরই মূল চিন্তা থাকে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে বা সংযোগ পেতে আর কতদিন সময় লাগবে? এখন আর অফিসে দৌড়াদৌড়ি না করে ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আপনার আবেদনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস বা অবস্থা জেনে নিতে পারেন।

কীভাবে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করবেন?

পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে প্রথমে rebpbs.com ওয়েবসাইটে যান। মেনু থেকে “আবেদন” ট্যাবে গিয়ে “আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানুন” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার আবেদনের সময় প্রাপ্ত ট্র্যাকিং নম্বর এবং পিন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই আপনার ফাইলটি ১০টি ধাপের কোনটিতে আছে তা দেখতে পাবেন।

অনলাইনে আবেদনের অবস্থা জানার উপায়

ভিডিও নির্দেশিকা এবং অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী আপনি নিচের পদ্ধতিতে আপনার ফাইলের অগ্রগতি দেখতে পারেন:

  1. ওয়েবসাইটে প্রবেশ: আপনার ব্রাউজার থেকে [http://www.rebpbs.com/UI/OfficeAutomation/Monitoring/ConsumerManagement/frmApplicationStatusPublic.aspx] লিংকে প্রবেশ করুন।
  2. সঠিক মেনু নির্বাচন: হোমপেজের উপরের মেনু বার থেকে ‘আবেদন’ অপশনে মাউস রাখলে বা ক্লিক করলে একটি ড্রপডাউন আসবে। সেখান থেকে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানুন’ সিলেক্ট করুন।
  3. তথ্য প্রদান: এখানে আপনার নির্দিষ্ট Tracking Number এবং PIN Number টাইপ করুন। (এই নম্বরগুলো আপনি প্রাথমিক আবেদন শেষে এসএমএসের মাধ্যমে পেয়েছেন)।
  4. ফলাফল দেখা: ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ড্যাশবোর্ড আসবে যেখানে সংযোগ পাওয়ার ১০টি ধাপের বর্তমান পর্যায় লাল বা সবুজ রঙে চিহ্নিত থাকবে।

মিটার সংযোগ পাওয়ার ১০টি অফিশিয়াল ধাপ

একটি নতুন সংযোগ পেতে হলে সাধারণত নিচের ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হতে হয়। আপনার আবেদনে এগুলো দেখতে পাবেন:

  1. আবেদন জমা: অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন।
  2. হাউজ ওয়্যারিং: আপনার ঘরের ওয়্যারিং সম্পন্ন করে নিশ্চিত করা।
  3. প্রাথমিক অনুমোদন: মেম্বার সার্ভিস কর্তৃক ফাইল যাচাই।
  4. পরিদর্শক নিয়োগ: ওয়্যারিং চেক করার জন্য অফিসার নিয়োগ।
  5. সফল পরিদর্শন: পরিদর্শক কর্তৃক সরেজমিনে তদন্ত।
  6. ডিমান্ড নোট ইস্যু: কত টাকা জমা দিতে হবে তার এসএমএস প্রাপ্তি।
  7. টাকা জমা: ব্যাংক বা অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট।
  8. মিটার বরাদ্দ: ল্যাবে পরীক্ষা শেষে মিটার প্রস্তুত করা।
  9. লাইনম্যান নিয়োগ: সংযোগ দেওয়ার জন্য টেকনিশিয়ান পাঠানো।
  10. চূড়ান্ত সংযোগ: আপনার বাড়িতে মিটার স্থাপন।

আবেদন কনফার্ম করার পর আপনার করণীয়

অনলাইনে আবেদন কনফার্ম করার পর আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস আসবে। এর পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে নিচের ডকুমেন্টগুলোর সত্যায়িত কপি সরাসরি বা ডাকযোগে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিতে হবে:

  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি।
  • জমির মালিকানা দলিলের সত্যায়িত কপি।
  • বাড়ির অনুমোদিত নকশা (নক্সা) এবং হোল্ডিং নম্বরের কপি।
  • বৈধ লাইসেন্সধারী ইলেকট্রিশিয়ান কর্তৃক ইন্সটলেশন টেস্ট সার্টিফিকেট
  • শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং সোলার প্যানেলের সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

কেন আবেদন বাতিল হতে পারে?

যদি স্ট্যাটাসে আপনার আবেদনটি ‘বাতিল’ (Rejected) দেখায়, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। রেজাল্ট পেইজের ‘মন্তব্যের ঘর’ (Comments Box) চেক করুন। সেখানে বাতিল হওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে লেখা থাকে। যেমন: খুঁটি থেকে আপনার বাড়ির দূরত্ব ১০০ ফুটের বেশি হওয়া অথবা দলিলে ভুল থাকা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. আমি পিন নম্বর বা ট্র্যাকিং নম্বর ভুলে গেলে কী করব?

আবেদন পোর্টালেই “ট্র্যাকিং বা পিন ভুলে গেছেন” অপশন আছে। সেখানে আপনার এনআইডি ও ফোন নম্বর দিয়ে পুনরায় তথ্যগুলো ফিরে পেতে পারেন।

২. ডিমান্ড নোটের টাকা জমার কতদিন পর মিটার পাওয়া যায়?

টাকা জমা দেওয়ার পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিটার স্থাপন করা হয়। তবে লাইনম্যানের ব্যস্ততা বা এলাকাভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে।

৩. সার্ভিস লাইনের দৈর্ঘ্য কতটুকু হতে হয়?

পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী সার্ভিস লাইনের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১০০ ফুটের মধ্যে থাকতে হয়।

আমাদের পরামর্শ

আবেদন কনফার্ম করার আগে আপনার দেওয়া তথ্যগুলো ভালো করে যাচাই করে নিন। একবার কনফার্ম বাটনে ক্লিক করলে তা আর সংশোধন করা যায় না। আর প্রতিটি ধাপের পর মোবাইলে আসা এসএমএসগুলো গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করুন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (BREB)

Leave a Comment