সরকারি কর্মচারী ও নাগরিকদের জন্য বিধি, অফিস আদেশ, পে-স্কেল, পেনশন ও চাকরিসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য

BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

রোজা রাখার নিয়ত (আরবি ও বাংলায়)

রোজা রাখার নিয়ত হলো মনের দৃঢ় সংকল্প যে, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখবেন। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয় (তবে মুস্তাহাব বা উত্তম)। শুধু মনে মনে নিয়ত করলেও রোজা সম্পূর্ণ শুদ্ধ হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রমজানের রোজার নিয়ত রাতের বেলা (সেহরির সময় বা সুবহে সাদিকের আগে) করাই সর্বোত্তম। প্রতিদিনের রোজার জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করতে হবে।

কোরআন, সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য স্কলারদের ফতোয়া যাচাই করে ২০২৬ সালের জন্য এই আর্টিকেলে আমরা সব প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর সাজিয়েছি।

রোজার নিয়ত কেন জরুরি?

ইসলামে যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত। হাদিস শরিফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে —

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই সকল আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১)

রোজার ক্ষেত্রেও নিয়ত ছাড়া সারাদিন না-খেয়ে থাকলে তা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে রোজা হিসেবে গণ্য হবে না। তাই রোজা রাখার আগে অবশ্যই নিয়ত করা ফরজ।

রমজান মাসের রোজার নিয়ত (আরবি ও বাংলায়)

রমজানের ফরজ রোজার জন্য আমাদের উপমহাদেশে আলেমগণ নিচের বাক্যটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা পড়া মুস্তাহাব:

আরবিতে নিয়ত:

نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রামাদ্বানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব, তুমি আমার পক্ষ থেকে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

💡 গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই নির্দিষ্ট আরবি দোয়াটি সরাসরি কোনো হাদিসে আসেনি। এটি সহজে মনের সংকল্প প্রকাশের জন্য শেখানো হয়। আপনি যদি মাতৃভাষা বাংলায় শুধু মনে মনে বলেন, “হে আল্লাহ, আমি আজকের রমজানের ফরজ রোজা রাখব”— তবে আপনার রোজা ১০০% শুদ্ধ হয়ে যাবে।

রোজার নিয়ত কখন করতে হয়?

রমজানের ফরজ রোজার নিয়তের সময়সীমা সম্পর্কে মাজহাব অনুযায়ী কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন।

মাজহাবনিয়তের সময়সীমাবিস্তারিত বিধান
হানাফিরাত থেকে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্তসুবহে সাদিকের আগে (রাতে) নিয়ত উত্তম। তবে ভুলে গেলে পরদিন শরিয়তি দ্বিপ্রহরের (দাহওয়ায়ে কুবরা) আগ পর্যন্ত করা যায় (যদি কিছু না খেয়ে থাকেন)।
শাফেয়ি ও হাম্বলিরাতের মধ্যেইঅবশ্যই সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা শর্ত।
মালেকিমাসের শুরুতে একবারপুরো মাসের নিয়ত একসাথে করা যায়, তবে প্রতিদিন আলাদা করাও জায়েজ।

সেহরির সাথে কি নিয়ত হয়ে যায়?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণভাবে হয়ে যায়। যদি কোনো ব্যক্তি ভোরে শুধু রোজা রাখার উদ্দেশ্যেই ঘুম থেকে উঠে সেহরি খান, তবে সেটিই তার রোজার নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ সেহরি খাওয়াটাই তার মনের সংকল্পের (নিয়তের) বাস্তব প্রমাণ।

নফল ও কাজা রোজার নিয়ত কীভাবে করবেন?

নফল রোজা: নফল (ঐচ্ছিক) রোজার নিয়ত দিনের বেলাতেও করা যায় (শরিয়তি দ্বিপ্রহরের আগে), যদি সকাল থেকে কিছু পানাহার না করে থাকেন। মনে মনে বললেই হবে, “আমি আজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নফল রোজা রাখছি।”

কাজা রোজা: রমজানের ছুটে যাওয়া রোজার কাজা আদায় করতে হলে অবশ্যই রাতের বেলা (সুবহে সাদিকের আগে) নির্দিষ্ট করে নিয়তে “কাজা” শব্দটি উল্লেখ করতে হবে। যেমন: “আমি আল্লাহর জন্য রমজানের কাজা রোজা রাখার নিয়ত করলাম।”

ইফতারের নিয়ত ও দোয়া

সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত। ইফতারের সময় নিচের দোয়াটি পড়া উত্তম:

اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়েই ইফতার করলাম। (আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৮)

নিয়ত করার সঠিক নিয়ম

  1. রাতের বেলা বা সেহরির সময় মনে মনে স্থির করুন যে আগামীকাল আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ফরজ রোজা রাখবেন।
  2. মুখে উচ্চারণ করুন (ঐচ্ছিক)— আরবিতে বা নিজের মাতৃভাষা বাংলায় আল্লাহর কাছে সংকল্প ব্যক্ত করুন।
  3. সুবহে সাদিকের আগেই সেহরি খাওয়া শেষ করুন।
  4. সারাদিন পানাহার, পাপাচার ও রোজাভঙ্গকারী কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

🙋 সচরাচর জিজ্ঞাসা

রোজার নিয়ত কি আরবিতে পড়া বাধ্যতামূলক?

না। নিয়ত অর্থ মনের ইচ্ছা বা সংকল্প। আরবি, বাংলা, ইংরেজি বা যেকোনো ভাষায় নিয়ত করলেই রোজা শুদ্ধ হবে। মুখে কোনো দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়।

ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেললে কি রোজা ভেঙে যাবে?

না। হাদিস অনুযায়ী, রোজাদার যদি ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথেই খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। (সহিহ বুখারি: ১৯৩৩)

পুরো রমজান মাসের নিয়ত কি একসাথে করা যায়?

হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী, রমজানের প্রতিটি রোজা আলাদা ইবাদত। তাই প্রতিদিনের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করা আবশ্যক। রাতে সেহরির জন্য ওঠাই এই নিয়তের অংশ।

সেহরি না খেতে পারলে কি রোজা হবে?

হ্যাঁ। সেহরি খাওয়া একটি বরকতময় সুন্নাহ, তবে ফরজ নয়। কেউ যদি ঘুম থেকে উঠতে না পারেন এবং সেহরি না খান, তবে সকালে উঠে নিয়ত করে নিলেও রোজা শুদ্ধ হবে (শর্ত হলো এর মাঝে কিছু খাওয়া যাবে না)।

সফর অবস্থায় বা ভ্রমণের সময় রোজার বিধান কী?

শরিয়তসম্মত সফরে থাকলে রোজা রাখা বা না রাখা উভয়টিরই অনুমতি আছে। তবে না রাখলে পরবর্তীতে তা অবশ্যই ‘কাজা’ আদায় করে নিতে হবে। কষ্ট না হলে সফরে রোজা রাখাই উত্তম।

📚 বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন মাসআলায় মাজহাবভেদে কিছু ভিন্নতা থাকতে পারে। আপনার ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার জন্য স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

📖 তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

  • সহিহ আল-বুখারি (হাদিস নং ১, ১৯৩৩)
  • সহিহ মুসলিম (হাদিস নং ১১৫৫)
  • সুনান আবু দাউদ (হাদিস নং ২৩৫৮)
  • আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু — ড. ওয়াহবাহ আল-যুহায়লি
  • ফতোয়া ও মাসআলা বিভাগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)

Leave a Comment

Share with