সরকারি চাকরিতে সাঁটলিপিকার ও সমমানের পদ একীভূতকরণ

তথ্য প্রযুক্তির আধুনিকায়নের কারণে সরকারি দপ্তরে “সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর” এবং “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদগুলোকে একীভূত (Merge) করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য রেকর্ড করার সুবিধা থাকায় সাঁটলিপির জন্য আলাদা পদের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। তাই ১৩তম ও ১৬তম গ্রেডের এই পদগুলোকে অন্যান্য পদের সাথে একীভূত করে নতুন নামকরণ এবং পদোন্নতির নতুন বিধান তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে বর্তমানে কর্মরতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

কেন সাঁটলিপিকার ও সমমানের পদগুলো একীভূত করা হচ্ছে?

বর্তমান সময়ে সরকারি কাজে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে মিটিং বা সভার বক্তব্য দ্রুত লিখে রাখার জন্য সাঁটলিপি (Shorthand) জানা কর্মীর প্রয়োজন হতো। কিন্তু বর্তমানে উন্নত ভয়েস রেকর্ডার এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই বক্তব্য রেকর্ড ও ট্রান্সক্রাইব করা যায়।

লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী:

  • প্রযুক্তির সুবিধা: ডিজিটাল রেকর্ডিং সিস্টেমের কারণে ম্যানুয়াল সাঁটলিপির ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে।
  • পদের প্রাসঙ্গিকতা: আলাদাভাবে সাঁটলিপি পদের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় একে অন্য পদের সাথে একীভূত করা যুক্তিযুক্ত।
  • কাজের গতিশীলতা: পদগুলো একীভূত হলে প্রশাসনিক কাজে আরও গতি আসবে এবং আধুনিক সাংগঠনিক কাঠামোর সাথে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

যেসব পদ ও গ্রেড একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছে

সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন গ্রেডের পদগুলোকে আরও সুসংগঠিত করতে নিচের পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:

১. ১৩তম গ্রেডের পদসমূহ একীভূতকরণ:

সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (১৩তম গ্রেড) পদগুলোকে একটি পদে একীভূত করা হতে পারে। যেহেতু এই পদে নিয়োগের যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি, তাই সচিবালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর সাথে মিল রেখে একে “প্রশাসনিক কর্মকর্তা” বা সমমানের পদের সাথে একীভূত করার কথা বলা হয়েছে।

২. ১৬তম গ্রেডের পদসমূহ একীভূতকরণ:

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর (১৬তম গ্রেড) পদগুলোকেও একত্রে মার্জ করে একটি একক পদ তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কর্মচারীদের পদোন্নতি এবং বর্তমান অবস্থা

অনেক চাকরিজীবীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, পদ একীভূত হলে তাদের পদোন্নতি বা বর্তমান চাকরির কী হবে। প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  • পদোন্নতির নতুন সুযোগ: ভিন্ন ভিন্ন গ্রেড থেকে একই পদে পদোন্নতির বিধান না রেখে, সরাসরি ১৩তম গ্রেড থেকে ১০তম গ্রেডে (বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপে) পদোন্নতির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • কর্মরতদের সুরক্ষা: যারা বর্তমানে এই পদগুলোতে কর্মরত আছেন, পদ একীভূত হলেও তাদের চাকরির পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করা হবে। কারও চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা ক্ষুণ্ন হবে না।

সাধারণ জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১: সরকারি চাকরিতে সাঁটলিপিকার পদের ভবিষ্যৎ কী?

উত্তর: প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সাঁটলিপির ব্যবহার কমে যাওয়ায় এই পদটিকে আলাদা না রেখে অন্যান্য কম্পিউটার অপারেটর বা প্রশাসনিক পদের সাথে একীভূত (Merge) করা হচ্ছে।

প্রশ্ন ২: ১৩তম গ্রেডের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিকদের কী প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হবে?

উত্তর: প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু এই পদের যোগ্যতা স্নাতক পাস, তাই সচিবালয় নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী একে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের যোগ্যতার সাথে একীভূত করা বা নতুন নামকরণ করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ৩: ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কী হবে?

উত্তর: এই সমমানের (১৬তম গ্রেড) পদগুলোকে একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট পদের আওতায় আনা হবে, যাতে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা সহজ হয়।

প্রশ্ন ৪: বর্তমানে যারা সাঁটলিপিকার হিসেবে কর্মরত, তাদের চাকরি কি চলে যাবে?

উত্তর: একদমই না। সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে যারা কর্মরত আছেন, নতুন কাঠামো তৈরি হলেও তাদের চাকরির শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

প্রশ্ন ৫: ১৩তম গ্রেড থেকে কততম গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়া যাবে?

উত্তর: নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি ১০তম গ্রেডে বা পরবর্তী উচ্চতর ধাপে পদোন্নতির বিধান রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Comment