জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (পাস ও সম্মান) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের “Comprehensive English” বা সমন্বিত ইংরেজি কোর্সটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২য় বর্ষের সকল শিক্ষার্থীকে আবশ্যিক কোর্স হিসেবে এটি অধ্যয়ন করতে হবে।
আপনি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস ও সম্মান) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তবে এই নতুন আপডেটটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এই প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত তথ্য, সিলেবাসের ধরন এবং শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে সহজ ও পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা হলো।
এক নজরে প্রজ্ঞাপনের মূল তথ্য
শিক্ষার্থীদের দ্রুত তথ্য পাওয়ার সুবিধার্থে প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়গুলো নিচে পয়েন্ট আকারে দেওয়া হলো:
- কোর্সের নাম: Comprehensive English (সমন্বিত ইংরেজি)
- কোর্সের ধরন: বাধ্যতামূলক (Compulsory)
- ক্রেডিট সংখ্যা: ৪ ক্রেডিট
- যাদের জন্য প্রযোজ্য: স্নাতক (পাস ও সম্মান) ২য় বর্ষের সকল শিক্ষার্থী
- কার্যকরী শিক্ষাবর্ষ: ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে
- প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ: ২০ এপ্রিল, ২০২৬
প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত বিবরণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের (স্মারক নম্বর: ৩৩(৫৮)জাতীঃবিঃ/কারিঃউঃমূঃ/২০১৫/পার্ট-৩/১৭৫৩) প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আগে অনেক বিভাগে ইংরেজি কোর্সটি ঐচ্ছিক বা ভিন্ন কাঠামোতে থাকলেও, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক ২য় বর্ষের সকল শিক্ষার্থীকে (পাস কোর্স এবং অনার্স) এই ৪ ক্রেডিটের “Comprehensive English” কোর্সটি আবশ্যিকভাবে পড়তে হবে। এটি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা, লেখা ও পড়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
কেন “Comprehensive English” কোর্সটি গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ইংরেজি যুক্ত করার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উপকারী:
- কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি: বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে, বিশেষ করে বিসিএস বা অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ইংরেজি দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।
- যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন: পেশাগত জীবনে সাবলীলভাবে যোগাযোগ করার জন্য বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড ইংরেজি জানা অপরিহার্য।
- উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি: যারা ভবিষ্যতে দেশের বাইরে বা দেশের ভেতরেই স্নাতকোত্তর ও গবেষণামূলক কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই কোর্সটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
- ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট জব: ডিজিটাল যুগে ফ্রিল্যান্সিং বা গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা সরাসরি আয়ের সাথে সম্পর্কিত।
শিক্ষার্থীদের এখন কী করণীয়?
আপনি যদি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হন, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- ধাপ ১: আপনার নিজ কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান বা নোটিশ বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে সিলেবাসের কপি সংগ্রহ করুন।
- ধাপ ২: ৪ ক্রেডিটের কোর্স হওয়ায় এটি আপনার সিজিপিএ (CGPA) বা রেজাল্টে বড় প্রভাব ফেলবে। তাই শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিন।
- ধাপ ৩: বেসিক গ্রামার, রিডিং কম্প্রিহেনশন এবং ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং প্র্যাকটিস শুরু করুন।
- ধাপ ৪: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত বই বা রেফারেন্স ম্যাটেরিয়ালগুলো সংগ্রহ করে নিয়মিত অধ্যয়ন করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (পাস ও সম্মান) ২য় বর্ষের সকল শিক্ষার্থীর জন্য ৪ ক্রেডিটের “Comprehensive English” কোর্সটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. Comprehensive English কোর্সটি কত ক্রেডিটের?
এই নতুন বাধ্যতামূলক কোর্সটি সর্বমোট ৪ ক্রেডিটের।
৩. এই নিয়ম কোন বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য?
এটি মূলত স্নাতক বা অনার্স এবং ডিগ্রি পাস কোর্সের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
৪. পুরাতন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কি এই কোর্সটি করতে হবে?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এটি স্পষ্টভাবে “২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ হতে” কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। তাই পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব পুরনো সিলেবাসই কার্যকর থাকার কথা। তবে নিশ্চিত হতে নিজ কলেজে যোগাযোগ করা শ্রেয়।
৫. Comprehensive English কোর্সের সিলেবাস কোথায় পাবো?
খুব শিগগিরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (nu.ac.bd) বিস্তারিত সিলেবাস প্রকাশ করা হবে। এছাড়া আপনি আপনার কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।