সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
কাউকে দেওয়া চেক ব্যাংক থেকে ফেরত এলে বা নিজের দেওয়া চেক ডিজঅনার হলে সময়সীমা ও নিয়ম না জানলে মামলা নষ্ট হতে পারে। বাংলাদেশে এ বিষয়ে প্রধান আইন হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instruments Act)-এর ১৩৮ ধারা। নিচে প্রকাশিত আইনি প্রতিবেদন ও সর্বশেষ রায়ের ভিত্তিতে ধাপগুলো দিলাম।
তিন ধাপ ও তিন সময়সীমা
| ধাপ | কী করতে হয় | সময়সীমা |
|---|---|---|
| ১. নোটিশ | চেক ডিজঅনারের খবর পাওয়ার পর চেকদাতাকে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ | ব্যাংকের ফেরতের তারিখ বা খবর পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে |
| ২. পরিশোধের সুযোগ | নোটিশ পেয়ে চেকদাতা টাকা পরিশোধ করতে পারেন | নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে |
| ৩. মামলা | পরিশোধ না হলে এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা | পরিশোধের সময় শেষের পর ৩০ দিনের মধ্যে |
এই সময়সীমা পালন না হলে মামলা আইনত টেকে না, তাই তারিখগুলো লিখে রাখুন।
শাস্তি
আজকের পত্রিকাসহ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকে উল্লেখ করা অর্থের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। কারাদণ্ড ও জরিমানা দুটিই হতে পারে। প্রতিবেদনের তারিখ কিছুটা আগের, তাই সংশোধনী আছে কি না আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।
কোথায় মামলা হয়
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এর পর বিচারের জন্য মামলা দায়রা আদালতে যেতে পারে। যুগ্ম দায়রা জজের রায়ে আপিল করতে হয় রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে।
২০২৬ সালের হালনাগাদ: ডিসঅনার স্লিপ না থাকলে কী হবে
অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী হাইকোর্ট এক মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, ব্যাংকের ডিসঅনার স্লিপ আদালতে উপস্থাপন না করলেই মামলা ব্যর্থ হয় না। ১৩৮ ধারার মামলায় চেক প্রত্যাখ্যানের ঘটনা অন্য গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যে প্রমাণ হলে কেবল স্লিপের অনুপস্থিতি খালাসের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। ওই মামলায় ২৫ লাখ টাকার চেকে খালাস বাতিল করে আসামিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট মামলার রায়, সব মামলায় এভাবে হবে এমন নয়।
যা মনে রাখবেন
- চেক দেওয়ার আগে অ্যাকাউন্টে টাকা আছে কি না নিশ্চিত করুন।
- চেকে কাটাকাটি থাকলে পূর্ণ স্বাক্ষর দিয়ে সত্যায়িত করুন, নইলে সমস্যা হতে পারে।
- ব্যাংকের ফেরত স্লিপ (ডিসঅনার স্লিপ) ও নোটিশের ডাকরসিদ সংরক্ষণ করুন।
- আদালতের বাইরে সমঝোতা করা যায়। টাকা পরিশোধ হলে মামলা মেটানোর পথ থাকে।
- নির্দিষ্ট মামলায় অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
প্রশ্নোত্তর
চেক ডিজঅনার হলে কত দিনের মধ্যে নোটিশ দিতে হয়?
প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংক থেকে ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে।
চেক ডিজঅনারের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
প্রতিবেদন অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকের অর্থের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা।
ডিসঅনার স্লিপ হারিয়ে গেলে মামলা কি শেষ?
২০২৬ সালের একটি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী অন্য গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যে চেক প্রত্যাখ্যান প্রমাণ হলে মামলা ব্যর্থ হয় না, তবে স্লিপ রাখাই নিরাপদ।
দায়মুক্তি: এটি আইনি পরামর্শ নয়। তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন ও আইনের সারসংক্ষেপ। সময়সীমা ও শাস্তি আইন ও আদালতের রায়ে বদলাতে পারে, তাই মামলার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।
